IQNA

নাঈম কাসেম:

আমেরিকা ও ইসরায়েলের দাবিতে নতি স্বীকার মানে লেবাননের উপর পূর্ণ অভিভাবকত্ব মেনে নেওয়া

0:07 - December 30, 2025
সংবাদ: 3478699
ইকনা: হিজবুল্লাহ লেবাননের মহাসচিব শায়খ নাঈম কাসেম বলেছেন, প্রতিরোধের নিরস্ত্রীকরণ ইসরায়েল ও আমেরিকার প্রকল্প এবং তাদের দাবি-দাওয়ায় নতি স্বীকার করা মানে লেবাননের উপর পূর্ণ অভিভাবকত্ব কায়েম করা।

আল-মানার টিভির বরাত দিয়ে ইকনা জানায়, শায়খ নাঈম কাসেম আজ হিজবুল্লাহর জিহাদী কমান্ডার হাজ্জ মুহাম্মাদ হাসান ইয়াগী (উপনাম: আবু সালিম)-এর স্মরণসভায় ভাষণ দেন। তিনি বলেন, হাজ্জ আবু সালিম যৌবন থেকেই খাঁটি ইসলামের পথে পা বাড়িয়েছিলেন। ১৯৯২-১৯৯৬ এবং ২০০০-২০০৫ সালে হিজবুল্লাহ তাঁকে বালবেক-হারমেল অঞ্চলের প্রতিনিধি নির্বাচিত করেছিল।

তিনি আরও বলেন, আবু সালিমের আদর্শ ছিলেন আয়াতুল্লাহিল উজমা সাইয়েদ মুহাম্মাদ বাকের সদর, ইমাম মূসা সদর, ইমাম খোমেইনী এবং ইমাম খামেনেয়ী। তাঁর চারপাশে ছিলেন বিশিষ্ট আলেমগণ। তিনি একজন মাঠ পর্যায়ের কমান্ডার ছিলেন যিনি পুরো জীবন জনগণের সেবা, বিশেষ করে দরিদ্রদের সাহায্য এবং মুজাহিদদের সমর্থনে উৎসর্গ করেছেন। আবু সালিমের স্বপ্ন ছিল ইমাম মাহদী (আ.)-এর সৈনিক হওয়া এবং তাঁর জীবনের লক্ষ্য ছিল হকের শব্দকে উচ্চে তুলে ধরা। তিনি বালবেক-আল-হারমেল অঞ্চলে হিজবুল্লাহর অন্যতম পথিকৃৎ এবং শহীদ মহাসচিব সাইয়েদ হাসান নাসরুল্লাহর বিশ্বস্ত ব্যক্তিত্ব ছিলেন।

লেবানন ও বিশ্বের খ্রিস্টানদের হযরত ঈসা (আ.)-এর জন্মদিনের অভিন্দন জানিয়ে নাঈম কাসেম বলেন, “বেকা উপত্যকা দক্ষিণ লেবানন ও পুরো দেশের প্রতিরক্ষার সর্বাগ্রে রয়েছে – এটা আমাদের জন্য গর্বের বিষয়।”

তিনি বলেন, আজ লেবানন ঝড় ও অস্থিরতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে এবং এর কারণ হলো জালিম আমেরিকা ও শত্রু ইসরায়েল। ২০২৪ সালের যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননের উপর হামলা বন্ধ হয়নি। ২০১৯ সাল থেকে আমেরিকা লেবাননের অর্থনীতি ধ্বংসের পথে এবং আজ দেশটির উপর নিয়ন্ত্রণ কায়েম করেছে।

হিজবুল্লাহর কর্মকাণ্ডকে উজ্জ্বল উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের সেবা হিজবুল্লাহর মূলনীতি।

শায়খ নাঈম কাসেম জোর দিয়ে বলেন, “আমরা একটি সংকটময় পর্যায়ে রয়েছি: হয় আমেরিকা ও ইসরায়েলের দাবিতে নতি স্বীকার করব যা লেবাননের উপর পূর্ণ অভিভাবকত্ব মেনে নেওয়া, নয়তো জাতীয় উত্থান করে সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ড পুনরুদ্ধার করে দেশ গড়ব।”

তিনি সতর্ক করে বলেন, নিরস্ত্রীকরণ একটি ইসরায়েলি-আমেরিকান প্রকল্প; এখন যদি একে ‘অস্ত্রের একচেটিয়াকরণ’ বলা হয় তবুও তাই। ইসরায়েলের হামলা চলতে থাকলে ‘অস্ত্রের একচেটিয়াকরণ’-এর কথা বলা মানে লেবাননের জন্য নয়, বরং ইসরায়েলের পক্ষে কাজ করা। নিরস্ত্রীকরণের লক্ষ্য হলো প্রতিরোধ ও জনগণের মধ্যে ফিতনা সৃষ্টি করা, দক্ষিণ লেবাননের পাঁচটি পয়েন্টের দখলদারি অব্যাহত রাখা এবং হত্যা-আগ্রাসন চালিয়ে যাওয়া। এটি লেবাননের সামরিক শক্তি কেড়ে নেওয়া, গুরুত্বপূর্ণ ভারসাম্য নষ্ট করা এবং আমল আন্দোলনের সাথে বিভেদ সৃষ্টির প্রকল্প।

তিনি বলেন, “৪২ বছরের অভিজ্ঞতায় আমরা ইসরায়েলের সব পরিকল্পনা ব্যর্থ করে দিয়েছি। ইসরায়েল দখলদারি করেছে, কিন্তু কতদিন চালিয়ে যেতে পারবে? লেবানন সরকার প্রতিরোধের কারণে সফল হয়েছে, আর সিরিয়ায় প্রতিরোধ না থাকায় ব্যর্থ হয়েছে। লেবানন বিনা মূল্যে ছাড় দিয়েছে কিন্তু ইসরায়েল কোনো ছাড় দেয়নি। চুক্তির এক বছর পার হয়ে গেছে, লেবানন ছাড় দিচ্ছে কিন্তু ইসরায়েল থামছে না।”

হিজবুল্লাহ মহাসচিব বলেন, প্রতিরোধ ও লেবানন যুদ্ধবিরতি মেনে চলছে কিন্তু ইসরায়েল লেবাননের বিরুদ্ধে কর্মকাণ্ড অব্যাহত রেখেছে। “এখন থেকে আমাদের কাছে আর কিছু চাওয়া হবে না। ইসরায়েল তার প্রতিশ্রুতি পালন না করা পর্যন্ত লেবানন কোনো স্তরে কোনো পদক্ষেপ নিতে বাধ্য নয়। লেবানন ইসরায়েলের পুলিশ বা জেন্ডারম হবে না। আমরা প্রতিরক্ষা ও প্রতিরোধ অব্যাহত রাখব এবং লক্ষ্য অর্জন করব কারণ আমরা এ দেশের মালিক এবং ন্যায়ের দাবিদার। হামলা বন্ধ হতে হবে এবং ইসরায়েল পিছু হটতে হবে।”

তিনি জোর দিয়ে বলেন, আকাশ, স্থল ও সমুদ্রপথে হামলা বন্ধ করতে হবে, দখলদারদের পুরোপুরি প্রত্যাহার করতে হবে, বন্দিদের মুক্তি দিতে হবে এবং দক্ষিণ লেবাননের পুনর্গঠন শুরু করতে হবে।

হিজবুল্লাহ ও আমল আন্দোলনের মধ্যে সম্পর্কের প্রশংসা করে তিনি বলেন, দুই দলের সম্পর্ক অটুট এবং একই হাতের মতো। “আমরা পিছু হটব না, আত্মসমর্পণ করব না। দক্ষিণ লেবানন হারালে আর লেবানন থাকবে না। সব লেবাননবাসীরই এর প্রতিরক্ষা নিয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে। শত্রু যেন চুক্তি বাস্তবায়ন করুক এবং লঙ্ঘন বন্ধ করুক; তারপর আমরা লেবাননের স্বার্থে জাতীয় নিরাপত্তা কৌশল নিয়ে আলোচনা করব। হিজবুল্লাহ ও প্রতিরোধ হিসেবে আমরা সম্মানিত, শক্তিশালী ও সাহসী থাকব।” 4325537#

captcha