আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য অনুষ্ঠিত ৩য়'তম আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতার হেফজ বিভাগে দ্বিতীয় স্থানে উত্তীর্ণ তুরস্কের প্রতিনিধি "আকরাম উচার" ১৪ বছর বয়স থেকে তার দৃষ্টি শক্তি হারান।

বার্তা সংস্থা ইকনা: তিনি বার্তা সংস্থা ইকনা'র সাথে এক সাক্ষাৎকারে বলেন: দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য কুরআন প্রতিযোগিতা এটাই প্রমাণ করে যে, কুরআনের সাথে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ার জন্য সকল প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করা সম্ভব।
২৪ বছর বয়সী "আকরাম উচার" তুরস্কের আক্সারা" শহরের বাসিন্দা। তিনি ইরানের রাজধানী তেহরানে দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য অনুষ্ঠিত ৩য়'তম আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতার হেফজ বিভাগে দ্বিতীয় স্থানে উত্তীর্ণ হয়েছেন।
কুরআন বিষয়ক বার্তা সংস্থা "ইকনা"র সাথে আকরাম উচার সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হল:
আপনি কখন থেকে কুরআন শিখতে শুরু করেন?
আমি আমার ১৪ বছর বয়সে দৃষ্টি শক্তি হারয়। দৃষ্টি শক্তি হারানোর পর আমি চরম হতাশায় ভুগছিলাম। তবে ১৫ বছর বয়সে পবিত্র কুরআনের সাথে আমার অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ে ওঠে এবং এরপর থেকে আমার জীবনের নতুন সৌন্দর্যময় অধ্যায় শুরু হয়।
কুরআন হেফজ করতে আপনার কত সময় লেগেছে?
১৬ মাসে আমি সম্পূর্ণ কুরআন হেফজ করেছি। অবশ্য এ জন্য আমি আমার শ্রদ্ধেয় শিক্ষক "আহমাদ সারাম"কে ধন্যবাদ জ্ঞাপন করছি।
আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতার অনুষ্ঠান সম্পর্কে আপনার মতামত কি?
আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ক্বারি ও হাফেজগণ একস্থানের একত্রিত হয় এবং মুসলিম ভাইয়েরা একে অপরের সাথে কথোপকথন করে। ইরানের এই প্রতিযোগিতা অনেক মানসম্পূর্ণপূর্ণ প্রতিযোগিতা। আমি এরপূর্বেও কুয়েত ও আলজেরিয়ায় অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছি।
দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতার আয়োজনের ক্ষেত্রে ইরানের উদ্যোগ কীভাবে মূল্যায়ন করে?
দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য কুরআন প্রতিযোগিতা এটাই প্রমাণ করে যে, কুরআনের সাথে অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ার জন্য সকল প্রতিবন্ধকতা অতিক্রম করা সম্ভব। আমি যতদূর জানি, দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের জন্য আন্তর্জাতিক কুরআন প্রতিযোগিতার আয়োজন শুধুমাত্র ইরানই করেছে এবং এটি অতি মূল্যবান একটি পদক্ষেপ।
আপনি অন্য কোন পেশার সাথে জড়িত আছেন?
হ্যাঁ! আমি তুরস্কের একটি মসজিদে মুয়াজ্জিন হিসেবে নিয়োজিত রয়েছি। এছাড়াও পবিত্র কুরআন তিলাওয়াত প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য গ্রীষ্মকালীন ক্লাসের শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি।
কুরআনের কার্যক্রমের ক্ষেত্রে আপনার কোন স্মরণীয় ঘটনা আছে?
আমার মনে আছে যে, পবিত্র কুরআন হেফজ করার জন্য দিবা-রাত্রি পরিশ্রম করতাম। একদিন ক্লাস শেষে আমি ঘুমিয়ে পড়ি। কিন্তু আমার বন্ধু আমার পাশে জাগ্রত ছিল। যখন ঘুম থেকে উঠলাম তখন আমার বন্ধু আমাকে বল্লো, তুমি ঘুমন্ত অবস্থায়ও পবিত্র কুরআনের আয়াতগুলি উচ্চারণ করছিলে। এই বিষয়টি শুনে আমার শিক্ষকও অনেক খুশি হয়েছিল। অর্থাৎ পবিত্র কুরআনের সাথে আমার এতটাই অন্তরঙ্গ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে যে, ঘুমের ঘড়েও আমি আয়াতগুলি উচ্চারণ করতাম।
আপনি কি প্রত্যাশা করেন?
আমার প্রত্যাশা হচ্ছে মুসলমানেরা পবিত্র কুরআনের দিকে ধাবিত হক। এর শিক্ষাগুলো নিজেদের জীবনে বাস্তবায়ন করুক এবং কুরআনের ছায়ায় ঐক্যবদ্ধ হক।
iqna