
আল-মাওকেয়ের বরাত দিয়ে ইকনা জানায়, আল-আজহারের চরমপন্থা-বিরোধী পর্যবেক্ষক ইউরোপীয় ইউনিয়নের মৌলিক অধিকার সংস্থা (FRA)-এর সাম্প্রতিক প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্য করেছে। প্রতিবেদনে দেখা যায়, ২০২৫ সালে ইউরোপে ইসলামবিদ্বেষের ঘটনা উল্লেখযোগ্য ও বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
পর্যবেক্ষক সংস্থা জোর দিয়ে বলেছে, মুসলিমদের বিরুদ্ধে বর্ণবাদ এখন আর কয়েকটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়—এটি রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমের প্রতিষ্ঠানগুলোতে গভীরভাবে প্রোথিত হয়ে গেছে। এটি ইউরোপীয় মূল্যবোধের নৈতিক বিশ্বাসযোগ্যতার ক্ষয়ের প্রমাণ।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নে মুসলিমদের মধ্যে ৪৭ শতাংশ সরাসরি বৈষম্যের শিকার হয়েছেন—যা ২০২৪ সালে ছিল ৩৯ শতাংশ।
ফিনল্যান্ডে কর্মক্ষেত্রে মুসলিমদের বিরুদ্ধে সবচেয়ে বেশি বৈষম্যের হার ৬৩ শতাংশ। অস্ট্রিয়ায় ঘৃণামূলক অপরাধের সংখ্যা ১৫০০-এ পৌঁছেছে—যা ২০১৫ সালের পর সর্বোচ্চ।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মুসলিম নারীরা—বিশেষ করে হিজাবধারী নারীরা—কর্মক্ষেত্রে বৈষম্য ও বহিষ্কারের সবচেয়ে বেশি শিকার। তথ্য দেখায়, মুসলিম অভিবাসীদের মধ্যে ৩১ শতাংশ সাধারণ বৈষম্যের শিকার হয়েছেন এবং ৭৪.৮২ শতাংশ বাসস্থান খোঁজার সময় বৈষম্যের মুখোমুখি হয়েছেন।
স্পেনের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, মুসলিম অভিবাসীরা দেশের অর্থনৈতিক সমস্যার কারণ বলে যে দাবি করা হয় তা মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে। তারা সামাজিক নিরাপত্তা আয়ের ১০ শতাংশ যোগান দেন, অথচ মাত্র ১ শতাংশ খরচ গ্রহণ করেন।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে ইসলামবিদ্বেষের সংজ্ঞায় রাজনৈতিক অচলাবস্থার কারণে ঘৃণামূলক ঘটনা অভূতপূর্ব হারে বেড়েছে। ফ্রান্সে ধর্মনিরপেক্ষতার আড়ালে মসজিদে হামলা বৃদ্ধি পেয়েছে। জার্মানিতে অভিবাসনকে নিরাপত্তার সাথে যুক্ত করা হচ্ছে এবং ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে। ডেনমার্ক ও অস্ট্রিয়ায় বর্ণবাদ এখন আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে স্বাভাবিক হয়ে গেছে।
এই প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় আল-আজহারের পর্যবেক্ষক সংস্থা বলেছে, এই পরিসংখ্যান মুসলিমদের বিরুদ্ধে বৈষম্যের প্রাতিষ্ঠানিক রূপ নেওয়ার গুরুতর সতর্কবার্তা।
এজন্য আল-আজহার পর্যবেক্ষক সংস্থা “প্রাতিষ্ঠানিক বর্ণবাদ”কে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়া এবং ইসলামবিদ্বেষকে অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করে বাধ্যতামূলক আইন প্রণয়নের ওপর জোর দিয়েছে।4326241#