
হাজার হাজার বছর অতিক্রম হওয়ার পরও ঈর্ষার কারণে এখনও অনেকে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এমনকি অনেকের জীবনও হারাতে হচ্ছে। হিংসা হল প্রথম নৈতিক কলুষতার একটি যা হযরত আদমের (আ.) সন্তানরা পৃথিবীতে ভোগ করেছিল। হাবিল এবং কাবিলের গল্প বিবেচনা করে, এই বিষয়টি তদন্ত করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
ঈর্ষা হল প্রথম পাপ এবং নৈতিক কেলেঙ্কারিগুলির মধ্যে একটি যাতে মানুষ আক্রান্ত হয়। এর সাধারণ সংজ্ঞায় ঈর্ষার অর্থ: মহান আল্লাহ যদি কাউকে কোন নেয়ামত দান করে, তাহলে সেই নেয়ামতের জন্য অন্য কোন ব্যক্তি বিরক্ত হয় এবং তার সর্বনিম্ন প্রত্যাশা এটা থাকে যে, সেই নেয়ামতকে যেন সে ধ্বংস করে এবং তা ধ্বংস করার জন সে সর্বোচ্চ চেষ্টা করে।
পবিত্র কুরআনে হাবিল ও কাবিলের কাহিনী, হযরত ইউসুফ (আ.) ও তাঁর ভাইদের কাহিনী, ইসলামের প্রিয় নবী (সা.) এর প্রতি ঈর্ষা এবং অন্যান্য রূপে ঈর্ষার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। ঈর্ষা হল সেই সব পাপের মধ্যে যেগুলোকে আল্লাহ সূরা ফালাকে পৃথিবীর ধ্বংস ও দুর্নীতির অন্যতম উৎস হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছেন এবং নবীকে হিংসুকদের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর নিকটে আশ্রয় প্রার্থনা করার নির্দেশ দিয়েছেন। সূরা ফালাকের ৫ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে:
وَ مِنْ شَرِّ حاسِدٍ إِذا حَسَد
এবং (আমি আশ্রয় চাই) প্রত্যেক হিংসুক ব্যক্তির অনিষ্ট থেকে যখন সে হিংসা করে।"
ঈর্ষাকে এমন একটি পাপ হিসেবে গণ্য করা যেতে পারে যে, যখন একজন ব্যক্তি এতে আক্রান্ত হয়, তখন তা শুধু এই হিংসাতেই থেমে থাকে না, বরং অন্যান্য পাপের ক্ষেত্র প্রস্তুত করে। ঈর্ষা অন্য ব্যক্তির খারাপ কথা বলে, শত্রুতা করে এবং তার নেয়ামত নষ্ট করার জন্য সবকিছু করে। এ কারণেই ইমামগণের ভাষায় ঈর্ষা বা হিংসাকে সকল পাপের উৎস বলা হয়েছে, ইমাম আলী (আ.) বলেছেন:
رَأْسُ الرَّذَائِلِ الْحَسَدُ
পাপের উৎস হিংসা।