IQNA

জার্মানির সর্বোচ্চ মুসলিম পরিষদ সান ডিয়েগোর ইসলামিক কেন্দ্রে হামলার নিন্দা জানিয়েছে

21:44 - May 22, 2026
সংবাদ: 3479203
জার্মানির কেন্দ্রীয় মুসলিম পরিষদ যুক্তরাষ্ট্রের সান ডিয়েগোতে একটি ইসলামিক কেন্দ্রে সন্ত্রাসী হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে।

ইকনা প্রতিবেদন অনুসারে, ইউরো মাগরেব ওয়েবসাইটের বরাতে জানা গেছে, জার্মানির সেন্ট্রাল কাউন্সিল অব মুসলিমস (জেডএমএস) ১৮ মে ২০২৬ তারিখে সংঘটিত এই সন্ত্রাসী হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে।

হামলায় সান ডিয়েগোর একটি ইসলামিক কেন্দ্রে অবস্থিত মসজিদ ও ইসলামিক স্কুল লক্ষ্যবস্তু হয়, যাতে বেশ কয়েকজন নিরীহ মানুষ নিহত ও আহত হয়েছেন।

জার্মানির সর্বোচ্চ মুসলিম পরিষদের ভাইস প্রেসিডেন্ট সামির বুয়াইসি বলেন, এই হামলা ২০১৯ সালের নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চ মসজিদ হামলার কথা মনে করিয়ে দেয়, যেখানে ডানপন্থী চরমপন্থীদের ঘৃণা থেকে মুসল্লিরা মসজিদের ভেতরে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হয়েছিলেন।

তিনি আরও বলেন, উপাসনালয়ে হামলা শুধু মুসলিমদেরকেই লক্ষ্য করে না, বরং এটি ধর্মীয় স্বাধীনতা, মানবিক সহাবস্থান ও সামাজিক শান্তির মূল্যবোধের ওপর সরাসরি আঘাত।

সামির বুয়াইসি সতর্ক করে বলেন যে, মুসলিমদের বিরুদ্ধে ঘৃণা ছড়ানো, ইসলামকে চরমপন্থার সঙ্গে যুক্ত করার প্রচেষ্টা এবং ইসলামোফোবিয়ার ক্রমবর্ধমান প্রভাব পশ্চিমা সমাজে মুসলিম-বিরোধী সহিংসতাকে উসকে দিচ্ছে। তিনি ইসলামবিদ্বেষকে ছোট করে দেখা বা এর ক্রমবর্ধমান প্রভাব উপেক্ষা করার বিরুদ্ধে সতর্ক করেছেন।

পরিষদটি সান ডিয়েগোর ইসলামিক কেন্দ্রের নিরাপত্তা রক্ষী আমিন আব্দুল্লাহর সাহসিকতার প্রশংসা করেছে। তিনি নিজের জীবন উৎসর্গ করে মুসল্লি, শিশু ও তরুণদের রক্ষা করতে সক্ষম হন এবং বড় ধরনের গণহত্যা ঠেকিয়ে দেন। পরিষদ বলেছে, তাঁর এই কাজ সাহসিকতা, আত্মত্যাগ ও নিষ্ঠার এক উজ্জ্বল উদাহরণ হয়ে থাকবে।

জার্মানির সর্বোচ্চ মুসলিম পরিষদ যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের কর্তৃপক্ষ ও সমাজের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে যে, ক্রমবর্ধমান মুসলিম-বিরোধী বর্ণবাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় পদক্ষেপ নিতে হবে, মসজিদ ও ইসলামিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরাপত্তা জোরদার করতে হবে এবং পারস্পরিক সম্মান ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠায় কাজ করতে হবে।

অন্যদিকে, পরিষদের মহাসচিব আলা উদ্দিন আশ-শিলাহ এই ঘটনায় রাজনৈতিক ও গণমাধ্যমের সীমিত প্রতিক্রিয়ায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, এ ধরনের জঘন্য অপরাধের বিরুদ্ধে নীরবতা উদ্বেগজনক বার্তা দেয় এবং দ্বিমুখী মানদণ্ডের অনুভূতিকে আরও তীব্র করে। 4353516#

captcha