IQNA

আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা মুসলিমদের গণহত্যা মামলার শুনানি

10:02 - December 21, 2025
সংবাদ: 3478643
ইকনা- আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে) আগামী জানুয়ারিতে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা মুসলিম সংখ্যালঘুদের গণহত্যা মামলার গুরুত্বপূর্ণ শুনানি করবে।

আল-জাজিরার বরাত দিয়ে ইকনা জানায়, আদালত ঘোষণা করেছে যে, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা মুসলিমদের গণহত্যা মামলার শুনানি ১২ থেকে ২৯ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।

আদালত জানিয়েছে, এটি গত ১০ বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে প্রথম গণহত্যা মামলা যা মৌলিকভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এই শুনানি আইনি নজির স্থাপন করতে পারে, যা গাজা যুদ্ধ নিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার দায়ের করা ইসরায়েলবিরোধী মামলাসহ অন্যান্য মামলায় সরাসরি প্রভাব ফেলতে পারে।

শুনানির প্রথম সপ্তাহে (১২-১৫ জানুয়ারি) পশ্চিম আফ্রিকার মুসলিম-প্রধান দেশ গাম্বিয়া তাদের আইনি যুক্তি প্রতিরক্ষা উপস্থাপন করবে।

গাম্বিয়া ২০১৯ সালে ইসলামী সহযোগিতা সংস্থা (ওআইসি)-এর সমর্থনে এই মামলা দায়ের করে মিয়ানমারকে গণহত্যা প্রতিরোধ শাস্তি কনভেনশন লঙ্ঘনের অভিযোগে অভিযুক্ত করে।

মিয়ানমার, যারা গণহত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে, ১৬-২০ জানুয়ারি তাদের প্রতিরক্ষা উপস্থাপন করবে।

একটি বিরল পদক্ষেপে আদালত সাক্ষী শুনানির জন্য অতিরিক্ত তিন দিন বরাদ্দ করেছে। এই শুনানি বন্ধ দরজায় এবং জনসাধারণ বা মিডিয়ার উপস্থিতি ছাড়াই অনুষ্ঠিত হবে।

এই মামলা জাতিসংঘের একটি সত্যানুসন্ধানী দলের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে দায়ের করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৭ সালের মিয়ানমারের সামরিক অভিযানযাতে প্রায় ৭৩০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে যায়গণহত্যার মাত্রার কর্মকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত ছিল।

মিয়ানমার এই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে একে পক্ষপাতদুষ্ট বলে অভিহিত করেছে এবং দাবি করেছে যে, তাদের অভিযান দেশের ভেতরে হামলাকারী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে লক্ষ্য করেছিল।

মামলাটি ১৯৪৮ সালের গণহত্যা কনভেনশনের অধীনে দায়ের করা হয়েছে, যা নাজি হলোকাস্টের পর গৃহীত হয়। এই কনভেনশন গণহত্যাকে একটি জাতি, নৃগোষ্ঠী, বর্ণ বা ধর্মীয় গোষ্ঠীর পূর্ণ বা আংশিক ধ্বংসের উদ্দেশ্যে করা কর্মযেমন হত্যা, গুরুতর শারীরিক-মানসিক ক্ষতি সাধন বা গোষ্ঠীর ধ্বংসের জন্য জীবনযাত্রার পরিবেশ সৃষ্টিহিসেবে সংজ্ঞায়িত করে।

মিয়ানমার গাম্বিয়া উভয়ই এই কনভেনশনের স্বাক্ষরকারী, যা আন্তর্জাতিক বিচার আদালতকে এই মামলা শুনানি রায় দেওয়ার এখতিয়ার প্রদান করে।

কনভেনশন গৃহীত হওয়ার পর থেকে আদালত শুধুমাত্র একটি গণহত্যাকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে: ১৯৯৫ সালের জুলাইয়ে বসনিয়া হার্জেগোভিনার স্রেব্রেনিতসা শহরে সার্ব বাহিনীর নেতা রাদোভান কারাজিচ রাতকো ম্লাদিচের নেতৃত্বে মুসলিম জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সংঘটিত গণহত্যা। 4324018#

 

captcha