IQNA

13:04 - January 14, 2017
4
সংবাদ: 2602362
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: বিশ্বের সকল কুরআন প্রেমীগণ অধ্যাপক আব্দুল বাসেত মুহাম্মাদ আব্দুস সামাদ'কে এক নামে চেনে। তার সুললিত কণ্ঠ কুরআন তিলাওয়াত করে তিনি সকলের মন জয় করেছেন। তিনি তার ঐশ্বরিক কণ্ঠস্বরে কুরআন তিলাওয়াত করে সকলকে আকৃষ্ট করেছেন।
আব্দুল বাসেতের অপ্রকাশিত কথা + ছবি

বার্তা সংস্থা ইকনা: কুরআনের অধ্যাপক আব্দুল বাসেত মুহাম্মাদ আব্দুস সামাদ কুরআন মাহফিলে অংশগ্রহণ করার জন্য বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সফর করেছেন।

গত বছরের ৩০শে নভেম্বরে মরহুম আব্দুল বাসেত মুহাম্মাদ আব্দুস সামাদের ২৮তম মৃত্যুবার্ষিকী ছিল। এই উপলক্ষে সেদেশের রাজধানী কায়রোর 'সাইয়্যেদা যায়নাব' এলাকার 'আমির তাজ' প্যালেসে কালচারাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের পক্ষ থেকে এক স্মরণ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে বিশ্ব বিখ্যাত এই ক্বারির সন্তানগণ এবং তার বন্ধুরা উপস্থিত ছিলেন।

উক্ত অনুষ্ঠানের প্রতিবেদন 'আল-বিওয়াবাতুল নিউজ'-এ প্রকাশ করেছে। প্রকাশিত রিপোর্টটি নিম্নে তুলে ধরা হলো:


পিতার সম্পর্কে সন্তানদের বক্তব্য:

এই অনুষ্ঠানে কুরআনের ক্বারি এবং অধ্যাপক আব্দুল বাসেত মুহাম্মাদ আব্দুস সামাদের দুই সন্তান –"শেখ ইয়াসির" এবং "তারেক আব্দুল বাসিত" উপস্থিত ছিলেন। আব্দুল বাসেত তার সন্তানদেরকেও কুরআন ক্বারি হিসেবে গড়ে তুলেছেন।

স্মরণ সভার শুরুতেই কুরআন তিলাওয়াত করেন আব্দুল বাসেতের ছেলে শেখ ইয়াসির। পরবর্তীতে অধ্যাপক আব্দুল বাসেতের জীবনীর আলোকে তথ্যচিত্র প্রচারিত হয়। তথ্যচিত্রের এক পর্যায়ে অমর এই ক্বারি সুললিত কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত পরিবেশন করা হয়। প্রসিদ্ধ এই ক্বারির মনোরম ও সুললিত কণ্ঠস্বর, প্রতিভাধর, তিলাওয়াতের সময় দীর্ঘ শ্বাস ও মনোযোগ সহকারে তিলাওয়াত এবং প্রশান্তির কারণে শ্রোতাদের অন্তরে সর্বক্ষণ জীবিত রয়েছেন।

আব্দুল বাসেত মিশরের আল-আকসার প্রদেশের আরমিন্ট শহরের নিকটে আল-মাযায়েযা গ্রামে ১৯২৭ সালে জন্মগ্রহণ করেছেন। তার জীবনের আলোকে প্রকাশিত ভিডিওতে বলা হয়েছে, তার প্রতিভা ও কুরআন মুখস্থ করার কৌশল, কুরআন শিক্ষার মকতবে শিক্ষকের মনোযোগ আকর্ষণ সম্পর্কে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়া হয়েছে। আব্দুল বাসেতের সুললিত কণ্ঠ ঠিক যেন নদীর পানির কলরব ধ্বনির মত প্রবাহিত হত।


পবিত্র কুরআনের জন্য ৩ কিলোমিটার পথ অতিক্রম

স্বর্গীয় কণ্ঠস্বরের অধিকারী আব্দুল বাসিত কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণের জন্য প্রতিদিন ৩ কিলোমিটার পথ পায়ে হেটে অতিক্রম করতেন। তার শৈশব কালে শুধুমাত্র মেয়রের বাড়ীতে একটি রেডিও ছিল। ঐ রেডিওতে তার প্রিয় ক্বারি 'শেখ মোহাম্মাদ রাফাতে'র কুরআন তিলাওয়াত শ্রবণের জন্য তিনি প্রতিদিন তিন কিলোমিটার পথ পায়ে হেটে মেয়রের বাড়ীতে যেতেন এবং ফেরার পথে মোহাম্মাদ রাফাতের অনুরূপ কুরআন তিলাওয়াত করতেন। তার সুমিষ্ট কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত শুনে গ্রামবাসীরা তাকে এত কম বয়সেই "শাইখ" বলে সম্বোধন করত।

আব্দুল বাসিত মাত্র ১০ বছরেই সম্পূর্ণ কুরআন হেফজ করেছেন। কুরআন তিলাওয়াত শেখার জন্য আল-মাতায়ানা গ্রামে তার শিক্ষক 'মোহাম্মাদ সালিম আল-মানশাভী'র মকতবে যেতেন। মোহাম্মাদ সালিম আল-মানশাভী অতি প্রসিদ্ধ একজন ক্বারি।

মিশরের রেডিওর সাবেক প্রধান 'ফাহমী আমর' বলেন: মিশরের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোস্তাফা নাহাস পাশা সাধারণত আসরের নামাজ কায়রোর সাইয়্যেদা যায়নাব (সা. আ.) মসজিদে আদায় করতেন এবং তখন আব্দুল বাসেত আসরের নামাজের পূর্বে উক্ত মসজিদের কুরআন তিলাওয়াত করতেন। ১৯৫১ সালের এক দিনে মিশরের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মোস্তাফা নাহাস পাশা নামাজ আদায় করার জন্য মসজিদে উপস্থিত হলে আব্দুল বাসেতের কুরআন তিলাওয়াত শুনে মুগ্ধ হন এবং তখন তার সাথে রেডিওর এক কর্মকর্তা ছিলেন। তাকে ডেকে নাহাস পাশা বললেন: এই ক্বারি কি রেডিওতে তিলাওয়াত করে? উত্তরে বলল: না জনাব, আমিও প্রথমবারের মত তার তিলাওয়াত শুনলাম। তখন প্রধানমন্ত্রী, আব্দুল বাসেতকে রেডিওয় কুরআন তিলাওয়াত করার জন্য নির্দেশ দিলেন।


শেখ ইয়াসির বর্ণনায় পিতা

শেখ ইয়াসির তার পিতা আব্দুল বাসেত সম্পর্কে বলেন: আব্দুল বাসিত কুরআন তিলাওয়াতের জন্য ভারতেও একবার সফর করেছেন। এক কুরআন মাহফিলে কুরআন তিলাওয়াত শেষ হওয়ার পর হোটেলে যাওয়ার জন্য গাড়িতে বসেছিলেন। কিন্তু হাজার হাজার মানুষ তার গাড়ীর চার পাশে থাকার কারণে তার গাড়ী দেখা যাচ্ছিল না। তার অনুরাগীদের ভালবাসা ও ভক্তি এত অধিক ছিল যে তারা খুশিতে গাড়ী উঁচু করতে চাচ্ছিল। ওস্তাদ এবং তার সাথে থাকা মিশরের রাবওয়াহ মন্ত্রণালয়ের কর্তৃপক্ষ দীর্ঘ সময় ধরে ভক্তদের মধ্যে ছিলেন।

আব্দুল বাসেতের অপ্রকাশিত কথা + ছবি

আব্দুল বাসেতের বড় ছেলে শেখ ইয়াসের


ভারতীয়দের আনন্দের অশ্রুজল এবং অধ্যাপকের বিস্ময়

একই সফলে ভারতের এক ধনী মুসলমানের আমন্ত্রণে আব্দুল বাসিত গিয়েছিলেন। তাকে দেখার জন্য ভারতের জনগণ পায়ের জুতা খুলে তার সম্মুখে উপস্থিত হয়েছিল। এমন ভাবে উপস্থিত হয়েছিল যেন নামাজ পড়ার জন্য সেখানে উপস্থিত হয়েছে। বিশ্বখ্যাত ওস্তাদের কুরআন তিলাওয়াত শুনে তারা মুগ্ধ হয়ে গেল এবং তাদের চক্ষুদ্বয় অশ্রুসিক্ত হল।


ওস্তাদ অশ্রু দ্বারা অশ্রুর জবাব দিলেন

ওস্তাদের কুরআন তিলাওয়াত শেষ হলে তিনি নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারেননি এবং দর্শকদের ভালবাসা এবং ভক্তি দেখে তিনিও ক্রন্দন করলেন। ঐ মাহফিলে উপস্থিত অধিকাংশ দর্শকই তাকে প্রথমবারের মত দর্শন করেছেন।


শেখ তারিক ভাষায় পিতার স্মৃতি

জেনারেল তারিক আব্দুল বাসেত তার পিতার ভ্রমণ সম্পর্কে বলেন: ওস্তাদ আব্দুল বাসেত আরবি দেশসমূহ, আফ্রিকা, ইউরোপ এবং আমেরিকা সহ বিশ্বের অনেক দেশে সফর করেছেন। ১৯৫৬ সালে দক্ষিণ আফ্রিকায় সংখ্যালঘু মুসলমানেরা ওস্তাদকে আমন্ত্রণ জানায়। কিন্তু তখন জাতিবিদ্বেষের কারণে কায়রো ও জোহানসবার্গের মধ্যে কোন কূটনৈতিক প্রতিনিধি উপস্থিত ছিল না। এ জন্য দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে সমস্যার সম্মুখীন হয়। অবশেষে ১৯৬৬ সালে দুই দেশের কর্তৃপক্ষের দীর্ঘ দেড় বছরের আলোচনার পর ওস্তাদ দক্ষিণ আফ্রিকার ভিসা পান এবং সেদেশের সফর করেন।

আব্দুল বাসেতের অপ্রকাশিত কথা + ছবি

আব্দুল বাসেতের ছোট ছেলে জেনারেল তারিক

আরবি ভাষার সাথে অপরিচিত অঞ্চলে ভ্রমণ এবং জনগণের ব্যাপক স্বাগত

শেখ তারিক আব্দুল বাসেত বলেন: যে সময়ে দুই দেশের মধ্যে কোন সরাসরি ফ্লাইট ছিল। ওস্তাদ কেনিয়ার রাজধানী নাইরোবিতে সফর করার জন্য প্লেনে উঠেছেন এবং ঐখান থেকে জোহানসবার্গে গিয়েছেন। এই শহরে প্রবেশের সময় জনগণ ওস্তাদকে ব্যাপকভাবে স্বাগত জানালো। অথচ ঐ শহরের জনগণ আরবি ভাষা জানতো না। ঐখানে ওস্তাদ প্রায় এক মাস অবস্থান করেছিলেন।

এসময় আব্দুল বাসেত জোহানসবার্গের", "কেপ টাউন" এবং "লেডি স্মিথ" সহ দক্ষিণ আফ্রিকায় বিভিন্ন শহরে সফর করেছেন। এই দেশের মুসলমানেরা অধ্যাপক আব্দুল বাসেতের সুললিত কণ্ঠে কুরআন তিলাওয়াত শুনে এবং তার তিলাওয়াতের অনন্য শৈলীর কারণে মুগ্ধ হয়েছেন। ওস্তাদের শৈলীতে কুরআন তিলাওয়াত এবং হেফজ করার জন্য তাদের সন্তানদের কাইরোয় পাঠানোর জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

আব্দুল বাসেতের অপ্রকাশিত কথা + ছবি


"মুহাম্মাদ রাসুলুল্লাহ (সা.)" চলচ্চিত্রে বেলালের আযানের ধ্বনি এবং ওস্তাদ আব্দুল বাসেত

আব্দুল বাসেতের ছেলে তারেক সর্বশেষে বলেন: "আল রিসালা" চলচ্চিত্রের পরিচালক মুস্তাফা আল-ইকাদের আমন্ত্রণে আব্দুল বাসেত প্যারিসে সফর করেছেন এবং ঐখানে যাতে জনগণের দৃষ্টিতে না পড়ে সেজন্য আল-আজহার প্রথাগত পোশাকের স্থানে কোট এবং প্যান্ট পরতেন। উক্ত চলচ্চিত্রে বিলাল ইবনে রাবাহ কণ্ঠের যে আযান প্রচার করা হয়েছে সেটি ওস্তাদের কণ্ঠ ছিল।

"মুহাম্মাদ রাসুলুল্লাহ (সা.)" নামের প্রসিদ্ধ "আল রিসালা" চলচ্চিত্রটি মুস্তাফা আল-ইকাদের পরিচালনা করেন। এই চলচ্চিত্রটি ১৯৭৬ সালে নির্মিত হয়েছে। এই চলচ্চিত্রে হযরত মুহাম্মাদ (সা.)এর নবুয়ত প্রাপ্তের সময় তথা ৪০ বছর থেকে ওফাত পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাসমূহ তুলে ধরা হয়েছে।

iqna

আব্দুল বাসেতের অপ্রকাশিত কথা + ছবি


প্রকাশিত: 4
পর্যালোচনা করা হচ্ছে: 0
প্রকাশযোগ্য নয়: 0
Habib Ullah
0
1
I'm so much Proud.
Ali Hussain Barbhuiya
8
6
মিশরের ক্বারী সাহেবগণ দাড়ি রাখেন না কেন ?
উত্তরসমূহ
Aktarul
কারী আব্দুল বাছিত দাড়ি রাখি নাই কেন
Aktar
4
4
কারী আব্দুল বাছিত দাড়ি রাখি নাই কেন
নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
* captcha: