‘আন-নাবা’র বরাত দিয়ে জানা যায়, কেন্দ্রটি সতর্ক করে বলেছে যে, বড় ধরনের ক্রীড়া ইভেন্টের সাথে সম্পর্কিত বৈষম্যমূলক ও বর্ণবাদী বক্তব্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণা ছড়ানোর মাধ্যমে অন্যদের বিরুদ্ধে উস্কানি দেওয়া হচ্ছে, যা সমাজে সহাবস্থান ও বহুত্ববাদের মূল্যবোধকে হুমকির মুখে ফেলছে এবং খেলাধুলাকে ঐক্যের পরিবর্তে বিভেদের হাতিয়ারে পরিণত করছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ঘৃণামূলক প্রবণতার মোকাবিলায় সরকার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্ম ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এর মাধ্যমে দায়িত্বশীল বক্তব্য প্রচার করতে হবে যাতে ক্রীড়া ইভেন্টগুলোকে জাতি বা ধর্মের ভিত্তিতে ঘৃণা ও বৈষম্য ছড়ানোর জন্য ব্যবহার করা না হয়।
প্রতিবেদনে স্পেনের রেসিজম ও জেনোফোবিয়া অবজারভেটরির তথ্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, জুন মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ৪০ হাজারেরও বেশি ঘৃণামূলক পোস্ট শনাক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে ক্রীড়া ইভেন্ট সম্পর্কিত পোস্ট ছিল ১৬ শতাংশ।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, উত্তর আফ্রিকার বংশোদ্ভূত ব্যক্তিরা ৮৮ শতাংশ ঘৃণামূলক কনটেন্টের লক্ষ্যবস্তু হয়েছেন। এরপর মুসলিমদের বিরুদ্ধে ১১ শতাংশ এবং আফ্রিকান বংশোদ্ভূতদের বিরুদ্ধে ৭ শতাংশ। অনেক পোস্টে অমানবিক ভাষা ব্যবহার করা হয়েছে এবং লক্ষ্যবস্তুকে সমাজের জন্য হুমকি হিসেবে চিত্রিত করা হয়েছে।
প্ল্যাটফর্মগুলোর প্রতিক্রিয়ায় টিকটক সবচেয়ে ভালো (৯৮ শতাংশ মুছে ফেলেছে), এরপর এক্স (৯৩ শতাংশ), ফেসবুক (৬২ শতাংশ) এবং ইনস্টাগ্রাম (৩২ শতাংশ)। ইউটিউব সবচেয়ে কম (৮ শতাংশ)।
আল-আজহারের পর্যবেক্ষণকেন্দ্র জোর দিয়ে বলেছে যে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘৃণা-প্রচারণার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নজরদারি ব্যবস্থা জোরদার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় বৈচিত্র্যের প্রতি সম্মানবোধ বাড়ানো অত্যন্ত জরুরি। এর মাধ্যমে খেলাধুলার আদর্শ রক্ষা করা সম্ভব হবে এবং সমাজে সহাবস্থানের মূল্যবোধ টিকিয়ে রাখা যাবে। 4365595#