IQNA

1:26 - March 30, 2017
সংবাদ: 2602812
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মানুষ স্বভাবজাতভাবে আত্মকেন্দ্রিক; সে শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবে এবং নিজের মধ্যেই সব কিছু জমা করে রাখতে চায়। তাই আল্লাহ প্রতি বছর বসন্ত ও প্রকৃতির নতুন জীবন দানের মাধ্যমে মানুষকে আত্মকেন্দ্রিকটা ও অহংকারের হাত থেকে রক্ষা করেন। কারণ যে ব্যক্তি শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবে সে সৃষ্টিতত্ত্বের উদ্দেশ্য এবং যুগের ইমাম ও পথপ্রদর্শকের দর্শন অনুধাবন করতে পারবে না।

বার্তা সংস্থা ইকনা: ইরানের নওরোজ তথা নববর্ষ এবং বসন্ত উৎসবকে সামনে রেখে শাবিস্তান বার্তা সংস্থা প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ এবং তেহরানের ইমাম মাহদী (আ.) মাদ্রাসার অধ্যক্ষের সাথে আলাপ করেছে। এখানে আমরা তা বাংলা ভাষীদের উদ্দেশ্যে তুলে ধরছি-  

ইরানের প্রাচীন নওরোজ সম্পর্কে রাসূল (সা.) ও ইমামগণ থেকে কিছু হাদীস বর্ণিত হয়েছে। ইমাম জাফর সাদীক (আ.) থেকে বর্ণিত হয়েছে;

ما من یوم نیروز الا و نحن نتوقع فیه الفرج لانه من ایامنا و ایام شیعتنا، حفظته العجم و ضیعتموه انتم  

অর্থাৎ নওরোজ আসলে আমরা শেষ জামানার ইমাম তথা ইমাম মাহদীর প্রতীক্ষায় থাকি। কেননা নওরোজ আমাদের ও আমাদের শিয়াদের দিন। যা তোমরা (আরবরা) ত্যাগ করেছ কিন্তু আজম তথা ইরানিরা ধরে রেখেছে।

এ হাদীস থেকে বুঝ যায় যে, নওরোজ তথা বসন্তের মর্মার্থ হচ্ছে ইমাম মাহদীর (আ.) প্রতীক্ষা। যদি কেউ ইমাম মাহদীর (আ.) প্রতীক্ষাকে নিজের জীবনে বাস্তবায়ন করতে পেরেছে, সে বসন্তের প্রকৃত মর্মার্থকেও বুঝতে পেরেছে। বসন্ত আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, শরতের প্রভাবে মৃতপ্রায় প্রকৃতি আবার কিভাবে নবজীবন ফিরে পেয়েছে, কিভাবে সারাদিকে সবুজ ও শ্যামলে ছেয়ে গেছে। এগুলো প্রমাণ করে মেঘের আড়ালে সূর্য হাসে কথাটি সত্যিই বাস্তব। হতাশা ও নিরাশার পরই আশা ও উচ্ছ্বাস অপেক্ষা করে। অর্থাৎ পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের মধ্য দিয়ে মানুষ পরিপূর্ণতার দিকে এগিয়ে যায়।

আল্লাহ পবিত্র কুরআনে উল্লেখ করেছেন যে, আমি মানুষকে সর্বোত্তম পন্থায় সৃষ্টি করেছি। এ আয়াতের মর্মো হচ্ছে মানুষকে সব সময় সর্বোত্তম ও উৎকৃষ্টের দিকে এগিয়ে যেতে হবে। যেভাবে আল্লাহ মানুষকে উত্তমভাবে সৃষ্টি করেছেন, সেভাবে মানুষকেও উত্তমের দিকে অগ্রসর হওয়া উচিত।

প্রকৃত ঈদ ও আনন্দ কিভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব?

হাদীসের দৃষ্টিতে একজন মানুষের জন্য সেদিনই হচ্ছে প্রকৃত ঈদ ও আনন্দের দিন, যে দিন সে নিজেকে সব ধরনের গুনাহ ও নাফরমানি থেকে বাঁচিয়ে রেখেছে। হাদীসটি হল নিম্নরূপ

كل یوم لا یعصی الله فیه فهو یوم عید   

মানুষ নাফসের তাড়না ও প্রবৃত্তি সব ধরনের চাহিদা থেকে নিজেকে নিষ্কলুষ ও পবিত্র রাখার মাধ্যমে আহসানুল হাল তথা সর্বোত্তম অবস্থায় উন্নীত হতে পারে। আর এ অবস্থায় উন্নীত হওয়ার পূর্ব শর্ত হল তাকওয়া বা খোদাভীরুতা। আল্লাহ কোরআনে উল্লেখ করেছেন,

اِنَّ اَکرَمَکُم عِندَ اللهِ اَتقاکُم   

  অর্থাৎ 'নিশ্চয় তোমাদের মধ্যে সে-ই আল্লাহর নিকট সর্বাধিক সম্মানিত, যে তোমাদের মধ্যে সর্বাধিক তাকওয়াধারী।' এখানে কোন বিশেষ গোষ্ঠী বা শ্রেণীর কথা উল্লেখ করা হয় নি, বরং উল্লেখ করা হয়েছে যে, মানুষ তাকওয়ার ভিত্তিতে আল্লাহর নিকট সম্মান লাভ করে থাকে।
নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
* captcha: