
আল-জাজিরার বরাত দিয়ে ইকনা জানায়, গাজা উপত্যকায় এক ফিলিস্তিনি পরিবার ধ্বংসস্তূপের মধ্যে নিজেদের জন্য কোনোমতে আশ্রয় তৈরির চেষ্টা করছে। তারা একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত মসজিদ ছাড়া অন্য কোনো আশ্রয় খুঁজে পায়নি। এই পরিবারটি মসজিদের ফাটল ধরা দেয়ালের মধ্যে আশ্রয় নিয়েছে।
আল-জাজিরার সংবাদদাতা ধ্বংসপ্রাপ্ত এই মসজিদের ভেতর থেকে বাস্তুহারা পরিবারগুলোর করুণ বাস্তবতার একটি হৃদয়বিদারক চিত্র তুলে ধরেছেন। যুদ্ধের কারণে এই ভবনগুলো আর বসবাসের উপযোগী নেই, তবু পরিবারগুলো বাধ্য হয়ে এখানে থাকছে।
দাউদ পরিবার বোমাবর্ষণে ভেঙে পড়া স্তম্ভ ও জানালার কাচের টুকরোর মধ্যে বসবাস করছে। বৃষ্টির পানি ও ঠান্ডা হাওয়া সবদিক থেকে ঢুকে আসছে। সংবাদদাতা বলেন, পরিবারগুলো চামড়ার টুকরো ও প্লাস্টিকের চাদর দিয়ে যতটা সম্ভব ফাঁক বন্ধ করার চেষ্টা করছে। কিন্তু কখনো কখনো বন্যার মতো পানি এসে মসজিদের মেঝেকে কাদামাটির পুকুরে পরিণত করে দেয়। রাতে শিশুরা শীতে কাঁপতে থাকে।
তীব্র শীতের যন্ত্রণা পরিবারের প্রধান আবু মুসআব দাউদ এই দৃশ্যকে কষ্টের সাথে বর্ণনা করে বলেন: আমরা ঝড়ো হাওয়া ও তীব্র শীতের মধ্যে বাস করছি। সব বাচ্চারা জমে যাচ্ছে, আমরা অসহায়। আমরা ছয়জনের পরিবার। বৃষ্টি হলেই পানি ঢুকে পড়ে, আমরা পানির নিচে চলে যাই। আমি জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী সংস্থা (UNRWA)-তে কাজ করি, তবু আমার পরিবারের চাহিদা পূরণ করতে পারছি না।
পরিবারের মা উম্মে মুসআব বৃষ্টির তীব্রতার সময় পরিবার যে আতঙ্কের মধ্য দিয়ে যায় তা বর্ণনা করে বলেন: বৃষ্টি হলেই পানি ঢুকে পড়ে। বাচ্চারা ভয়ে আমার চারপাশে জড়ো হয়ে জিজ্ঞাসা করে—কী হচ্ছে? আমি তাদের শান্ত করার চেষ্টা করি, কিন্তু আমাদের চাদর বা অন্য কোনো আশ্রয় দরকার। জানালা ভেঙে গেছে, কাপড় ও জিনিসপত্র সব ভিজে গেছে। দেয়াল ফেটে গেছে, যতই পরিষ্কার করি পানি আবার ঢুকে পড়ে। এটা জীবন নয়, তবু আমরা বলি—আলহামদুলিল্লাহ।
মা আরও বলেন, এক রাতে যে প্লাস্টিকের আচ্ছাদনের ওপর তারা নির্ভর করছিল তা ভেঙে পড়ে। তারা ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির মধ্যে কোনো আশ্রয় ছাড়া পড়ে যায়। শেষ পর্যন্ত তারা আবার এই ধ্বংসপ্রাপ্ত মসজিদে ফিরে আসে।
পরিবারের মেয়ে হুদা দাউদ বলেন: আমাদের কাপড় নেই, এই জায়গা পুরোপুরি বসবাসের অযোগ্য। বৃষ্টি হলেই বাচ্চাদের জাগিয়ে নিয়ে পালাতে হয়। যথেষ্ট কাপড় নেই, আমি উচ্চ রক্তচাপে ভুগছি। বাচ্চারা ভয় পেয়ে যায়, শীত অসহ্য।
পরিবারের কিশোরী মেয়ে লিয়ান বলেন: আমি খুব ঠান্ডা অনুভব করছি। বৃষ্টি হলে আমাদের কোনো কাপড় বা মোজা নেই।
উম্মে মুসআব জানান, যুদ্ধের শুরুতে লিয়ানের পায়ে পুড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। পর্যাপ্ত চিকিৎসা পায়নি। পরিবারের অন্যান্য জরুরি বিষয়ের কারণে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে অস্বীকার করা হয়। এখন এই শিশু পোড়া ক্ষতের যন্ত্রণা ও শীতের কষ্টে ভুগছে, তার বিছানা পুরোপুরি বৃষ্টির পানিতে ভিজে গেছে।
আবু মুসআব শেষে বলেন: আমরা দোয়া করি আল্লাহ আমাদের শান্তি দান করুন। আমরা রাফাহ, জায়তুন এলাকা ও খান ইউনিসে আমাদের ঘরে ফিরে যেতে চাই। প্রতিদিনের চাপ ও সমস্যায় আমরা ক্লান্ত হয়ে গেছি। আমাদের একমাত্র আকাঙ্ক্ষা ঘরে ফেরা।4325922#