IQNA

7:49 - April 29, 2023
সংবাদ: 3473672

জাপানে ইসলাম ও মুসলমান

তেহরান (ইকনা): পূর্ব এশিয়ার একটি দ্বীপরাষ্ট্র জাপান। প্রশান্ত মহাসাগরের বুকে জাপান সাগর, পূর্ব চীন সাগর, চীন, উত্তর কোরিয়া, দক্ষিণ কোরিয়া ও রাশিয়ার পূর্বদিকে উত্তরে ওখোত্স্ক সাগর থেকে দক্ষিণ-পূর্ব চীন সাগর ও তাইওয়ান পর্যন্ত প্রসারিত। যে কাঞ্জি অনুসারে জাপানের নামটি এসেছে, সেটির অর্থ ‘সূর্য উৎস’। জাপানকে ‘সূর্যোদয়ের দেশ’ বলে অভিহিত করা হয়।

জাপানে ইসলাম ও মুসলমান
জাপানি ভাষায় দেশটিকে বলা হয় নিহন (নিপ্পন)। নিপ্পন ও জাপান উভয়ই একই শব্দ থেকে উদ্ভূত; তার উভয় মানে ‘যেখানে সূর্য ওঠে’। ‘জাপান’ শব্দটির উৎপত্তি ঘটেছে, ‘জি-প্যাং’ বা ‘জু-পাং’ থেকে।
 
১৩০০ শতাব্দীতে জাপানকে ইউরোপের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন ইতালীয় ব্যবসায়ী এবং অভিযাত্রী মার্কো পোলো। তিনি আসলে কখনোই জাপানে যাননি; বরং চীনের দক্ষিণাঞ্চলে গিয়েছিলেন। সেখানকার লোকজনের মুখে তিনি জাপানের কথা শোনেন। দক্ষিণ চীনের লোকদের কাছে, যেখানে মার্কো পোলো ভ্রমণ করেছিলেন, জাপান যেদিকে সূর্যোদয় হয় সেখানে অবস্থিত। তাই সেখানকার লোকেরা এটিকে ‘জি-প্যাং’ বা ‘জু-পাং’ বলে, যাকে ‘সূর্যের উৎপত্তি’ হিসেবে অনুবাদ করা যেতে পারে, অর্থাৎ যেখানে সূর্য ওঠে।
 
জাপান একটি যৌগিক আগ্নেয়গিরীয় দ্বীপমালা। এই দ্বীপমালাটি ৬ হাজার ৮৫২টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত। জাপানের বৃহত্তম চারটি দ্বীপ হলো হোনশু, হোক্কাইদো, ক্যুশু ও শিকোকু। এই চারটি দ্বীপ জাপানের মোট ভূখণ্ডের ৯৭ শতাংশ এলাকা নিয়ে গঠিত। জাপানের বর্তমান (২০২৩) জনসংখ্যা ১২ কোটি ৩৭ লাখ ১৯ হাজার ২৩৮ জন। (ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুক)
 
জাপানে মুসলমানের সংখ্যা খুব বেশি নয়, তবে ২০২১ সালের ৭ জানুয়ারি প্রভাবশালী পত্রিকা দি ইকোনমিস্টে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়, জাপানে মুসলমানের সংখ্যা বাড়ছে। ২০১০ সালে সেখানে মুসলমানের সংখ্যা ছিল এক লাখ ১০ হাজার, যা ২০১৯ সালে গিয়ে দুই লাখ ২৩ হাজারে দাঁড়ায়। ধারণা করা হয়, এ সময়ের মধ্যে কমপক্ষে ৫০ হাজার জাপানি ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে। (https://shorturl.at/corES)
 
জাপানের সঙ্গে মুসলমানদের যোগাযোগ শুরু হয় ১৭ শতকে। এ শতাব্দীর জাপানি ইতিহাসেই প্রথম মুসলিমদের বিবরণ পাওয়া যায়। মুসলিম বিশ্বের সঙ্গে জাপানের কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয় আরো পরে। ১৮৮৯ খ্রিস্টাব্দে উসমানীয় সুলতান দ্বিতীয় আবদুল হামিদ সমপ্রীতির অংশ হিসেবে উসমানীয় নৌ-বাহিনীর ফিগ্রেট ‘আর্তুগুল’ জাপানে পাঠান। ফেরার পথে ওয়াকায়ামা উপকূলে সমুদ্র ঝড়ের কবলে পড়ে তা ডুবে যায় এবং শতাধিক আরোহী নিহত হয়। শুধু ৯৬ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয় এবং তাদের কোবে শহরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তাদের দুটি জাপানি কোর্ভেটে করে ইস্তাম্বুলে পাঠানো হয়।
 
এরপর থেকে একটু করে জাপানে মুসলমানদের আনাগোনা শুরু হয়। সেখানে মুসলমানের অস্তিত্ব তৈরি হয়। এখন সেখানে মুসলমানদের উপাসনালয়ও তৈরি হচ্ছে। ওয়াজেদা ইউনিভার্সিটির তথ্যমতে, ১৯৯০ সালের পর থেকে জাপানের বিভিন্ন এলাকায় মসজিদ ও নামাজঘরের সংখ্যা বাড়ছে। (https://www.waseda. jp/top/en/news/53405)
 
জাপান ফোকাস ডট ওআরজি নামক একটি ওয়েবসাইটের তথ্যমতে ২০০৯ সাল পর্যন্ত জাপানে ৩০ থেকে ৪০টি একতলা মসজিদ হয়েছে। পাশাপাশি আরো ১০০টি বা তার বেশি অ্যাপার্টমেন্ট রুম নামাজের জন্য নির্ধারণ করা আছে। এই মসজিদগুলোর ৯০ শতাংশ দ্বিতীয় তলায় এবং প্রথমতলা হালাল খাদ্যের দোকান হিসেবে ব্যবহার করে।  খাবারগুলো মূলত ইন্দোনেশিয়া ও মালয়েশিয়া থেকে আমদানি করা খাবার।
 
বর্তমানে জাপানিরা ইসলাম শিক্ষা গ্রহণ করছে এবং জাপানিজ ভাষাভাষীদের মধ্যে ইসলাম প্রচার করছে, তাদের ইসলামী বিধিবিধান শেখাচ্ছে।
captcha