IQNA

22:44 - November 15, 2019
সংবাদ: 2609642
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিয়ানমারে রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর সেনাবাহিনীর নি'র্যাতনের ঘটনায় দেশটির নেত্রী অং সান সু চিসহ দেশটির কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আর্জেন্টিনার আদালতে মামলা করা হয়েছে। এই প্রথম শান্তিতে নোবেল বিজয়ী সু চির বিরুদ্ধে সরাসরি কোনও মামলা হলো।

বার্তা সংস্থা ইকনা'র রিপোর্ট: রোহিঙ্গা ও লাতিন আমেরিকার মানবাধিকার গোষ্ঠী বুধবার এই মামলা করে। আর্জেন্টিনায় ‘ইউনিভার্সাল জুরিসডিকশনের’ নীতিতে মামলাটি করা হয়েছে। মামলায় দেশটির সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাইয়াংসহ শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিচার দাবি করা হয়েছে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট রাখাইনের কয়েকটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলার পর পূর্ব-পরিকল্পিত ও কাঠামোবদ্ধ সহিংসতা জোরালো করে মিয়ানমারের সেনাবাহিনী। হ'ত্যা-ধ'র্ষ'ণসহ বিভিন্ন ধারার সহিংসতা ও নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সাত লাখেরও বেশি মানুষ।

১১ নভেম্বর সোমবার মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গা নিপীড়নকে গ'ণহ'ত্যা আখ্যা দিয়ে জাতিসংঘের সর্বোচ্চ আদালতের কাছে বিচার চায় আফ্রিকার দেশ গাম্বিয়া। নিধনযজ্ঞ পেরিয়ে যাওয়ার প্রায় আড়াই বছর পর প্রথমবারের মতো কোনও দেশ এমন পদক্ষেপ নেয়। এরপর একে স্বাগত জানায় কানাডাও। তবে আর্জেন্টিনার আইনে গণহত্যা বিষয়ক কোনও ফৌজদারি আইন না থাকায় গ'ণহ'ত্যা মামলা করা যায়নি।

‘ইউনিভার্স জুরিসডিকশন’ বা ‘বৈশ্বিক বিচার দায়বদ্ধতার’ আওতায় আর্জেন্টিনায় মামলাটি করা হয়েছে। যুদ্ধাপরাধ কিংবা মানবতাবিরোধী অপরাধ বেশি ভয়াবহ হলে যেকোনও দেশেই তার বিচার হতে পারে, এমন ধারণা থেকে এই আইন করা হয়েছিল। এর আগে আর্জেন্টিনার আদালতে স্প্যানিশ স্বৈরশাসক ফ্রান্সিসকো ফ্রাঙ্কো ও চীনের ফালুন গং আন্দোলনের বিচার হয়েছিল এই আইনের আওতায়।

আইনজীবী টমাস ওজিয়া বলেন, অভিযোগে অপরাধী, সহযোগী ও তথ্য গোপনকারীদের ওপর নিষেধাজ্ঞা চাওয়া হয়। আমরা আর্জেন্টিনার মাধ্যমে এটা করছি, কারণ অন্য কোথাও এই অভিযোগ করার কোনও সম্ভাবনা নেই।

ওই মামলায় মিয়ানমারের সু চির মতো শীর্ষ রাজনীতিক ও সেনাপ্রধান মিন অং হ্লাংয়ের মতো সামরিক কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ওজিয়া আশা করছেন, এই মামলার পর তাদের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হতে পারে।

বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন ইউকে এর প্রেসিডেন্ট তুন খিন বলেন, ‘দিনের পর দিন মিয়ানমার সরকার আমাদের উৎখাতে চেষ্টা করে গেছে। আমাদের হ'ত্যা করা হয়েছে কিংবা দেশ ছাড়তে বাধ্য করা হয়েছে।’

মিয়ানমার তাদের সংখ্যালঘু আদিবাসী রোহিঙ্গাদের স্বীকৃতি দেয় না। তারা এই সম্প্রদায়কে বাঙালি বা প্রতিবেশী বাংলাদেশের ‘অবৈধ অভিবাসী’ বলে বর্ণনা করে থাকে। তাদের তাড়াতে গত কয়েক বছর ধরে নি'র্ম'ম নি'র্যাতন চালাচ্ছে দেশটি। প্রাণ বাঁচাতে রোহিঙ্গাদের বিরাট একটা অংশ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।

শান্তিতে নোবেলজয়ী সু চি রোহিঙ্গা ইস্যুতে বরাবর নীরবই থেকেছেন। কখনো রোহিঙ্গাদের প্রতি খুব বেশি সহানুভূতি দেখাননি তিনি। ২০১৫ সালের নভেম্বরে অনুষ্ঠিত সাধারণ নির্বাচনের আগে প্রচারাভিযানের সময় সু চি রাখাইনের স'হিং'সতার ইস্যুটি সরাসরি এড়িয়ে যান। এমটি নিউজ২৪

নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য: