
কুরআনের সূরা মুযযাম্মিলের শুরুর আয়াতে কথার ওজন বর্ণনা করা হয়েছে, মহান আল্লাহ এই সত্যটি ৫ নম্বর আয়াতে প্রকাশ করেছেন:
إِنَّا سَنُلْقي عَلَيْكَ قَوْلاً ثَقيلا
আমরা অনতিবিলম্বে তোমার ওপর এক গুরুভার বাণী (বিধান) অবতীর্ণ করব।
তাফসির আল-মিজানে আল্লামা তাবাতাবায়ি কুরআনের ভারত্বকে বিভিন্নভাবে ব্যাখ্যা করেছেন:
১. আধ্যাত্মিকভাবে ভারী হওয়া: এই কারণে, কুরআন একটি ভারী শব্দ যাতে জ্ঞান রয়েছে যা সবাই এই বইয়ের বিষয়বস্তু বুঝতে সক্ষম নয়। শুধু তারাই কুরআন বুঝতে সক্ষম যারা মোটেও গুনাহ করে না এবং গুনাহ করার কথা চিন্তাও না। কুরআনের আয়াত অনুসারে, ইমামদের (আঃ) সমস্ত পাপ থেকে পবিত্র করা হয়েছে:
إِنَّمَا يُرِيدُ اللَّهُ لِيُذْهِبَ عَنكُمُ الرِّجْسَ أَهْلَ الْبَيْتِ وَ يُطَهِّرَكم تَطْهِيرًا
আল্লাহ কেবল চান যে, হে আহলে বাইত! তোমাদের হতে সর্ব প্রকারের কলুষ দূরে রাখতে এবং তোমাদের সম্পূর্ণরূপে পবিত্র রাখতে।
সূরা আহযাব, আয়াত: ৩৩।
কখনও কখনও এই ভারত্বটা তাঁর চেহারা এবং শরীরের নড়াচড়ায় দেখা দেয় এবং তাঁর সঙ্গীরা এই ভারত্বপ্রত্যক্ষ করে, ইমাম আলী (আ.) এ প্রসঙ্গে বলেছেন: যখন সূরা মায়িদা হযরত মুহাম্মাদ (সা.)এর উপর অবতীর্ণ হয় তখন নবীজী উটে চড়ে ছিলেন। এই ওহী নবীর উপর এতটাই ভারী ছিল যে, পশুটি থেমে যায় এবং তার পেট নীচে নেমে যায়। সেই মুহুর্তে, আমি দেখতে পেলাম যে প্রাণীটির নাভি মাটিতে পৌঁছতে চলেছে।
২. ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষা বাস্তবায়নের দিক থেকে ভারী: আল্লামা তাবাতাবায়ি কুরআনের এই দিকটির কথা উল্লেখ করার জন্য আরেকটি আয়াত উল্লেখ করেছেন। সূরা হাশরের ২১ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন:
لَوْ أَنْزَلْنا هذَا الْقُرْآنَ عَلى جَبَلٍ لَرَأَيْتَهُ خاشِعاً مُتَصَدِّعاً مِنْ خَشْيَةِ اللَّهِ وَ تِلْكَ الْأَمْثالُ نَضْرِبُها لِلنَّاسِ لَعَلَّهُمْ يَتَفَكَّرُون
আমরা যদি এই কুরআন কোন পর্বতের ওপর অবতীর্ণ করতাম তবে তুমি প্রত্যক্ষ করতে তা আল্লাহর ভয়ে অবনত ও বিদীর্ণ হয়ে গিয়েছে। এই দৃষ্টান্তসমূহÑ যা আমরা মানুষের জন্য বিবৃত করি যাতে তারা চিন্তাভাবনা করে।
এই আয়াতে একটি সত্যের কথা বলা হয়েছে, আর তা হলো পবিত্র কুরআনে হেদায়েতের কোনো অভাব নেই, এবং কিছু লোক হেদায়েত না পাওয়ার বিষয়টি তাদের নিজেদের দুর্বলতার কারণে অর্থাৎ তাদের দুর্বলতার কারণে তারা হেদায়েত প্রাপ্ত হয়নি।
৩. সমাজে কুরআন বাস্তবায়ন এবং মানুষকে দাওয়াত দেওয়ার ক্ষেত্রে ভারী: আর এই বোঝা এ কারণে যে, নবী এ বিষয়টি পূরণ করতে গিয়ে মুশরিক ও কাফেরদের দ্বারা নির্যাতিত হয়েছিলেন। উদাহারণস্বারূপ: এভাবে (সম্প্রদায়ে কুরআন বাস্তবায়ন করা) বাকি মুমিনদের সাথে শোয়বে আবি তালিবের ৩ বছর ধরে নবী অনেক কষ্ট সহ্য করেন। এই সময় হযরত খাদিজার সম্পত্তি, যিনি নবীর আর্থিক সহায়তাকারী ছিলেন, নিঃশেষ হয়ে যায়,শোয়বে আবি তালিবে থাকা অবস্থায় নবী এবং বাকি লোকদের কারো সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য করার এবং ক্রয়-বিক্রয়ের অধিকার ছিল না।
এছাড়াও শত্রুরা নবীর পথে কাঁটা বিছিয়ে রাখতো এবং তাঁর মাথায় উটের ভুড়ি নিক্ষেপ করেছে। আর এজন্য নবী করিম বলেছেন: ما اوذی نبی مثل ما اوذیت ؛ আমার মত কোন নবীকে বিরক্ত করা হয়নি।"