IQNA

20:39 - June 12, 2021
সংবাদ: 2612951
আজ ১লা যিলক্বদ্ কারীমা -ই আহলুল বাইত ( আ:) হযরত ফাতিমা মাসূমা বিনতে মূসা আল কাযিম ইবনে জাফার ( আ:) -এর শুভ জন্মদিন , দাহা-ই কারামাতের ( কারামত অর্থাৎ মর্যাদা , দানশীলতা ও বদান্যতা দশ দিবস ) শুভ সূচনা এবং ১লা যিলক্বদ্ কন্যা দিবস ( রোয-ই দোখতার্ ) উপলক্ষে মুবারক বাদ ও অভিনন্দন জানাচ্ছি ।

এই দাহা- ই কারামত অর্থাৎ মর্যাদা , দানশীলতা ও বদান্যতার দশ দিবসের শেষ দিবস ১১ যিল ক্বদ আহলুল বাইতের (আ:) ৮ম মাসূম ইমাম আলী ইবনে মূসা আর রিযার শুভ জন্ম দিন উপলক্ষ্যে অগ্রীম শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাচ্ছি । দাহা-ই কারামত ( Decade of dignity ) মুবারক ।

হযরত ফাতিমা মাসূমা ( আ.) মহানবীর (সা.) আহলুল বাইতের( আ.) ৭ম মাসূম ইমাম মূসা আল কাযিম ইবনে জাফারের (আ. ) কন্যা এবং আহলুল বাইতের (আ.) ৮ম মাসূম ইমাম আলী ইবনে মূসা আর রিযার (আ.) বোন ।

তাঁর পবিত্র মাযার ইরানের কোম্ নগরীতে অবস্থিত। ইমাম রিযা ( আ.) থেকে বর্ণিত আছে যে যে ব্যক্তি তাঁর মাযার যিয়ারত করে সে জান্নাতে দাখিল হবে ( দ্র : আল্লামা আব্দুর রহমান জামী প্রণীত শাওয়াহেদুন্ - নবুয়ত , মাওলানা মহিউদ্দীন খান অনূদিত , পৃ : ২৭২ ) । আর এ বাণী থেকে হযরত ফাতিমা মাসূমার ( আ.) বিরাট মর্তবা ও ফযীলত স্পষ্ট হয়ে যায় ।

এই মহিয়সী নারীর ( হযরত ফাতিমা মাসূমা - আ.- ) মাযার শরীফকে কেন্দ্র করে মহানবীর ( সা.) আহলুল বাইতের (আ.) অনুসারীদের দ্বীনী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হাওযা- ই ইলমীয়া - ই কোম গড়ে উঠেছে ও প্রতিষ্ঠিত হয়েছে । এই দ্বীনী ( ধর্মীয় ) শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বড় বড় ফকীহ মুজতাহিদ মারজায়ে তাকলীদ আলিম শিক্ষাকতা করেছেন এবং করছেন।

ইমাম খোমেইনী (রহ.) হযরত ফাতিমা মাসূমার মাযার শরীফ সংলগ্ন প্রসিদ্ধ ঐতিহাসিক মাদ্রাসা - ই ফাইযিয়া য় শিক্ষাকতা করেছেন এবং এখান থেকে ইসলামী বিপ্লবের সূচনা করেন ১৯৬৩ সালের ৪ঠা জুন ( ১৫ খোর্দাদ )। জনগণ তার আহ্বানে মুহাম্মদ রেযা শাহর তথাকথিত শ্বেত বিপ্লব ও ক্যাপিচুলেশন আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও প্রতিবাদ বিক্ষোভ করে ।

শাহ সরকার সে আন্দোলন ও প্রতিবাদ বিক্ষোভ দমনে এবং ইমাম খোমেইনীকে ইরাকের পবিত্র নাজাফ নগরীতে নির্বাসিত করে । এ ঘটনার ১৫ বছর পরে ১৯৭৮ সালের জানুয়ারি মাসে এই কোম নগরী ইমাম খোমেইনীর সমর্থনে শাহ সরকারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রতিবাদে ফেটে পড়ে যা সমগ্র ইরানে ছড়িয়ে যায় এবং ১ বছর ১মাস শাহ বিরোধী আন্দোলন ও বিক্ষোভ এবং হাজার হাজার মানুষের শাহাদত বরণের মধ্য দিয়ে ১১ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৯ সালে ইমাম খোমেইনীর নেতৃত্বে ইরানে ইসলামী বিপ্লব বিজয় লাভ করে এবং ২৫০০ বছরের শাহানশাহী ও রাজতন্ত্রের পতন ঘটে ও ইরানে ইসলামী প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়।

সুতরাং সমকালীন বিশ্বে হযরত ফাতিমা মাসূমা ( আ.) এবং কোম নগরীর ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের (হাওযা-ই ইলমীয়া ) অপরিসীম আধ্যাত্মিক রাজনৈতিক প্রভাব ও গুরুত্ব স্পষ্ট হয়ে যায় ।
লেখক: হুজ্জাতুল ইসলাম ওয়াল মুসলেমিন মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান

 

যে ব্যক্তি হযরত ফাতিমা মাসূমার (সা. আ.) যিয়ারত করে সে জান্নাতে দাখিল হবে

নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
* captcha: