IQNA

কুরআন তিলাওয়াত একটি অনন্য শিল্প/৪

ক্বারি মানশাভীর তিলাওয়াত; সাধারণ কিন্তু মনোরম

9:45 - October 01, 2022
সংবাদ: 3472559
তেহরান (ইকনা): ওস্তাদ মোহাম্মদ সাদিক মানশাভী মিশরের অন্যতম ক্বারিদের মধ্যে একজন। তাঁর তিলাওয়াতগুলি ছিল সাধারণ কিন্তু অতি মনোরম এবং বিশেষ যাতে তিনি বিভিন্ন স্বাদ আকৃষ্ট করতে পারেন। তার বিশেষ পন্থায় তিলাওয়াতের কারণে শ্রোতাগণ একটি ভিন্ন রকমের তিলাওয়াত শুনতেন।
মোহাম্মদ সাদিক মানশাভী ১৯২০ সালে জন্মগ্রহণ করেন এবং ১৯৬৯ সালে ইহকাল ত্যাগ করেন। শেখ মানশাভি একজন যা’হেদ (যিনি পরকালের জন্য ইহকাল উপেক্ষা করা এবং ইবাদতে মশগুল হওয়া) ছিলেন এবং একটি যা’হেদ/তপস্বী পরিবারে বেড়ে ওঠেন; তার পিতা ও ভাইরাও কুরআনের ক্বারি ছিলেন এবং এই পরিবারে রহস্যময় প্রবণতা ছিল। অন্য কথায়, তিনি ছিলেন সার্থক, তপস্বী, ধার্মিক, পার্থিব বিষয় থেকে দূরে থাকতেন এবং আল্লাহর বাণীর সারমর্মের প্রতি মনোযোগী ছিলেন এবং তাঁর পরিবারে একটি শাসক বিদ্যালয় ছিল যেখানে এই প্রথা বিদ্যমান ছিল।
মানশাভী একটি সাক্ষাৎকারে বলেছেন যে, তিনি প্রথমে কুরআন মুখস্থ করেছিলেন এবং তারপরে ক্বিরাতের বিষয়ে পড়াশোনা করেছেন। এই পদ্ধতিটি ছিল মিশর দেশে প্রচলিত পদ্ধতির উপর ভিত্তি করে, যেখানে ক্বিরাত কৌশল শেখার পর তারা অনুকরণের দিকে ঝুঁকে পড়ে এবং তাদের অঞ্চলে প্রচলিত সেই স্কুলের অনুকরণ করে এবং সেই স্কুলের ছাত্র হয়।
ওস্তাদ মানশাভীর মাস্টারপিস তিলাওয়াতগুলি তার ৪৭তম জন্মদিন এবং তার মৃত্যুর দুই বছর আগের করে গিয়েছেন। অবশ্য ক্বারি তার কৈশোর থেকে আমাদের কাছে পৌঁছায়নি বা তা খুবই সীমিত। তার তিলাওয়াত রেকর্ড না করার অন্যতম কারণ ছিল রাজনৈতিক সমস্যা। ওস্তাদ মানশাভী নিজেকে সরকার থেকে দূরে সরিয়ে রেখেছিলেন এবং এর ফলে তার ক্বিরায়াতগুলো রেকর্ডিংয়ে কোনো মনোযোগ দেওয়া হয়নি। এই কারণে, তার কৈশোর এবং যুবক বয়সের তিলাওয়াতগুলো খুব বেশি রেকর্ডিং করা নেই, এবং অবশিষ্ট তিলাওয়াতগুলি  উপস্থিত শ্রোতাগণ রেকর্ডিং করেছিল। আর এসকল রেকর্ডিং করা তিলাওয়াতসমূহে মানশাভী তিলাওয়াতের গুণমান দেখা যায়।
মুতাকাদ্দেম ক্বারিদের মধ্যে মানশাভীর কণ্ঠ সবচেয়ে মনোরম কণ্ঠ। ইতিহাসে এমন সর্বজনীনতা নিয়ে কোনো কণ্ঠস্বর আর কখনো শোনা যায়নি। মানশাভীর তিলাওয়াত শুনলে সকলেরই ভালো লাগবে। কারণ প্রতিটি মানুষেরই নিজস্ব পছন্দ রয়েছে এবং সেই পছন্দই বলে দেবে যে, মানশাভরি কণ্ঠস্বর অনেক সুন্দর।
ওস্তাদ মানশাভী বড় হওয়ার সাথে সাথে তিনি সুর ও কণ্ঠের কাজের ক্ষেত্রে কুরআনের সহজ তিলাওয়াতের দিকে অগ্রসর হন; অর্থাৎ, তিনি তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে পবিত্র কুরআনের প্রতিটি শব্দের প্রতি বেশি মনোযোগ দিতেন এবং স্বর ও সুরের দিকে কম মনোযোগ দিতেন। অথচ তার কণ্ঠ ও সুর ছিল শীর্ষে। এটা বলা যাবে না যে, তিনি তার ভোকাল এবং টোনাল ক্ষমতা ব্যবহার করতে পারেননি; বরং সেগুলোও ভালোভাবে ব্যবহার করেছেন। এই কারণে, মানশাভী ক্বারিদের জন্য খুব ভাল মডেল।
মানশাভীর ব্যক্তিত্বের জন্য তাকে এই পরিমাণ কৌশল ব্যবহার করতে হয়েছিল। তিনি যতই এগিয়েছেন, এই সিদ্ধান্তে উপনীত হল যে তার আরও সহজভাবে কুরআন তিলাওয়াত করা উচিত। অবশ্যই, আমরা জানি না তার ব্যক্তিত্বে কী বিবর্তন ঘটেছে যা এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটা এমন নয় যে তিনি কিছুই করতে পারেননি। যাইহোক, তিনি তিলাওয়াতের ক্ষেত্রে অনেক কৌশল কাজে লাগিয়েছেন, যা আমাদের কাছে অজানা। মনশাভীর তিলাওয়াতে বিশেষ সমন্বয় তৈরি করার ক্ষমতা ছিল।

 

নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
captcha