IQNA

কুরআনে বিভিন্ন ব্যক্তিদের চরিত্র – ৯

হযরত নূহ (আ.)এর সময়ে সর্ব প্রথম আসমানী শাস্তি নাযিল হয়

15:47 - September 27, 2022
সংবাদ: 3472540
তেহরান (ইকনা): মানবজাতির ইতিহাস জুড়ে পাপী বান্দাদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে বিভিন্ন যন্ত্রণা ও শাস্তি নাযিল হয়েছে। তন্মধ্যে প্রথম আসমানী শাস্তি হল হযরত নূহ (আ.)এর সময়ে সংঘটিত হয়েছে। সে সময় ঝড় ও বন্যা হয়েছিল এবং যারা আল্লাহর নবীকে রক্ষাকারী এবং হেদায়েতকারী হিসেবে বিশ্বাস করেনি তারা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।

হযরত নূহ (আ.) হলেন উলুল আজমের প্রথম নবী (৫ জন বিশেষ নবীর একজন)। রেওয়াতে বর্ণিত হয়েছে, হযরত নূহ (আ.) হচ্ছেন হযরত আদম (আ.)এর বংশের নবম পুত্র।

তাঁর জন্মকাল নিয়ে বিতর্ক আছে; কোনো কোনো সূত্রে তাঁর জন্ম হযরত আদম (আ.)-এর মৃত্যুর একই সময়ে উল্লেখ করা হয়েছে এবং কোনো কোনো মতে তাঁর জন্মস্থান হচ্ছে মেসোপটেমিয়া এবং কুফা শহরে। হযরত নূহ (আ.)এর জন্য উল্লিখিত বৈশিষ্ট্যগুলির মধ্যে একটি হল আল্লাহর নেয়ামতের প্রতি তাঁর কৃতজ্ঞতা।
হযরত নূহ (আ.) হলেন বর্তমান প্রজন্মের মানুষের দ্বিতীয় পিতা এবং তাঁর পূর্ববর্তী হযরত আদম (আ.) ও হযরত ইদ্রিস (আ.) ব্যতীত অন্যান্য আসমানী নবীদের সম্পর্ক তাঁর দিকে পরিচালিত করে।
তাঁর স্ত্রীর নাম ছিল ‘ওয়ালিয়াহ’। বিভিন্ন তাফসির ও ইতিহাস গ্রন্থে বর্ণিত হয়েছে যে, হযরত, নূহের (আ.) হাম, সাম, ইয়াফেছ এবং কানয়ান নামে চারটি পুত্র ছিল।
হযরত আদম (আ.), হযরত শীশ (আ.) এবং হযরত ইদ্রিসের (আ.) পরে হযরত নূহকে (আ.) চতুর্থ নবী হিসাবে বিবেচনা করা হয়। হযরত আদমের (আ.), পর মানুষ একেশ্বরবাদের ধর্মে ঐক্যবদ্ধ হয়ে সহজ-সরল জীবন যাপন করলেও অহংকার, নিষ্ঠুরতা ও হিংসা মানুষের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে এবং তাদেরকে হেদায়েতের পথ থেকে দূরে সরিয়ে দেয়। বহু-ঈশ্বরবাদ ও মূর্তিপূজা ছড়িয়ে পড়ে এবং মহান আল্লাহ হযরত নূহকে (আ.) নবী হিসেবে মানুষের কাছে পাঠিয়েছিলেন। ৯৫০ বছর ধরে, সেই নবী তাঁর গোত্রের লোকদের একেশ্বরবাদের দিকে আহ্বান জানাতে এবং মূর্তিপূজা ত্যাগ করাতে ব্যস্ত ছিলেন, কিন্তু কিছু লোক ব্যতীত বাকীরা তাঁকে বিশ্বাস করেনি; এরপর মহান আল্লাহ হযরত নূহকে (আ.) একটি জাহাজ তৈরির নির্দেশ দিলেন।
হযরত নূহকে (আ.) পেশায় একজন কাঠমিস্ত্রি ছিলেন; যদিও নুহের আগে কাঠমিস্ত্রির অস্তিত্ব ছিল, কিন্তু মহান আল্লাহর নির্দেশে তাঁর মাধ্যমে একটি জাহাজ নির্মাণ প্রথমবারের মতো ঘটেছিল, এবং তাও জল থেকে দূরে একটি জায়গায়।
এর ফলে হযরত নূহকে (আ.) বিশ্বাস করে না এমন অনেক লোক তাকে উপহাস করেছিল। তাঁর স্ত্রী ও সন্তান কানয়ান উপহাসকারীদের মধ্যে ছিল।
জাহাজের নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর, আল্লাহর আদেশে, হযরত নূহ (আ.) তাঁর পরিবারকে এবং যারা নূহকে বিশ্বাস করেছিল তাদের জাহাজে উঠতে বললেন। জোড়ায় জোড়ায় বিভিন্ন প্রাণীরাও জাহাজে আশ্রয় নিল। হঠাৎ একটি বড় ঝড় এবং তারপর একটি প্রবল বন্যা হল এবং শুধুমাত্র যারা হযতর নূহ (আ.) এবং তাঁর সংরক্ষণ জাহাজে বিশ্বাস করেছিল তারা এই বন্যার হাত থেকে রক্ষা পেল এবং জীবিত ছিল। হযতর নূহ (আ.)এর পুত্র কানায়ানও এই বন্যায় মারা যায়।
অবশেষে, ঐশ্বরিক শাস্তির অবসান ঘটে এবং নূহের জাহাজ জুদি পর্বতে (বর্তমান তুরস্কের দক্ষিণ-পূর্বে) নোঙ্গর করে। হযতর নূহ (আ.) হলেন প্রথম নবী যার সময়ে আসমানী শাস্তি অবতীর্ণ হয়েছিল।
বন্যার পর হযরত নূহের (আ.) ব্যাপারে কোন তথ্য বর্ণিত হয়নি। কিছু ইতিহাসবিদ এই ঘটনার পর ৭০ থেকে ৬০০ বছর পর্যন্ত হযরত নূহের (আ.) জীবিত ছিলেন বলে উল্লেখ করেছেন। সাধারণভাবে, তাওরাত সহ ঐতিহাসিক সূত্রে হযরত নূহের (আ.) জীবনকাল ৯৩০ বছর থেকে ২৫০০ বছর পর্যন্ত উল্লেখ করা হয়েছে।
তাঁর মৃত্যুর তারিখ এবং তাঁর দাফন স্থান নিয়েও বিতর্ক রয়েছে, তবে সংবাদ এবং ইতিহাস অনুসারে হযরত নূহ (আ.)-এর কবর ইরাকের নাজাফ শহরে ইমাম আলী (আ.)-এর কবরের পাশে অবস্থিত। তবে ইরাকের মসুল, আজারবাইজানের নাখচিভান, ভারতের মাউন্ট বোজার, সৌদি আরবের মক্কা, ইরাকের কুফা, লেবাননের বালবেক, ফিলিস্তিনের কুদস এবং ইরানের হামেদানের মতো স্থানগুলোকেও নূহের সমাধিস্থল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট খবর
নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
captcha