
ইকনার বরাতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আজ বুধবার ইরাকের জনগণ ২০১৪ সালের ১০ জুন সন্ত্রাসী সংগঠন আইএসআইএস (দায়েশ)-এর হাতে মসুল শহরের পতনের ১২তম বার্ষিকী স্মরণ করছে।
মসুল পতনের সঙ্গে সঙ্গে একের পর এক মর্মান্তিক ঘটনা ও মানবিক বিপর্যয় সংঘটিত হয়, যার ফলে লক্ষাধিক ইরাকি নিহত ও আহত হন, হাজার হাজার মানুষ নিখোঁজ হয়ে যান এবং লাখো মানুষ বাস্তুচ্যুত হন। এ ঘটনা ইরাকের রাজনৈতিক, নিরাপত্তা ও সামাজিক অঙ্গনে ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসে।
২০১৪ সালের ১০ জুন মসুল দখলের পর মাত্র এক সপ্তাহের মধ্যে উত্তর ও পশ্চিম ইরাকের ২০টিরও বেশি শহর দায়েশের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল তাল আফার, সিনজার, আল-কাইয়ারা, তিকরিত, রামাদি, আল-কাইম এবং আরও অনেক এলাকা।
পরবর্তীতে দায়েশ ইরাকের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৪৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসে, যা দেশটির ইতিহাসে অন্যতম বড় নিরাপত্তা সংকট হিসেবে বিবেচিত হয়।
ইরাকি বাহিনী ২০১৬ সালের অক্টোবরে মসুল পুনর্দখলের জন্য বৃহৎ সামরিক অভিযান শুরু করে। টানা ১০ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের পর ২০১৭ সালের জুলাই মাসে শহরটি দায়েশের দখলমুক্ত হয় এবং সন্ত্রাসী গোষ্ঠীটিকে সেখান থেকে বিতাড়িত করা সম্ভব হয়।
মসুল পতনের পরদিনই সংঘটিত হয় আরেকটি হৃদয়বিদারক ঘটনা—স্পাইকার গণহত্যা।
স্পাইকার বিমানঘাঁটি-এ ২০১৪ সালের ১১ থেকে ১৫ জুনের মধ্যে সংঘটিত এই গণহত্যা দায়েশ সন্ত্রাসী গোষ্ঠী এবং সাবেক বাথ পার্টি-এর অবশিষ্ট সদস্যদের হাতে সংঘটিত হয়।
হামলার সময় ঘাঁটিটিতে প্রায় ৪ হাজার নিরস্ত্র সামরিক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন। তাদের মধ্যে প্রায় ২ হাজার শিয়া সামরিক শিক্ষার্থীকে অপহরণের পর নির্মমভাবে গণহত্যার শিকার করা হয়।
স্পাইকার গণহত্যা আধুনিক ইরাকের ইতিহাসে অন্যতম নৃশংস মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় এবং আজও নিহতদের পরিবার ও সমগ্র ইরাকি জাতির জন্য গভীর বেদনার প্রতীক হয়ে আছে। 4357469#