IQNA

জামায়াত নেতা নিজামীর ফাঁসির রায় বহাল

11:17 - January 08, 2016
সংবাদ: 2600064
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বাংলাদেশের স্বাধীনতাযুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াতের আমীর মতিউর রহমান নিজামীর ফাঁসির আদেশ বহাল রেখেছে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ।

বার্তা সংস্থা ইকনা: হত্যা,গণহত্যার অভিযোগের পাশাপাশি বুদ্ধিজীবী হত্যার দায়ে জামায়াতের এই শীর্ষ নেতাকে ২০১৪ সালে মৃত্যুদণ্ডে দণ্ডিত করেছিলো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।রায়ে ট্রাইব্যুনাল বলেছিলো যে তার বিরুদ্ধে আনা ১৬টি অভিযোগের মধ্যে আটটি অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে।এর মধ্যে চারটি অভিযোগে তাকে মৃত্যুদণ্ড এবং অপর চারটি অভিযোগে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেয়া হয়েছিলো।

এই রায়ের বিরুদ্ধে ওই বছরেই আপিল করেছিলেন নিজামী।পরে আপিল বিভাগের এক শুনানিতে বয়স ও অসুস্থতা বিবেচনা করে তার সাজা কমানোর আবেদন করেন তার আইনজীবীরা।

ট্রুাইব্যুনালে নিজামীর বিরুদ্ধে ১৬টি অভিযোগের মধ্যে আটটি প্রমাণিত হয়। এর মধ্যে বুদ্ধিজীবী হত্যা, গণহত্যাসহ চারটি অভিযোগে (২, , ৬ ও ১৬) নিজামীকে মৃত্যুদ- দেয়া হয়। হত্যা, অপহরণ ও নির্যাতনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধের ষড়যন্ত্র ও সহযোগিতা করার চারটি অভিযোগে (১, , ৭ ও ৮) তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদ- দেয়া হয়।

বাকি আটটি অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় সেগুলো থেকে তাঁকে খালাস দেন ট্রাইব্যুনাল। আপিলে পাঁচটি অভিযোগে (২, , , ৮ ও ১৬) নিজামীর সাজা বহাল রেখেছেন সর্বোচ্চ আদালত। এর মধ্যে ২, ৬ ও ১৬ নম্বর অভিযোগে মৃত্যুদ- এবং ৭ ও ৮ নম্বর অভিযোগে তাঁর যাবজ্জীবন কারাদ- বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। আপিলে তিনটি অভিযোগ (১, ৩ ও ৪) থেকে তাঁকে খালাস দেয়া হয়েছে।

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি বেঞ্চে গত মাসেই মি. নিজামীর আপিল আবেদনের শুনানি ও যুক্তি খণ্ডন শেষ হয়েছিলো।আপিল শুনানিতে মি. নিজামীর আইনজীবীদের বক্তব্য ছিল যে রাষ্ট্রপক্ষ পর্যাপ্ত সাক্ষ্য প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করতে পারেননি।তাদের দাবি ছিল মুক্তিযুদ্ধের শেষ দিকে এসে বুদ্ধিজীবী হত্যার সময় জামায়াত নেতা নিজামী জামায়াতের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্র সংগঠন বা আল-বদর বাহিনীর নেতৃত্বে ছিলেননা।তবে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীরা বলেছিলেন বুদ্ধিজীবী হত্যার সময় নিজামীর হাতেই ছিল আল-বদর বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ।তাদের মূল বক্তব্য ছিল হত্যাকাণ্ডে সরাসরি জড়িত থাকা কিংবা উস্কানি দেয়া দুটো একই ধরনের অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত দেওয়ার অভিযোগে নিজামীকে ২০১০ সালের ২৯শে জুন আটক করা হয়।এর দুবছর পর তার বিরুদ্ধে মানবতা বিরোধী অপরাধের অভিযোগ এনে বিচার প্রক্রিয়া শুরু হয়।

সূত্র: শীর্ষ নিউজ

http://iqna.ir/fa/news/3465217

captcha