
ইকনা কর্তৃক আলজাজিরা–র বরাতে জানা যায়, ৩৪ বছর বয়সী এই মুসলিম রাজনীতিবিদের বিজয় যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। তার প্রতিদ্বন্দ্বী অ্যান্ড্রু কুমোকে পরাজিত করার পর থেকেই সামাজিক মাধ্যমে মুসলিমবিরোধী ভুল তথ্য, ঘৃণা ছড়ানো কনটেন্ট ও উস্কানিমূলক পোস্ট দ্রুত বাড়ছে।
সম্প্রতি হোয়াইট হাউসের কাছে আফগান বংশোদ্ভূত এক ব্যক্তির দ্বারা ন্যাশনাল গার্ড সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে অনলাইনে ইসলামভীতি আরও বিস্তৃত হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই ব্যক্তি মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন, তবে উগ্রপন্থী ব্যবহারকারীরা ঘটনাটিকে সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করে মুসলিম, অভিবাসী ও শরণার্থীদের বিরুদ্ধে ঘৃণামূলক পোস্ট ছড়াচ্ছে।
বিশ্লেষণে দেখা গেছে, কিছু অনলাইন অ্যাকাউন্ট ইচ্ছাকৃতভাবে পুরনো ও প্রসঙ্গবিহীন ভিডিও পুনরায় ছড়িয়ে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে। উদাহরণ হিসেবে ২০১২ সালে লন্ডনে মুসলমানদের একটি জামায়াতে নামাজের ভিডিওকে “ওয়েস্টমিনস্টার অ্যাবেতে নামাজ” দাবি করে বারবার প্রচার করা হচ্ছে। একই ধরনের বিভ্রান্তিকর ভিডিও নিউইয়র্ক সম্পর্কেও ছড়ানো হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধরনের সমন্বিত প্রচারণা—যা বেনামি অ্যাকাউন্ট থেকে শুরু করে সংগঠিত নেটওয়ার্ক পর্যন্ত বিস্তৃত—মৌলবাদী গোষ্ঠীগুলোকে সুযোগ দিচ্ছে জনমনে মুসলমানদের প্রতি সন্দেহ ও ভয় ছড়াতে।
সমাজতত্ত্ব গবেষক ইয়াসিন বুশোয়ার জানান, মমদানির বিজয়ের পর যে প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে, তা পশ্চিমে অভিবাসী ও মুসলমানদের প্রতি দীর্ঘদিনের “সন্দেহ তৈরির” ঐতিহ্যেরই ধারাবাহিকতা। তার মতে, “জনসংখ্যা পরিবর্তন” ও “পরিচয় সংকট”–সম্পর্কিত পুরনো স্টিরিওটাইপ ব্যবহার করে এই ঢেউ ইসলামভীতির কাঠামোগত বিস্তারে ভূমিকা রাখছে, যা জনমত, অভিবাসীদের অবস্থান এবং বৈশ্বিক ইসলামবিরোধী বয়ানের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। 4320808#