IQNA

20:47 - February 19, 2020
সংবাদ: 2610260
তেহরান (ইকনা)- বাংলাদেশে ১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে মাসব্যাপী একুশে গ্রন্থমেলা এখন বইপ্রেমীদের পীঠস্থান। রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের বিস্তৃত প্রাঙ্গণ ছাত্র-শিক্ষক, কিশোর-যুবা, নারী-পুরুষ নানা বয়সের মানুষের পদচারণায় মুখরিত থাকছে প্রতিদিন বিকেল থেকে সন্ধ্যা বেলা।

বাংলাদেশে নতুন বই প্রকাশের মৌসুম এ ভাষার মাস- ফেব্রুয়ারি মাস। এবারের একুশে গ্রন্থমেলায় গতকাল পর্যন্ত নতুন বই এসেছে ১৩৫ টি। প্রতিদিন বই কেনা ছাড়াও ‘লেখক বলছি’ অনুষ্ঠানে পাঁচ/সাত জন করে লেখক তাদের নিজেদের বই নিয়ে কথা বলছেন।

এবারের মেলায় চিরায়ত সাহিত্য, প্রতিষ্ঠিত লেখকের গল্প, উপন্যাস, কবিতার বই ছাড়াও অনুবাদ, ইতিহাস, ঐতিহ্য, বিজ্ঞান, রাজনীতি ও সমসাময়িক বিষয় নিয়ে রচিত বইয়ের এ বিপুল আয়োজনে বিশেষ দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে ইরানের বীর সেনাপতি কাসেম সোলাইমানিকে নিয়ে লেখা বই ‘জীবন্ত শহীদ সোলাইমানী হত্যার নেপথ্য কাহিনী’। বইটির লেখক বিশিষ্ট সাহিত্য-অনুবাদক ও সাংবাদিক প্রমিত হোসেন। ঢাকার বাংলাবাজার থেকে প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান 'অন্যধারা' বইটি প্রকাশ করেছে।

এরকম একটি বই লেখার প্রেরণা সম্পর্কে লেখক প্রমিত হোসেন রেডিও তেহরানকে জানান, ইরানের সাথে বাংলাদেশের মানুষের দীর্ঘ ঐতিহ্যময় সাংস্কৃতিক সম্পর্ক এবং সাম্প্রতিকালে পরাশক্তির বিরুদ্ধে ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান ও তাদের বীর জনগণের ন্যায্য প্রতিরোধ সংগ্রমের প্রতি শ্রদ্ধা জানতে তাঁর এ প্রয়াস। মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামী যুদ্ধের একজন বীর শহীদ কাসেম সোলাইমানির প্রতি তাঁর সম্মান প্রদর্শন করার জন্য এ সময়ে এমন একটি বিষয়বস্তু বেছে নেয়া হয়েছে বলে তিনি জানান।

এ প্রসঙ্গে বইটির প্রকাশক মুহাম্মদ মনির হোসেন জানান, একুশে বইমেলাকে সামনে রেখে অল্প সময়ের প্রস্তুতিতে বইটি প্রকাশ করা হয়েছে। প্রতিদিনই তাদের স্টল থেকে বইটি সংগ্রহ করে নিচ্ছেন আগ্রহী পাঠকগণ।

উল্লেখ্য, ইরাকের রাজধানী বাগদাদে গত ৩ জানুয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্দেশে পরিচালিত সন্ত্রাসী হামলায় শহীদ হন ইরানের কুদস ফোর্সের অধিনায়ক লে. জেনারেল কাসেম সোলাইমানি, ইরাকের পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সের উপ-প্রধান আবু মাহদি আল-মুহান্দিস ও আরও আটজন সামরিক ব্যক্তি। ওই ঘটনার প্রেক্ষাপটে জেনারেল কাসেম সোলাইমানিকে কেন্দ্রে রেখে মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক একটি চিত্র তুলে ধরা হয়েছে এ বইটিতে।

বইয়ের একাংশে লেখকের অনুভূতি প্রকাশ পেয়েছে এভাবে- ‘হানাদার মার্কিন সাম্রাজ্যবাদীরা কিছুতেই চায় না মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষ করে শত্রুভাবাপন্ন আরব দেশগুলো ও ইরানের মধ্যে শান্তির বাতাবরণ সৃষ্টি হোক। তারা এ অঞ্চলে যুদ্ধ-যুদ্ধ পরিস্থিতি জিইয়ে রাখতে চায়। উত্তেজনা বহাল রাখতে চায়। সৌদি-ইরান বিরোধ বজায় রাখতে চায়। তাহলে তৈলমসৃণভাবে লুটপাট করা যায়, আধিপত্য আর দখল ঠিকঠাক মত চলে। মার্কিন পুঁজিবাদ হেজে-মজে গেছে অনেক আগেই। তা টিকে আছে যুদ্ধ-অর্থনীতির ওপর। আগ্রাসী, লুটেরা যুদ্ধ ছাড়া এ অর্থনীতি টিকিয়ে রাখা একদিনও সম্ভব নয়। সুতরাং শান্তি একটা সমস্যা। বড় ধরনের সমস্যা। তাই হত্যা করা হল শান্তির দূত কাশেম সোলাইমানীকে। মূলত কাশেম সোলাইমানীকে নয়, ট্রাম্প হত্যা করেছেন শান্তিকে।’
সূত্র:parstoday

নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য: