IQNA

16:37 - May 10, 2021
সংবাদ: 2612761
তেহরান (ইকনা): নিজেদের দেশ, ধর্ম ও সংস্কৃতি রক্ষার জন্য প্রতিনিয়ত সংগ্রাম করে যাচ্ছে ফিলিস্তিনের মুসলিমরা। শত সংগ্রামের মধ্যেও তারা রক্ষা করার চেষ্টা করছে তাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য।

দেশে ও দেশের বাইরে সমানভাবে চলছে তাদের এই সংগ্রাম। বরং দেশের বাইরে অবস্থানকারীরা তাদের উত্তরসূরিদের নিজস্ব ধর্ম ও সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করতে রমজানকে সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করে। পবিত্র এই জনপদের রয়েছে নিজস্ব রমজান সংস্কৃতি। ফিলিস্তিনের জনগণের কাছে রমজান হলো আধ্যাত্মিক সাধনা ও আপন প্রত্যয়ে বলিষ্ঠ হওয়ার মাস। রমজানে প্রত্যেক ফিলিস্তিনি নিজেকে আপন প্রভুর কাছে সমর্পণ করে এবং যাপিত জীবনের যাবতীয় সংকট থেকে প্রভুর দরবারে আশ্রয় প্রার্থনা করে। ফিলিস্তিনিরা রমজান উদযাপন করে ইবাদত, প্রার্থনা ও নিজেদের ইতিহাস-ঐতিহ্য চর্চার মধ্য দিয়ে।

দলবদ্ধভাবে রমজানের চাঁদ দেখা ও উল্লাস প্রকাশের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তাদের রমজান উদযাপন। চাঁদ দেখা দিলে ফিলিস্তিনের প্রতিটি মসজিদে রমজানকে স্বাগত জানিয়ে ঘোষণা দেওয়া হয়। মানুষকে ইবাদত ও প্রার্থনার প্রতি আহ্বান জানানো হয়। শিশুরা রঙিন বেলুন ও ফানুস নিয়ে বের হয়ে আসে। আনন্দে মেতে ওঠে তারা। বাহারি ফানুসে বর্ণিল হয় ফিলিস্তিনের আকাশ। ফিলিস্তিনের অলিগলিতে ছড়িয়ে পড়ে আনন্দের রেশ। মানুষ সম্মিলিত কণ্ঠে রমজানের বিভিন্ন সংগীত গায়। উচ্চ আওয়াজে দফ বাজায় তারা। উল্লাস-উচ্ছ্বাসে রমজানকে বরণ করা ফিলিস্তিনের একটি প্রাচীনতম ঐতিহ্য। রমজানের পুরো রাত জেগে থাকে ফিলিস্তিনের মসজিদগুলো। তারাবি ও তাহাজ্জুদে রাত কাটায় ফিলিস্তিনিরা। আর দিনগুলো মুখর থাকে ধর্মীয় আলোচনা ও ইতিহাস চর্চায়। ফিলিস্তিনিরা মসজিদে আকসায় তারাবির নামাজ পড়তে পছন্দ করে।

ফিলিস্তিনিরা রমজানে বিশেষ বিশেষ খাবার তৈরি করতে পছন্দ করে। সারা বছরের খাবার থেকে তাদের রমজানের খাদ্যতালিকা একটু ভিন্ন হয়। যেমন—আচার, সালাত তাদের পছন্দের শীর্ষে থাকা দুটি খাবার। তবে আরব ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে খেজুর ও মিষ্টান্নও থাকে তাদের দস্তরখানে। ইফতারিতে থাকে বিভিন্ন ধরনের শরবত ও পানীয়, যার বেশির ভাগই তৈরি হয় ফলমূল ও সবজি থেকে। প্রতিবেশীর ঘরে ইফতার পৌঁছানো ফিলিস্তিনের অন্যতম রমজান সংস্কৃতি। ফিলিস্তিনি পরিবারগুলো প্রতিদিন পরস্পরকে ইফতার পাঠায়। ইফতার ও সাহরিতে পরিবারের সবাই একত্র বসে ইফতার করতে পছন্দ করে তারা।

ফিলিস্তিনের মসজিদগুলোতে দিনের বেলা ধর্মীয় বিষয়ে আলোচনা সভা হয়। এতে দ্বিনের বিধি-বিধানের পাশাপাশি তাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য আলোচিত হয়। প্রতিটি পরিবারের শিশুরা বৃদ্ধদের কাছ থেকে দেশের স্বাধীনতাসংগ্রামে তার পরিবারের ত্যাগ ও কোরবানির ইতিহাস শোনে রমজানের দিনগুলোতে। অবরুদ্ধ গাজাসহ পুরো ফিলিস্তিনে সারা বছর চরম খাদ্যসংকট থাকে। আরব মুসলিমরা রমজানে ফিলিস্তিনি মুসলিমদের জন্য উপহার ও উপঢৌকন, খাবার ও পানীয় পাঠায়। এতে রমজানে খাদ্যসংকট কিছুটা কমে যায়। অনেক ফিলিস্তিনি পেটপুরে খাওয়ার সুযোগ পায় শুধু পবিত্র রমজানে। তাই জাগতিক বিচারেও রমজান ফিলিস্তিনের জন্য স্বস্তির বার্তা বয়ে আনে। কালের কণ্ঠ

নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
* captcha: