IQNA

বিশ্লেষণধর্মী নিবন্ধ

মুমিনদের প্রতিরক্ষা ঢাল: ভয়াবহ হুমকির মুখে অটল ইচ্ছাশক্তি

12:42 - January 30, 2026
সংবাদ: 3478811
ইকনা- এই বিশ্লেষণধর্মী লেখায় শত্রুর ভয় সৃষ্টির কৌশলের মোকাবিলায় সর্বোচ্চ নেতার কৌশলগত বক্তব্য—বিশেষত ঐতিহাসিক উহুদের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে—এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী “আব্রাহাম লিংকন” প্রবেশের একটি কাল্পনিক দৃশ্যপটের তুলনামূলক আলোচনা করা হয়েছে।

এই বিশ্লেষণধর্মী লেখায় শত্রুর ভয় সৃষ্টির কৌশলের মোকাবিলায় সর্বোচ্চ নেতার কৌশলগত বক্তব্য—বিশেষত ঐতিহাসিক উহুদের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে—এবং ট্রাম্প প্রশাসনের সময়ে মার্কিন বিমানবাহী রণতরী “আব্রাহাম লিংকন” প্রবেশের একটি কাল্পনিক দৃশ্যপটের তুলনামূলক আলোচনা করা হয়েছে।

এই লেখার মূল লক্ষ্য হলো—বিদেশি সামরিক হুমকি মূলত একটি মানসিক সংকেত, যার উদ্দেশ্য জাতির সম্মিলিত ইচ্ছাশক্তিকে দুর্বল করা। এ ধরনের হুমকির কার্যকর জবাব দিতে হলে ঈমানি নীতির ওপর দৃঢ়তা এবং বাস্তব ও সক্রিয় পদক্ষেপ অপরিহার্য।

১. ঈমানি ও ঐতিহাসিক ভিত্তি: উহুদের আদর্শ

সর্বোচ্চ নেতার বক্তব্য (উদ্ধৃতি: ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৯) অনুযায়ী, শত্রুর মোকাবিলায় তিনটি মৌলিক নীতি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয়েছে—

ক. শত্রুর প্রকৃতি ও ভয় সঞ্চারের কৌশল
শত্রুর প্রধান কৌশল হলো ভয়, আতঙ্ক ও হতাশা ছড়িয়ে দেওয়া—যা এক ধরনের শয়তানি ও চিরাচরিত পদ্ধতি। বিদেশি সামরিক হুমকি বাস্তব যুদ্ধের চেয়ে বেশি মানসিক ফাটল সৃষ্টির চেষ্টা, যাতে সমাজের সম্মিলিত মনোবল ভেঙে পড়ে।

খ. ঈমানি নির্দেশনা: সৃষ্টিকে নয়, আল্লাহকেই ভয়
মুমিনদের জন্য নির্দেশ হলো—শয়তানি শক্তিকে ভয় না করে শুধুমাত্র সত্যের পথ থেকে বিচ্যুতিকে ভয় করা। কোরআনে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে:
“তাদের ভয় করো না, যদি তোমরা মুমিন হও তবে আমাকেই ভয় করো।”
এই নীতিই বিদেশি চাপের মুখে প্রতিক্রিয়ার মানদণ্ড নির্ধারণ করে।

গ. সক্রিয় উপস্থিতি ও কৌশলগত পিছু হটা নিষিদ্ধ
উহুদের শিক্ষা হলো—আঘাত পাওয়ার পরও কৌশলগতভাবে পিছু হটা বৈধ নয়। তীরন্দাজদের অবস্থান ত্যাগের ফলে মুসলমানরা ক্ষতিগ্রস্ত হলেও পুনরায় ময়দানে ফিরে এসে প্রতিরোধ চালিয়ে যাওয়া ছিল অপরিহার্য কর্তব্য।

ঘ. আধুনিক ভয় সৃষ্টির উপকরণ
আজকের যুগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যম শয়তানের কাজকে নতুন রূপে বাস্তবায়ন করছে। শত্রুর শক্তিকে অতিরঞ্জিত করা বা দেশের সক্ষমতাকে খাটো করে দেখানো এই মানসিক আগ্রাসনের অংশ।

২. বাস্তব প্রয়োগ: ‘লিংকন’ রণতরী—আধুনিক প্রলোভনকারী

‘আব্রাহাম লিংকন’ রণতরীর আগমন ছিল জোরপূর্বক কূটনীতির প্রতীক এবং একটি স্পষ্ট মানসিক বার্তা। পারস্য উপসাগরে একটি শক্তিশালী নৌবহর উপস্থিত করে এমন ধারণা দেওয়া হয় যে, ইরান নাকি প্রতিরোধের সক্ষমতা হারিয়েছে এবং প্রতিরোধের মূল্য অত্যধিক।

প্রতিক্রিয়ার কৌশল: কার্যকর ঈমান
ইরানের জবাব হওয়া উচিত শক্তিশালী ঈমানের প্রতিফলন, মাঠে সক্রিয় উপস্থিতি এবং প্রয়োজনীয় বাস্তব পদক্ষেপ—যাতে কোনো ধরনের কৌশলগত পিছু হটা পরাজয় হিসেবে বিবেচিত না হয়।

এই প্রেক্ষাপটে কেবল সামরিক শক্তির হিসাব যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন ঈমানি হিসাব। শত্রু যদি ভয় তৈরির জন্য রণতরী পাঠায়, তবে তার জবাব হতে হবে বাস্তব প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং মানসিক অটলতা প্রদর্শন।

মানসিক চাপ মোকাবিলার সূত্র

এই মানসিক আগ্রাসন সফলভাবে মোকাবিলা করতে পারলে জাতির ইচ্ছাশক্তি আরও দৃঢ় হয় এবং প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। তখন শত্রু উপলব্ধি করে যে, তার মূল কৌশল—ভয় সৃষ্টি—কার্যকারিতা হারিয়েছে।

উপসংহার ও আশাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি

বিদেশি সামরিক হুমকির মোকাবিলার কৌশল হলো এর মানসিক প্রকৃতি অনুধাবন করা এবং সক্রিয় প্রতিরোধে অবিচল থাকা—ভয়ের কাছে আত্মসমর্পণ নয়।

যেমন উহুদের যুদ্ধে আঘাতের পরও দৃঢ়তা বিজয়ের পথ তৈরি করেছিল, তেমনি আজকের সমন্বিত যুদ্ধেও মনোবল ধরে রাখা ও সঠিক পথে অব্যাহত থাকাই সাফল্যের চাবিকাঠি। এই মানসিক চাপ সফলভাবে সামলাতে পারলে নিকট ভবিষ্যতে জনগণের অন্তরে সেই প্রতিশ্রুত বিজয়ের অনুভূতি বাস্তবায়িত হবে—যেখানে ইচ্ছাশক্তি ভয়কে পরাস্ত করবে। 4331067#

captcha