
তিনি হিন্দু দম্পতিদের আহ্বান জানিয়েছেন, সন্তান সংখ্যা অন্তত দুই বা তিন করে রাখুন, যাতে ভবিষ্যতে তাদের পরিবার ও সম্পদের দেখভাল করা যায়। অন্যদিকে, সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেছেন, তারা সাত-আট সন্তান নেওয়ার চেষ্টা না করুক। মুখ্যমন্ত্রীর এই মন্তব্য সামাজিক ও রাজনৈতিক ক্ষেত্রে নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে হিমন্ত শর্মা বলেন, আসামের সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এলাকায় জন্মহার স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি, আর হিন্দুদের মধ্যে জন্মহার আশঙ্কাজনকভাবে কম। তিনি সতর্ক করে বলেন, হিন্দুদের সন্তান সংখ্যা না বাড়ালে ভবিষ্যতে তাদের পরিবার ও সম্পদের যত্ন নেওয়ার মতো কেউ থাকবে না। তিনি আরও উল্লেখ করেন, আসামের জনমিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী পরিসংখ্যান তুলে ধরে বলেন, ২০২৭ সালের আদমশুমারিতে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মুসলমানদের জনসংখ্যা ৪০ শতাংশে পৌঁছাতে পারে। তিনি দাবি করেন, এক সময় তাদের অংশ মাত্র ২১ শতাংশ ছিল, যা ২০১১ সালে বেড়ে ৩১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন, অদূর ভবিষ্যতে ভূমিপুত্র অসমীয়াদের জনসংখ্যা ৩৫ শতাংশের নিচে নেমে যেতে পারে এবং বাংলাদেশ থেকে আসা মানুষের প্রভাব রাজ্যজুড়ে ছড়িয়ে পড়বে।
হিমন্ত শর্মা এই জনসংখ্যা বৃদ্ধিকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বাংলাদেশ প্রায়ই দাবি করে, উত্তর-পূর্ব ভারত আলাদা হয়ে তাদের সঙ্গে যুক্ত হওয়া উচিত। মুখ্যমন্ত্রীর মতে, জনসংখ্যা ৫০ শতাংশ পেরোলেই এটি স্বাভাবিকভাবে সম্ভব হবে। এছাড়া তিনি বিরোধী দল কংগ্রেসকেও লক্ষ্য করে অভিযোগ করেন, তাদের মধ্যে মুসলিমদের জন্য ৪৮টি আসন সংরক্ষণের দাবি উঠছে এবং দলটি পুরোপুরি সংখ্যালঘু ভোটের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে।