সংবাদমাধ্যমের খবরে জানা গেছে, ইমাম হুসাইন (আ.)–এর জন্মবার্ষিকীর সঙ্গে মিল রেখে এই উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ইরাকসহ বিভিন্ন দেশের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, প্রতিনিধিদল এবং প্রতিষ্ঠান অংশ নেয়।
উৎসবের উদ্বোধনী বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপে উচ্চ ধর্মীয় মারজাইয়াতের প্রতিনিধি সাইয়্যেদ মুর্তজা কাশ্মিরি বলেন, কারবালা কেবল একটি ভৌগোলিক স্থান বা ঐতিহাসিক ঘটনা নয়; বরং এটি একটি জীবন্ত বার্তা, একটি আন্দোলন এবং একটি বৈশ্বিক মানবিক প্রকল্প।
তিনি বলেন, ইমাম হুসাইন (আ.) ও তাঁর পরিবারের শাহাদাত উম্মাহর ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মোড় পরিবর্তনের ঘটনা, যা সংস্কার, ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা এবং মানব মর্যাদার জন্য সংগ্রামের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত।
কাশ্মিরি আরও বলেন, কারবালা আজ একটি আধ্যাত্মিক, চিন্তাগত ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে আরবাঈনের মতো কোটিকোটি মানুষের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত জিয়ারত একটি সভ্যতামূলক ঘটনার রূপ নিয়েছে, যা হুসাইনি মূল্যবোধের প্রতি মানুষের গভীর অঙ্গীকার ও আনুগত্যের প্রতিফলন।
তিনি উল্লেখ করেন, কারবালা শিয়া, মুসলিম এমনকি অমুসলিম বিভিন্ন শ্রেণির মানুষকে ন্যায়বিচার ও মানবিক মর্যাদার অভিন্ন মূল্যবোধের ভিত্তিতে একত্রিত করে এবং মানবিক সংলাপ ও পারস্পরিক সহাবস্থানের একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে কাজ করে।
সাইয়্যেদ মুর্তজা কাশ্মিরি বলেন, হুসাইনি আন্দোলনের আদর্শকে শুধু স্মরণ ও আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ রাখা নয়, বরং সেগুলোকে দৈনন্দিন জীবনে বাস্তব রূপ দেওয়া—যেমন সামাজিক ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, অবিচারের বিরুদ্ধে অবস্থান এবং মানব মর্যাদা রক্ষা—অত্যন্ত জরুরি।
তিনি আরও বলেন, পবিত্র হুসাইনি ও আব্বাসি দরবার দুটি ঐক্যভিত্তিক বক্তব্য জোরদার করা এবং কারবালাকে একটি টেকসই মানবিক প্রকল্পে রূপান্তরের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে, বিশেষ করে সাংস্কৃতিক উদ্যোগ ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সংলাপের মাধ্যমে।
কাশ্মিরি শেখ আবদুল মাহদি আল-কারবালাঈর প্রশংসা করে বলেন, তিনি নিজের সময় ও জীবনকে ধর্ম, ঈমান এবং পবিত্র ইমাম হুসাইন (আ.)–এর দরবারের খেদমতে উৎসর্গ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, পোপের সঙ্গে উচ্চ ধর্মীয় মারজাইয়াতের সাক্ষাতের পর বিশ্বজুড়ে আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী হুসাইনি সিস্তানির প্রতি আগ্রহ বেড়েছে এবং এসব ঘটনার পর শিয়া পরিচয় বিশ্বমঞ্চে বিশেষ মনোযোগের কেন্দ্রে এসেছে। ফলে বিভিন্ন দেশের মানুষ শিয়ারা কারা এবং ধর্মীয় মারজাইয়াত কী—এসব বিষয়ে প্রশ্ন করতে শুরু করেছে।
উল্লেখ্য, ‘শাহাদাতের বসন্ত’ উৎসবের অংশ হিসেবে ২০তম আন্তর্জাতিক কারবালা বইমেলা এবং ইমাম হুসাইন (আ.)–এর জীবন ও শিক্ষা নিয়ে একাধিক বৈজ্ঞানিক ও গবেষণামূলক অধিবেশনও অনুষ্ঠিত হয়েছে।
https://iqna.ir/fa/news/4330010