IQNA

10:23 - August 08, 2024
সংবাদ: 3475837

শাবাশ ইয়ামানী প্রতিরোধ আন্দোলন!

একেই বলে মশা মারতে কামান দাগানো ! ইয়ামানের হুসীদের কয়েক হাজার ডলারের ড্রোন ভূপাতিত করতে ২মিলিয়ন ৪মিলিয়ন ডলার মূল্যের ১৫৫ টি বিভিন্ন স্ট্যান্ডার্ড মিসাইল ছুড়তে হয়েছে ! কী বিশাল খরচ হয়েছে মাযুরার ( মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ) [ এই ১৫৫টি বিভিন্ন স্ট্যান্ডার্ড মিসাইলের দাম ৩১০ মিলিয়ন ডলার থেকে ৬২০ মিলিয়ন ডলারের মাঝে ]

শাবাশ ইয়ামানী প্রতিরোধ আন্দোলন!
আবার ১৩৫ টি টম্যাহক এ্যাটাক মিসাইল ছুঁড়েছে মাযুরা ( মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ) ইয়ামানের হুথিদের ওপর যেগুলোর প্রতিটির মূল্য ২মিলিয়ন ডলারের অধিক ( ২৭০ মিলিয়ন ডলারের অধিক মূল্যের টম্যাহক ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়েও হুথিদের দমাতে পারে নি ইউএসএস আইযেনহাওয়ার ক্যারিয়ার স্ট্রাইক গ্রূপ ! 
এত বিশাল অঙ্কের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেও কি মাযুরা (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) ও যুরা ( যুক্তরাজ্য ) ও অন্যান্য ইউরোপীয় দেশ ইয়ামানের হুসীদের থামাতে পেরেছে। আর একটা বিমান বাহী রণতরী ও নৌবহরে অগণিত ও অফুরন্ত মিসাইল, ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ থাকে না। সীমাবদ্ধতা আছেই । আর এ ভাবে কয়েক হাজার ডলারের ড্রোন ঠেকাতে ঠেকাতে তো এক সময় সব মিসাইল ও গোলাবারুদ যাবে ফুরিয়ে। তখন কী অবস্থা হবে। হ্যাঁ ঠিক সেটাই হয়েছে লোহিত সাগরে মোতায়েন আইযেনহাওয়ার বিমানবাহী রণতরী নৌবহর ও ফরাসি ফ্রিগেটসমূহের ক্ষেত্রে। ক্ষেপণাস্ত্র ও গোলাবারুদ ফুরিয়ে এলে ৭-৮ মাস লোহিত সাগরে থাকার পর ফরাসি ফ্রিগেট নেড়া কুত্তার মতো লেজ গুটিয়ে লোহিত সাগর থেকে পালিয়ে যায় এ বছর ফেব্রুয়ারিতে । কারণ এর পর লোহিত সাগরে থাকলে ইয়ামানের হুসীদের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাত খেতে হবে এবং সেগুলো ফেরানোর আর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র তাদের অবশিষ্ট নেই। কারণ হুসীদের ক্রমাগত ও বিরামহীন ড্রোন ও মিসাইল হামলা ঠেকাতে গিয়ে তাদের ( ফরাসিদের) ক্ষেপণাস্ত্র সব ফুরিয়ে ও শেষ হয়ে গিয়েছিল। 
স্মর্তব্য যে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্রের মতো ফরাসিদের ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিটির মূল্য ১ থেকে ২ মিলিয়ন ডলারের মধ্যে। আর একটা জাহাজ তা যতই বিরাট ও অত্যাধুনিক হোক না কেন সেটার অস্ত্র , গোলাবারুদ ও ক্ষেপণাস্ত্রের ভাণ্ডার তো সীমিত। আর ঠিক একই দশা মহাশক্তিধর পিলে কাঁপিয়ে দেওয়া মার্কিন বিমানবাহী রণতরী নৌবহর আইয়েনহাওয়ারেরও হয়েছে। দীর্ঘ ৭ - ৮ মাস লোহিত সাগরে হুসীদের সাথে লড়ার পর মিসাইল ,  ক্ষেপণাস্ত্র , গোলাবারুদের মজুদ ( স্টক ) ফুরিয়ে গেলে ফরাসি ফ্রি গেট যেমন নেড়ি কুত্তার মতো ল্যাজ গুটিয়ে ভেগেছিল লোহিত সাগর থেকে ঠিক তেমনি ইউএস এস আইযেনহাওয়ার ক্যারিয়ার স্ট্রাইক্ গ্রুপকেও নেড়ী কুত্তার মতো লোহিত সাগর থেকে পালিয়েছে!!! কারণ এর পর থেকে হুসিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের আঘাত খেতে হবেই এবং সেগুলো ঠেকানোর জন্য পর্যাপ্ত মিসাইল আর বিদ্যমান নেই। তাই 
যে ইউএসএস আইযেনহাওয়ার ক্যারিয়ার ( বিমান বাহী রণ পোত ) বহর ( স্ট্রাইক গ্রুপ ) ৯ মাস ধরে বীর ইয়ামানীদের একটা চুলও ছিঁড়তে পারে নি সেই ইউএসএস আইযেনহাওয়ার ক্যারিয়ার স্ট্রাইক্ গ্রুপকে ইরানের বিরুদ্ধে মোতায়েন করা হয়েছে যদি ইরান ইসরাইলকে হামলা করে তাহলে ইরানের বিরুদ্ধে এ্যাকশনে যাবে !! 
এই আইযেনহাওয়ার ৭ -৮ মাস ধরে ইয়ামানীদের বিরুদ্ধে লড়ে প্রায় এক বিলিয়ন ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে কোনো সাফল্যই অর্জন করতে পারে নি এবং ইয়ামানীদেরকেও জাহাজ আক্রমণ করা থেকে বিরত রাখতে পারে নি যার ফলে ইসরাইলের উম্ম রাশরাশ ( ইলাত ) পোর্ট বন্ধ হয়ে গেছে সেই একই আইয়েন হাওয়ার নৌবহর ইয়ামানের হুসীদের চাইতে বহুগুণ শক্তিশালী ইরানের কয়টা চুল ফেলবে।  
বেশ কিছু বাংলাদেশীর সাথে আলাপ কালে তারা বলেই বসল : " এবার ইরান যদি ইসরাইল হামলা করে মাযুরার (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র) আইযেনহাওয়ার বিমানবাহী রণতরী ও নৌবহর ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবে! " অথচ আমি তাদেরকে ইয়ামানে হুসীদের বিরুদ্ধে ৭- ৮ মাস ধরে অত্যন্ত ব্যয়বহুল আক্রমণ চালিয়েও বিমানবাহী রণতরী আইয়েনহাওয়ার বহর যে ব্যর্থ হয়েছে তা তুলে ধরলেও তারা তা মানতে ও বিশ্বাস করতে পারে নি। আর এখন এ প্রবন্ধে মাযুরারাই ( মার্কিনরা ) নিজেরাই এ ব্যাপারে তাদের অর্থাৎ আইযেনহাওয়ারের ব্যর্থতার কথা স্বীকার করছে। আমাদের দেশের কিছু লোক বিশেষ করে বেশ কিছু গোবর্ধন কূপমণ্ডুক বুদ্ধিজীবী ( বুদ্ধু জীব বলাই শ্রেয় ) মাযুরার অমুক নৌ বহর টমুক নৌবহরের নাম শুনলেই ভয়ে কাপড়চোপড় খারাপ করে ফেলে । আসলে এরা তো মার্কিনদের মতোই । কারণ ইরানী বিপ্লবী রক্ষী পারস্যোপসাগরে সংঘর্ষে কয়েক বার মার্কিন মেরিন সেনাদের বন্দী করলে ভয়ে মার্কিন সেনারা কাপড়চোপড় খারাপ করে ফেলেছিল যেগুলোর ছবি ইরান প্রকাশ করতে বাধ্য হয়েছিল পশ্চিমা - মার্কিন অপপ্রচার ও প্রোপ্যাগ্যান্ডার মুখে এবং এ কারণে মার্কিনরা সবার হাসিরও খোরাক হয়েছিল ! তবে হ্যাঁ এটা সংগ্রামের পথ যা মোটেও কুসুমাস্তীর্ণ নয়। 
সংগ্রামে অনেক ত্যাগ তিতিক্ষা স্বীকার করতেই হয় এবং এ ধরনের একটা বড় কাজ করতে ( হামাস নেতা শহীদ ইসমাঈল হানিয়ের রক্তের প্রতিশোধ ও বদলা নিতে ) হলে ইরানকেও ঝুঁকি নিতে হবেই। বর্বর মাযুরার ঘাত প্রতিঘাতের সম্ভাবনা আছেই । 
 
ইসলামী চিন্তাবিদ এবং গবেষক হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলেমিন মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান

 

captcha