IQNA

ধর্মের লক্ষ্য পুনরুজ্জীবিত করার জন্য একটি ঐতিহাসিক বিদ্রোহ

22:36 - August 01, 2022
সংবাদ: 3472218
তেহরান (ইকনা): ইসলামের ইতিহাসের একটি মাইলফলক বিষয় হল হজের মাঝখানে নবী মুহাম্মদ (সা.)-এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র যে কাজটি শুরু করেছিলেন এবং তারই ধারাবাহিকতায় তিনি একটি রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিদ্রোহের অভিপ্রায়ে ইরাকের দিকে অগ্রসর হন। একটি কর্ম যা বিদ্রোহীদের শাহাদাতের দিকে পরিচালিত করেছিল, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মুনাফিক শাসকদের বিরুদ্ধে ইসলামের সত্য পথকে ইতিহাসে লিপিবদ্ধ ও অমর করে রেখেছে।

৩০শে জুলাই মহররম মাসের শুরুর মাধ্যমে হিজরি সালের নতুন বছর শুরু হয়েছে। মহররম মাস একটি আশ্চর্যজনক ঘটনার স্মরণ করিয়ে দেয় যা ইসলামের ইতিহাসে অন্যতম মাইলফলক হিসাবে বিবেচিত হয়। হযরত মুহাম্মদ (সা.)এর প্রাণপ্রিয় দৌহিত্র ইমাম হুসাইন (আ.), যিনি বিপ্লবী ধর্মের মডেল, রাজনৈতিক ও ধর্মীয় বিদ্রোহের অভিপ্রায়ে হজ্জের মৌসুমে মক্কা থেকে কুফা (ইরাকের অন্যতম শহর) চলে যান।
এই সংক্ষিপ্ত বিবরণটি মনে অনেক বড় প্রশ্ন তৈরি করে: হজের অনুষ্ঠানের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য কী ছিল? নবীজির (সা.) ওফাতের মাত্র ৫০ বছর পর (৬৮০ খ্রিস্টাব্দে) তারই উম্মত ও হুকুমতের মধ্যে কী ধরনের বিচ্যুতি তৈরি হয়েছিল যর ফলে বেহেস্তের যুবকদের সর্দার (একটি অভিব্যক্তি যা নবী করিম (সা.) ইমাম হুসাইন (আ.) সম্পর্কে ব্যবহার করেছিলেন) মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বিদ্রোহ করেছিলেন?
এই প্রশ্নগুলি দেখায় যে আমরা কত বড় ঘটনার সম্মুখীন হচ্ছি। মহররমের দশম দিনে "আশুরা"র ঘটনার সাথে একটি ঘটনা আমাদের আরও বিস্ময় করে তোলে:
ইমাম হুসাইন (আ.), যাকে সমস্ত মুসলমান তার ধার্মিকতা এবং ইসলামের প্রতি সত্য আনুগত্যের জন্য জানত, অত্যাচারী শাসকদের সামনে তার পরিবার এবং তার 72 জন সঙ্গী নিয়ে উপস্থিত হন এবং ৭২ জন সঙ্গী সহ তিনি শাহাদাত বরণ করেন। ঐতিহাসিক বর্ণনায় মাত্র এই কয়জন ব্যক্তি বিরুদ্ধে 10 হাজার থেকে 30 হাজার সেনা সেখানে যুদ্ধের জন্য উপস্থিত হয়। আর এই সকল সেনারা ইমাম হুসাইন (আ.)-এর সঙ্গীদেরকে নজিরবিহীন নিষ্ঠুরতার সাথে হত্যা করেছিল। ইসলামী ইতিহাসে দেখা যায় যে সর্বদা ইমাম হুসাইন (আ.)এর প্রতিটি সঙ্গীর শাহাদাতকে স্মরণ করে শোক পালন করা হচ্ছে।
বিদ্রোহ বা বিপ্লব কেন?
ইমাম হুসাইন (আ.) তার ওসিয়তে এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য বর্ণনা করেছেন। যেটি তিনি তার ভাই মুহাম্মদ বিন হানাফিয়াকে লিখেছিলেন যখন তিনি মদিনা ত্যাগ করেন এবং তার বিদায়ের সময় তিনি তার ঐতিহাসিক ওসিয়তনামাটি মুহাম্মদ বিন হানাফিয়ার কাছে রেখে যান।
«انی لم اخرج اشرا ولا بطرا ولا مفسدا ولا ظالما، وانما خرجت لطلب الاصلاح فی امة جدی محمد ارید ان آمر بالمعروف وانهی عن المنکر و اسیر بسیرة جدی محمد وابی علی بن ابی طالب...؛
আমি দুনিয়ার মর্যাদা ও সম্পদে পৌঁছানোর জন্য বিদ্রোহ করিনি, বরং আমি বিদ্রোহ করেছি ইসলামী সমাজে দুর্নীতি ও জুলুম-নির্যাতন প্রতিরোধ করার জন্য, আমি বিদ্রোহ করেছি ইসলামী সমাজের সংস্কারের জন্য। আমার নানা ও আমার পিতা আলী ইবনে আবি তালিব (আ.)এর পথে ভাল কাজ করার আদেশ এবং খারাপ কাজ থেকে নিষেধ করার জন্য আমি বিদ্রোহ করেছি।
ইমাম হুসাইন (আ.) হজের মৌসুমেও মক্কা নগরীতে বিভিন্ন ইসলামী অঞ্চলের আলেম ও অভিজাতদের দলের মধ্যে আবেগপূর্ণ এবং মূল্যবান বক্তৃতা দিয়েছিলেন। এসকল বক্তৃতায় তিনি উক্ত আলেম ও প্রবীণদের রক্ষা জন্য ভারী এবং গুরুতর দায়িত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছিলেন। মুসলমানদের ধর্ম ও বিশ্বাসের সারমর্ম এবং ফলাফল উমাইয়াদের (তৎকালীন ইসলামী ভূমির শাসক) অপরাধের বিরুদ্ধে নীরবতা উমাইয়া শাসকদের ধর্মীয় ও বিপথগামী নীতির বিরুদ্ধে তাদের নীরবতার সমালোচনা করেন। বক্তৃতা শেষে হযরত ইমাম হুসাইন (আ.) অত্যাচারী শাসক ব্যবস্থার বিরুদ্ধে তাঁর কর্ম ও তৎপরতার উদ্দেশ্য ঘোষণা করেন, যা কয়েক বছর পর আন্দোলনের আকারে প্রকাশ পায়:
... اللهم انک تعلم انه لم یکن ما کان منا تنافسا فی سلطان، ولا التماسا من فضول الحطام، ولکن لنری (لنرد) المعالم من دینک، و تظهر الاصلاح فی بلادک، ویامن المظلومون من عبادک، ویعمل بفرائضک و سننک واحکامک...
“হে আল্লাহ, আপনি জানেন যে আমরা যা করেছি (যেমন উমাইয়া শাসকদের বিরুদ্ধে কথা বলা এবং কাজ করা) তা শাসন করার ক্ষেত্রে প্রতিযোগিতা এবং অগ্রগতির কারণে নয় এবং পৃথিবীর তুচ্ছ সম্পদ প্রত্যাশায় নয়; বরং এটা হচ্ছে আপনার দ্বীনের নিদর্শনসমূহ (মানুষকে) দেখাতে (প্রতিষ্ঠা করতে) এবং গোটা বিশ্বের সংস্কার করতে। আমরা চাই আপনার নির্যাতিত বান্দারা নিরাপদ থাকুক এবং আপনার ফরজ এবং সুন্নত কর্মসমূহ ও আদেশ-নিষেধ মেনে চলুক।"
উপরের এই বাক্যে লক্ষ্য করলে আপনি ইমাম হুসাইন (আ.)-এর চারটি প্রধান লক্ষ্য বুঝতে পারবেন, তিনি কেন ইয়াজিদের শাসনামলে গণজাগরণের জন্য যে কর্ম ও তৎপরতা চালিয়েছিলেন:
১। বিশ্ববাসীর হেদায়েতের জন্য হযরত মুহাম্মাদ (সা.) যে ইসলাম ধর্ম কায়েম করেছেন তা পুনরুজ্জীবিত করা;
২। ইসলামী ভূখণ্ডের জনগণের অবস্থার সংস্কার ও উন্নতি করা;
৩। নিপীড়িত মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা;
৪। ঐশ্বরিক আদেশ এবং বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়নের জন্য একটি উপযুক্ত প্ল্যাটফর্ম প্রদান করা।

নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
captcha