
তাঁর নামেই আখাউড়া পৌর শহরের খড়মপুরে স্থাপন করা হয়েছে সৈয়দ আহমদ গেসুদারাজ কেল্লা শহীদ (রহ.)-এর মাজার। ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আখাউড়া থানার খড়মপুর নামক গ্রামের উত্তরাংশে মাজারটি অবস্থিত। গেসুদারাজের খণ্ডিত কল্লা জলপথে যেখানে এসে থামে সেখানেই আলোচ্য মাজার গড়ে ওঠে। জনশ্রুতি আছে যে একদিন নদীতে মাছ ধরার সময় একজন মনীষীর কাটা মুণ্ডু উঠে আসে। মুণ্ডুটি যে স্থানে সমাহিত করা হয় সেখানেই গড়ে উঠেছে ওই দরগাহ। (সূত্র : প্রত্ননিদর্শন : কুমিল্লা, আয়শা বেগম, বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন, সেপ্টেম্বর ২০১০, পৃষ্ঠা ৯৯)
মাজারসংলগ্ন জমিতে নির্মাণ করা হয়েছে দৃষ্টিনন্দন মসজিদ, মুসাফিরখানা, চুলাঘর, এতিমখানা, বিশ্রামাগার, কবরস্থান, মার্কেট কাম কমপ্লেক্স, মাদরাসা, বিদ্যালয় ও বিশাল পুকুর। প্রচলিত আছে, একদিন চৈতন দাস ও তাঁর সঙ্গীরা তিতাস নদীতে মাছ ধরার সময় একটি কাটা মাথা তাদের জালে আটকা পড়ে। এমন ঘটনায় সবাই যখন হতবিহ্বল, তখনই মাথাটি বলে ওঠে, ‘একজন আস্তিকের সঙ্গে একজন নাস্তিকের কখনো মিল হতে পারে না। তোমরা যতক্ষণ কালেমা পড়ে মুসলমান না হবে, ততক্ষণ আমাকে স্পর্শ করবে না। ’
ওই দিনই কালেমা পড়ে মুসলমান হন জেলে চৈতন দাস ও তাঁর সঙ্গীরা। আর কাটা মাথার নির্দেশে সেটিকে খড়মপুরে তিতাস নদীর পারের কবরস্থানে দাফন করা হয়। সেই থেকে কবরটি সৈয়দ আহম্মদ গেসুদারাজ ওরফে কেল্লা শহীদ (রা.)-এর মাজার নামে পরিচিতি পায়। ২৬০ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত দরগা শরিফের জায়গা তৎকালীন আগরতলা রাজ্যের মহারাজা দান করেন।