
লোবানের রেজিন সংগ্রহ করা হয় যে গাছ থেকে, তার নাম বসওয়েলিয়া স্যাকরা। কাঁটাদার এই গাছ দেখতে অনেকটা তেঁতুলগাছের মতো। উচ্চতায় যদিও অনেক ছোট। পাতাও তেঁতুলপাতার মতোই। পেকে গেলে এর কাঁটা ও পাতা লাল হয়ে যায়। গোলাকার লাল রঙের ফল হয়। গাছ থেকে যে আঠা বের হয়, তাকেই লোবান বলে। গাছের গায়ে আঁচড় দিলে এই আঠা বের হয় এবং বাতাসের কারণে জমে যায়।
বসওয়েলিয়া স্যাকরা (Boswellia sacra) নামক গাছে বেশি পরিমাণে লোবানের রেজিন পাওয়া যায়। মধ্যপ্রাচ্য, উত্তর আফ্রিকা, সোমালিয়া, চীনের দক্ষিণাঞ্চল ও ভারতের কিছু অঞ্চলে এই গাছের সন্ধান পাওয়া যায়। তবে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহৃত বেশির ভাগ বসওয়েলিয়া স্যাকরা বৃক্ষ সোমালিয়া, ইরিত্রিয়া ও ইয়েমেন—এই তিনটি দেশে উৎপন্ন হয়। বর্তমানে নানা কারণে লোবানের বাজার একচেটিয়া ওমানের দখলে চলে এসেছে। আদিকাল থেকেই এখানে বিশ্বের সবচেয়ে নিখুঁত লোবান তৈরি হয়। ওমানের লোবানই বিশ্বের সবচেয়ে দামি লোবান হিসেবে বিবেচিত।
এক টুকরা উত্কৃষ্টমানের লোবানের ঘ্রাণ কয়েক হাজার বছর ধরে অটুট থাকে। লোবান অ্যারোমাথেরাপি, ওষুধ ও প্রসাধনী হিসেবে ব্যবহার হয়। কার্যকারিতা, মান, সুবাস, আভিজাত্য এবং চাহিদা ও প্রয়োজনের তুলনায় উৎপাদনের স্বল্পতার কারণে লোবান আজও স্বর্ণের চেয়ে দামি।
এর তেল ত্বক, মস্তিষ্ক ও সুস্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। গর্ভকালীন কষ্ট থেকে বাঁচতে এবং মেধাবী সন্তান প্রসবের জন্য আরবের গর্ভবতী মায়েরা লোবান গ্রহণ করে থাকেন। লোবানের ব্যবহার সব ধরনের জীবাণু থেকে রক্ষা করে। এর কোনো ক্ষতিকারক দিক নেই।