IQNA

17:59 - May 31, 2020
সংবাদ: 2610879
তেহরান (ইকনা): ইরানি দাতাদের উদ্যোগে এবং ক্বাজার নামক সংগঠনের সহায়তায় সৌদি আরবের জান্নাতুল বাকিতে শয়িত চার ইমামের (আ.) জরিঘর নির্মিত হয়েছে। এই জরিঘরটি দক্ষ কারিগণ হাজ আব্বাস ইরানের ইস্পাহানে নির্মাণ করেছিলেন।

৮ ই শাওয়াল ইসলামের ইতিহাসের এক শোকাবহ দিন। আজকের এদিনে প্রায় ৯৬ চন্দ্র-বছর আগে ওয়াহাবি ধর্মদ্রোহীরা পবিত্র মক্কা ও মদিনায় ক্ষমার অযোগ্য কিছু পাপাচার ও বর্বরতায় লিপ্ত হয়েছিল। ধর্মপ্রাণ মুসলমানরা যখন পবিত্র জান্নাতুল বাকি কবরস্থানে বিশ্বনবী হযরত মোহাম্মাদের (সা.) দ্বিতীয়, চতুর্থ, পঞ্চম ও ষষ্ঠ নিষ্পাপ উত্তরসূরির পবিত্র মাজার জিয়ারত করছিলেন তখন ওয়াহাবি দুর্বৃত্তরা সেখানে ভাংচুর ও লুটপাট অভিযান চালায় এবং ওই নিষ্পাপ ইমামদের পবিত্র মাজারের সুদৃশ্য স্থাপনা ও গম্বুজগুলো মাটির সঙ্গে গুড়িয়ে দেয়।


বর্বর ও ধর্মান্ধ ওয়াহাবিরা আরো কয়েকটি পবিত্র মাজারের অবমাননা করে এবং এইসব মাজারের গম্বুজ ও স্থাপনাগুলো ভেঙ্গে-চুরে ইসলাম অবমাননার ন্যক্কারজনক তাণ্ডব চালায়। এইসব মাজার ছিল বিশ্বনবীর (সা.) ঘনিষ্ঠ আত্মীয়-স্বজন, সাহাবি, স্ত্রী, বংশধর ও খ্যাতনামা আলেমদের।

জান্নাতুল বাকি হচ্ছে সে স্থান যেখানে সমাহিত হয়েছেন বিশ্বনবীর (সা.) চাচা হযরত আবু তালিবের (রা.) স্ত্রী ফাতিমা বিনতে আসাদ (সালামুল্লাহি আলাইহা)। এই মহীয়সী নারী বিশ্বনবীকে (সা.) লালন করেছিলেন নিজ সন্তানের মত স্নেহ দিয়ে এবং তাঁকে কবরে রাখার আগে বিশ্বনবী (সা.) এই মহান নারীর প্রতি সম্মান প্রদর্শনের জন্য নিজেই ওই কবরে কিছুক্ষণ শুয়েছিলেন। রাসূল (সা.) তার জন্য তালকিন উচ্চারণ করেছিলেন শোকার্ত কণ্ঠে।

"ফিতরিস মিডিয়া" (ইসলামিক ডকুমেন্টারি সিনেমা সেন্টার)৮ম শাওয়াল উপলক্ষে একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিওতে হজ আব্বাসের নাতি হজ মুহাম্মাদ ফুলাদগার জান্নাতুল বাকির ইমামদের (আ.) মাজারের জরিঘর নির্মাণের ব্যাপারে তার দাদার ভূমিকার কথা তুলে ধরেন।

ইস্পাহানে এই জরিঘরটি নির্মাণের সময় জার্মানের প্রকৌশলী এবং ফটোগ্রাফার “আর্নেস্ট হলস্টার” একটি ছবি তোলেন। ছবিটি বর্তমানে জার্মানে আছে। এই ছবির পিছনে তিনি লেখেন: “মদিনার জন্য স্টিলের দরজা, ১৮৯৩ সাল, ইস্পাহান”।

এই ছবির জরিঘরের সাথে ইস্পাহানের “সাইয়্যেদ” মসজিদের “সাইয়্যেদ শাফাতি”র করবের জরিঘরের শিল্পকর্মের দুর্দান্ত মিল রয়েছে। বলা হয়ে থাকে যে, সাইয়্যেদ মসজিদের কিছু অংশে জান্নাতুল বাকির জরিঘর নির্মাণ করা হয়েছে।

জান্নাতুল বাকিতে ইমামদের (আ.) মাজারে এই জরিঘর লাগানোর ২৪ বছর পর উগ্র ওয়াহাবীরা ভেঙ্গে ফেলে। তবে এই জারিঘরের অনুরূপ জরিঘর ইস্পাহানে সাইয়্যেদ মসজিদে এখনও বিদ্যমান রয়েছে। iqna

 

নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
* captcha: