IQNA

গাজার প্রায় অর্ধেক মানুষ দিনে একবেলাও খাবার পাচ্ছে না — সরকারি প্রতিবেদনে ভয়াবহ চিত্র

0:05 - November 26, 2025
সংবাদ: 3478503
ইকনা- গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তরের প্রকাশিত নতুন প্রতিবেদনে দেখা গেছে, নিত্যদিনের খাদ্য সংকট ভয়াবহ মাত্রায় পৌঁছেছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, গাজার প্রায় ৪২ শতাংশ মানুষ দিনে কোনো খাবারই পাচ্ছে না, আর বাকি ৫৮ শতাংশ মানুষ মাত্র একবেলা খাবারের ওপর নির্ভর করছে।

ফিলিস্তিন ইনফরমেশন সেন্টারের বরাতে কনা জানায়, এই রিপোর্টটি ইসরায়েলের তথাকথিত সরকারি কার্যক্রম সমন্বয়কারী অফিস” (COGAT)–এর দাবি খণ্ডন করতে প্রকাশ করা হয়েছে। ইসরায়েল দাবি করেছিল, তারা নাকি প্রতিদিন ১০ লাখের বেশি খাবার বিতরণ করছে। গাজার গণমাধ্যম দপ্তর জানায়এ দাবি বাস্তবতার সঙ্গে সামান্যতম মিলও নেই এবং বরং এটি ইসরায়েলের আরোপিত ক্ষুধা নীতি”–র প্রমাণ।

প্রতিবেদনের গুরুত্বপূর্ণ তথ্য:

·         ইসরায়েল বলেছে, প্রতিদিন ১.৪ মিলিয়ন খাবার বিতরণ হয়।

·         গাজার মোট জনসংখ্যা ২.৪ মিলিয়নএ হিসেবে ৪২% মানুষ (প্রায় ১০ লাখ) পুরোপুরি খাবারবঞ্চিত।

·         প্রতিদিন এক বেলা খাবার পাওয়া বেঁচে থাকার ন্যূনতম মানদণ্ডেরও কম

·         প্রতিটি খাবারের গড় হিসেব ৪০০ গ্রাম ধরলে, গাজায় প্রতিদিন প্রবেশ করছে প্রায় ৫৬০ টন খাদ্য,
অথচ প্রয়োজন ২৪০০২৬০০ টন
অর্থাৎ প্রকৃত প্রয়োজনের মাত্র এক-চতুর্থাংশেরও কম খাবার গাজায় প্রবেশ করছে।

রুটির পরিস্থিতি:

ইসরায়েল দাবি করেছে প্রতিদিন ৩.৫ মিলিয়ন রুটির টুকরা বিতরণ হয়। এর মানে দাঁড়ায়প্রতি ব্যক্তির প্রাপ্য মাত্র ১.৪টি ছোট রুটি, যা শিশুদের জন্যও পর্যাপ্ত নয়।

খাদ্য প্যাকেট বিতরণ: এক মাসে বিতরণ: ২৭০,০০০ খাদ্য প্যাকেট, উপকারভোগী: ১.৩ মিলিয়ন মানুষ এবং গড় পরিবার সদস্য: ৫৬ জন ফলে প্রতি পরিবার পুরো মাসে পাচ্ছে মাত্র ১টি খাদ্য প্যাকেট, যা প্রয়োজনের তুলনায় অত্যন্ত কম।

গাজার সরকারি তথ্য দপ্তর জানিয়েছে, এসব তথ্য প্রমাণ করে যে ইসরায়েল মানবিক আইন ও অস্ত্রবিরতির শর্ত ভঙ্গ করে ইচ্ছাকৃতভাবে ক্ষুধাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে, সাহায্যের প্রবেশ ঠেকাচ্ছে এবং খাদ্য সরবরাহ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করছে। 4319071#

captcha