IQNA

22:19 - November 09, 2019
সংবাদ: 2609602
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতের বহুল আলোচিত অযোধ্যার বাবরী মসজিদ মামলার রায় ঘোষণা করেছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট। রায়ে বিতর্কিত জমিতে মন্দির নির্মাণে তিন মাসের মধ্যে ট্রাস্ট গঠন করতে কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে অযোধ্যা শহরের 'উপযুক্ত স্থানে' পাঁচ একর জমি দেয়ার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

বার্তা সংস্থা ইকনা'র রিপোর্ট: আজ (শনিবার) দুপুরে প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈর নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ এ রায় দেন। বেঞ্চের অন্য সদস্যরা হলেন, বিচারপতি এসএ বোবদে, বিচারপতি ডিওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি অশোক ভূষণ, বিচারপতি এস আব্দুল নাজির।

রায়ের পর সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডের আইনজীবী জাফরাইব জিলানি বলেন, ‘‘আমরা সুপ্রিম কোর্টের রায়কে সম্মান জানাই। তবে এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট নই। আমরা মনে করি এটা অন্যায্য। তবে, আমরা রায়ের সব অংশের সমালোচনা করছি না।"

তিনি জানান, তারা একটি বৈঠক করবেন। সেখানে রায় পুনর্বিবেচনার আবেদন করা হবে কিনা, তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এক টুইট বার্তায় এই রায়কে স্বাগত জানিয়ে বলেছে, এই রায় বিচার ব্যবস্থায় জনসাধারণের আস্থা বাড়িয়ে তুলবে।

ভারতের উত্তর প্রদেশের অযোধ্যা’য় অবস্থিত বাবরি মসজিদটি মুঘল সম্রাট বাবরের সেনাপতি মীর বাকি তৈরি করেন।

মুসলমানদের এই পবিত্র স্থানকে প্রায় ৭০ বছর ধরে হিন্দুরা তাদের ঈশ্বর “রামের” জন্মস্থান বলে দাবী করে আসছে। হিন্দুদের এই দাবীর ফলে দীর্ঘ দিন যাবত মুসলমানদের সাথে দ্বন্দ্ব অব্যাহত রয়েছে। নীচে এর গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি ইস্যু তুলে ধরা হল:

  • ১৯৪৯ সালে বিতর্কিত ধাঁচার মূল গম্বুজের মধ্যে রাম লালার মূর্তি নিয়ে আসা হয়েছে।
  • ১৯৫০ সালে গোপাল শিমলা বিশারদ রামলালার মূর্তিগুলির পূজার অধিকারের আবেদন জানিয়ে ফৈজাবাদের আদালতে আবেদন করে।
  • ১৯৮৬ সালে স্থানীয় আদালত মসজিদের সকল তালা খোলার নির্দেশ দেয়, যাতেকরে হিন্দু তীর্থযাত্রীদের মসজিদে প্রবেশ করে তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান পালন করতে পারে।
  • ১৯৯২ সালের ৬ষ্ঠ ডিসেম্বরে ভারতীয় জনতা পার্টির রাজনীতিবিদদের নেতৃত্বে হাজার হাজার চরমপন্থি হিন্দু বাবরি মসজিদে হামলা চালিয়ে মসজিদ গুঁড়িয়ে দেয়।
  • এই ঘটনার পর ভারতের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলে মুসলমান ও হিন্দুদের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়। এই সংঘর্ষের ফরে ২ হাজারের অধিক মানুষ নিহত হয়। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই মুসলমান ছিল।
  • ২০১০ সালের ৩০শে সেপ্টেম্বরে হাইকোর্ট রায় দেয়, বিতর্কিত জমি সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড, নির্মোহী আখড়া এবং রামলালার মধ্যে সমবণ্টন করে দেওয়া হোক। এই রায়ে তিন বিচারপতি সহমত পোষণ করেননি। ২-১ ভিত্তিতে রায়দান হয়।

উল্লেখ্য যে, এই বছরের গ্রীষ্মে, ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের একদল বিচারপতিদের নেতৃত্বে বেশ কয়েকদিন ধরে শুনানি অব্যাহত ছিল এবং আজ এই মামলায় সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায় ঘোষণা করা হয়েছে।  iqna

 

নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য: