IQNA

22:05 - August 02, 2019
সংবাদ: 2609013
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক সম্প্রতি সৌদি আরবের ৩৬০টি একাউন্ট ও পেজ বন্ধ করে দিয়েছে। সৌদি রাজপরিবারের সঙ্গে যুক্ত এইসব একাউন্ট থেকে মিথ্যা সংবাদ ও প্রোপ্যাগান্ডা ছড়ানো হত বলে জানিয়েছে ফেসবুক।

বার্তা সংস্থা ইকনা'র রিপোর্ট: এই একাউন্টগুলোর বেশিরভাগই ছিল ফেক এবং এগুলো ক্রাউন প্রিন্স সালমানের নির্দেশেই পরিচালনা করতো তার আশেপাশের লোকজন। এতে তার মহত্ব প্রচার করা হত ও প্রিন্সের আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বীদের আক্রমণ করে প্রোপ্যাগান্ডা ছড়ানো হতো। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

বৃহস্পতিবার এক ঘোষণায় এসব ফেক একাউন্ট বন্ধ করে দেয়ার কথা জানায় ফেসবুক। এসব একাউন্টের মোট ১৪ লাখ ফলোয়ার ছিল বলেও জানায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমটি। একে জালিয়াতিপূর্ন কার্যক্রম হিসেবে আখ্যায়িত করেছে প্রতিষ্ঠানটি। রয়টার্সের কাছে এ নিয়ে একটি বিবৃতি পাঠিয়েছে ফেসবুক।

মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ দিনদিন ফেসবুক, টুইটার ও ইউটিউবকে রাজনীতির হাতিয়ারে পরিণত করার চেষ্টা করছে। এজন্য অনেকেই মোহাম্মদ বিন সালমানের একে প্রোপ্যাগান্ডা বিস্তারের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করছে। গত বছর এ নিয়ে ইরানভিত্তিক একটি প্রচারণার খবর প্রকাশ করেছিল রয়টার্স।

কাতারকে আক্রমণ করতে সৌদি আরব ইন্টারনেটে এই একই কৌশল অবলম্বন করেছে। একইসঙ্গে, সৌদি কর্মকর্তাদের হাতে খুন হওয়া সাংবাদিক জামাল খাসোগির বিষয়ে ভুল তথ্য ছড়ানোর জন্যেও রাজপরিবারের সঙ্গে যুক্ত কিছু মানুষ ভুয়া ফেসবুক একাউন্ট ব্যবহার করেছে।

উল্লেখ্য, সৌদি আরব জামাল খাসোগিকে হত্যার কথা স্বীকার করলেও এর সঙ্গে ক্রাউন প্রিন্স সালমানের যোগসাজশের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। এছাড়া, কাতারের বিরুদ্ধে সর্বাত্বক অবরোধ অব্যাহত রেখেছে দেশটি ও এর মিত্র রাষ্ট্ররা।

গত কয়েক মাস ধরেই এসব একাউন্ট বন্ধ করেছে ফেসবুক। তবে বৃহস্পতিবার আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি ঘোষণা করে তারা। কোনো সরকারের বিরুদ্ধে সরাসরি এমন অভিযোগ তোলার ঘটনা এর আগে কখনো ঘটেনি।

ফেসবুকের সাইবার সিকিউরিটি বিভাগের প্রধান নাথানিয়েল গ্লিচার বলেন, আমাদের তদন্তকারীরা নিশ্চিত হয়েছেন যে যারা এসব একাউন্ট পরিচালনা করতেন তারা সকলেই সৌদি সরকারের সহযোগী।

ওইদিনই ফেসবুক জানিয়েছে, শুধু সৌদি আরব নয় মিশর ও আরব আমিরাতেরও সাড়ে ৩শ একাউন্ট তারা মুছে দিয়েছে। তবে এসব একাউন্টের সঙ্গে সরকারের সরাসরি সংযোগ তারা খুঁজে পায়নি। সৌদি সরকারের সরাসরি প্রভাবেই ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামে এসব প্রোপ্যাগান্ডা ছড়ানো হত।

এসব প্রোপ্যাগান্ডার টার্গেট হয় মূলত ফিলিস্তিন, কাতার ও উত্তর আফ্রিকার দেশগুলো। এর জন্য ব্যবহার করা হত ফেক একাউন্ট যেগুলো ডিজাইন করা হয় সংবাদ মাধ্যমের মত করে। এসব পেজ বুস্ট করার জন্য প্রায় কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। এগুলো থেকে রাজনীতি বিষয়ক খবর প্রকাশ করা হয় যা মূলত আরবি ভাষায় হয়ে থাকে।

এসব খবরের গুরুত্বপূর্ন অংশে থাকেন সৌদি প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমান। তার অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংস্কার নিয়ে নানা পরিকল্পনার কথা তুলে ধরা হয় এতে। এছাড়া রয়েছে ইয়েমেনে তার ও তার বাহিনীর সফলতা নিয়ে নানা খবর। সৌদি সরকার ও সৌদি সামরিক বাহিনীর ফ্যানপেজ হিসেবেও ব্যবহৃত হত এসব একাউন্ট।

বৃহস্পতিবার বন্ধ হওয়া একটি পেজে মোহাম্মদ বিন সালমানের একটি ছবি প্রকাশিত হয়। এতে দেখা যায় ইয়েমেন যুদ্ধে আহত এক সৈনিককে হাসপাতালে দেখতে গেছেন তিনি। তার ক্যাপশনে জুড়ে দেয়া হয়, সৌদির মহান ক্রাউন প্রিন্সের দৈনন্দিক রুটিন এটি। এমটি নিউজ

নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
* captcha: