IQNA

ইসরায়েলকে বাঁচাতে গিয়ে ইউরোপের সবচেয়ে বড় শো 'ইউরোভিশন' হুমকির মুখে

6:35 - December 09, 2025
সংবাদ: 3478577
ইকনা-  স্পেন, নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড ও স্লোভেনিয়া গাজায় ইসরাইলের যুদ্ধাপরাধের প্রতিবাদে ইউরোভিশন বয়কটের ঘোষণা দিয়েছে। এই সিদ্ধান্ত এখন সরাসরি হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে ইউরোভিশনের বাজেট ও আয়ের মডেলের জন্য। অথচ এই প্রতিযোগিতা প্রতি বছর শত শত মিলিয়ন ইউরোর ব্যবসা করে।

“ইউরোভিশন সঙ্গীত প্রতিযোগিতা” যাকে দীর্ঘদিন ধরে ইউরোপের সবচেয়ে বড় ক্রীড়াবহির্ভুত টেলিভিশন ইভেন্ট বলা হতো, সেই ৭০ বছরের পুরোনো প্রতিযোগিতা এখন তার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটের মুখে। এই সংকট দেখতে গান-বাজনার নয়, পুরোপুরি রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক।

ফার্স নিউজের বরাতে পার্সটুডেতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় যুদ্ধাপরাধ এবং তেল আবিবের ব্যাপক সমালোচনার পরও ইসরায়েলকে প্রতিযোগিতায় রাখার সিদ্ধান্ত ইউরোপীয় সম্প্রচার ইউনিয়ন (EBU)-এর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে এবং পুরো প্রতিযোগিতার আর্থিক কাঠামোকে কাঁপিয়ে দিয়েছে।

ইউরোভিশন কেবল একটি গান প্রতিযোগিতা নয়; এটি ইউরোপের ৪০টি দেশের সরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর একটি বড় যৌথ উদ্যোগ। অংশগ্রহণকারী আসলে প্রতিটি দেশের জাতীয় ব্রডকাস্টিং নেটওয়ার্ক। প্রতিটি দেশ নির্দিষ্ট পরিমাণ অর্থ দিয়ে অংশগ্রহণের অধিকার অর্জন করে এবং নিজ দেশের প্রতিনিধি নির্বাচন করে। ইউরোভিশনের ব্যয় হয় সরকারি টেলিভিশন চ্যানেলগুলোর বাজেট, স্পনসরশিপ এবং সম্প্রচার অধিকার বিক্রি থেকে।

এই জটিল কাঠামোর কারণে কোনো দেশের বেরিয়ে যাওয়া- প্রতিযোগিতার আর্থিক ভারসাম্যকে সরাসরি প্রভাবিত করে এবং এই মুহূর্তে ঠিক সেটিই ঘটছে।

গল্পটি শুরু হয় যখন চারটি ইউরোপীয় দেশ– স্পেন, নেদারল্যান্ডস, আয়ারল্যান্ড এবং স্লোভেনিয়া গত বৃহস্পতিবার ঘোষণা করে যে, ইউরোপীয় ব্রডকাস্টিং ইউনিয়নের ইসরায়েলকে বহাল রাখার সিদ্ধান্তের কারণে তারা পরবর্তী ইউরোভিশনে অংশ নেবে না।

এই সিদ্ধান্তটি কেবল একটি মিডিয়া শক নয়, বরং প্রতিযোগিতার বাজেটের জন্যও একটি সরাসরি হুমকি; কারণ এই দেশগুলোর মধ্যে কয়েকটি ইউরোভিশনের বৃহত্তম আর্থিক অবদানকারী।

স্পেন একাই প্রতি বছর প্রতিযোগিতা আয়োজনে ৩৩০,০০০ ইউরোরও বেশি অবদান রাখে; এই অর্থ তার প্রত্যাহারের সাথে সাথে অন্যান্য দেশগুলোর মধ্যে ভাগ করতে হবে এবং এমন একটি সময়ে যখন অনেক ইউরোপীয় সরকার বাজেট সংকট ও মুদ্রাস্ফীতির চাপের সাথে লড়াই করছে।

ইউরোপীয় মিডিয়া বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, অংশগ্রহণকারী দেশের সংখ্যা কমার অর্থ হল- দর্শক হ্রাস, কম স্পন্সর এবং প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক মূল্যের পতন। ইউরোভিশন সাম্প্রতিক বছরগুলোতে প্রায় ১৬০ মিলিয়ন দর্শক পেয়েছে, কিন্তু প্রধান দেশগুলোর বেরিয়ে যাওয়া- এই সংখ্যাটি লাখ লাখ কমিয়ে দিতে পারে; একটি পতন যা সরাসরি প্রতিযোগিতার বাণিজ্যিক আয়কে হুমকির মুখে ফেলে।

তবে এই সংকটটি কেবল একটি আর্থিক বিষয় নয়; এর মধ্যে রয়েছে ইউরোপের রাজনৈতিক বিভাজনও। অনেক ইউরোপীয় নেটওয়ার্ক, বিশেষ করে আয়ারল্যান্ড, স্পষ্টভাবে বলেছে যে, "গাজা এখনও হতাহতের শিকার হচ্ছে" এমন পরিস্থিতিতে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ অব্যাহত রাখা অনৈতিক কাজ।

কিছু নেটওয়ার্ক আয়োজকদের রাজনৈতিক চাপ এবং ইসরাইলি লবির প্রভাবের অধীন হওয়ার অভিযোগ এনেছে এবং প্রতিযোগিতার দাবিকৃত 'নিরপেক্ষতাকে' প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

অন্যদিকে, ইসরাইলের সরকারি নেটওয়ার্ক 'কান', নিপীড়িত হওয়ার ভান করে সমালোচনাকে "সাংস্কৃতিক বয়কট" বলে অভিহিত করেছে এবং দাবি করেছে যে, ইসরায়েলকে বাদ দেওয়া হল প্রতিযোগিতাকে রাজনীতিকরণ করা। অথচ অনেক সমালোচকের মতে, ইউরোভিশনের রাজনীতিকরণ ইসরায়েল এবং তার সমর্থকদের মাধ্যমেই ঘটেছে, বিক্ষুব্ধ দেশগুলোর দ্বারা নয়।

পরবর্তী আয়োজক অস্ট্রিয়ারও এখন উদ্বেগ বেড়েছে। ওআরএফ নেটওয়ার্কের প্রধান ঘোষণা করেছেন- কয়েকটি দেশের বেরিয়ে যাওয়া মানে 'বিশাল আর্থিক বোঝা', বাজেটের অবস্থা আরও কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে ইউরোপের সবচেয়ে বড় বিনোদন শো আজ ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে। পার্সটুডে

ট্যাগ্সসমূহ: ইসরাইল ، ইকনা ، যুদ্ধ
captcha