IQNA

10:41 - March 18, 2018
সংবাদ: 2605288
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: জামার্নিতে ইসলামের ভূমিকা নিয়ে দেশটির নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্স্ট সেহোফারের বির্তকিত মন্তব্যে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন দেশটির মুসলিম ও রাজনীতিক ব্যক্তিরা।

 

বার্তা সংস্থা ইকনা:  জার্মান সংবাদমাধ্যম ‘বিল্ড’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সেহোফার বলেছেন, ‘জার্মানির সংস্কৃতির সঙ্গে মিশে আছে খ্রিস্টান সংস্কার। সে কারণেই রবিবার এখানে দোকানপাট বন্ধ থাকে। প্রতিটি খ্রিস্টান পর্বের দিন এখানে ছুটি ঘোষণা হয়। বস্তুত, জার্মানি খ্রিস্টানদের সংস্কৃতি অনুসরণ করেই এতদিন ধরে চলছে। সেখানে ইসলামের কোনো জায়গা নেই।জার্মানিতে বসবাসরত মুসলিমরা নিশ্চিতভাবেই জার্মানি।’

তার এই বক্তব্য জার্মান চ্যাঞ্চেলর অ্যাঙ্গেলা মার্কেলের অবস্থানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক। ইতোপূর্বে ম্যার্কেল বলেছিলেন, ‘যদিও জার্মানি খ্রিস্টধর্ম ও ইহুদিবাদ দ্বারা প্রভাবিত, তবুও দেশে চার মিলিয়নেরও বেশি মুসলমান রয়েছে। তারা জার্মানির অন্তর্গত এবং একইভাবে তাদের ধর্মও।’

বিরোধী ‘গ্রীন পার্টি’র সদস্য কনস্টান্টিন ফন নটজ নতুন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হর্স্ট সেহোফারের বক্তব্যকে সম্পূর্ণ অর্থহীন বলে এর প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘একত্রীকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে এই ধরনের আচরণ জার্মানি সমর্থন করতে পারে না।’

মার্কেলের ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নের সদস্য আন্দ্রেয়াস নিক বলেছেন, ‘ধর্মীয় স্বাধীনতা একটি মৌলিক অধিকার যা আমাদের সংবিধান দ্বারা সকলের জন্য নিশ্চিত করা হয়েছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘ব্যক্তিদের তাদের আচরণ দ্বারা বিচার করা উচিত এবং এটা অবশ্যই দেশের আইন মেনে হতে হবে – এর চেয়ে কমও নয়, বেশিও নয়।’

এফডি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বিবৃতির সঙ্গে একমত। এফডি’র মুখপাত্র জোর্গ মিউতেন ‘এনপিআর’কে জানান, এর আগে তিনি নিজেও বহুবার একই রকম বিবৃতি দিয়েছিলেন। তিনি বলেন, সেহোফার কেবল এই বিষয়ে নির্ভরযোগ্য নই, বরং চলতি বছরের অক্টোবরে ‘বাভারিয়ান’ নির্বাচনকে সামনে রেখে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য এফডি’র ভোটারদের কাছে টানতে ‘সিএসইউ’ এর একটি ‘পপুলিস্ট প্রচেষ্টা’

জার্মানির মুয়েনস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামিক থিওলজি সেন্টারের প্রধান মুওহানাদ খোরচাইদ ‘এনপিআর’কে বলেন, ‘ইসলাম অবশ্যই জার্মানির অংশ। লক্ষ লক্ষ মুসলমান জার্মানিতে বসবাস করেন এবং তারা এই দেশের নাগরিকত্ব পেয়েছেন।’

তিনি বলেন, ‘আমরা ইসলাম ও মুসলিমদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করতে পারি না। জার্মান সংবিধান অনুযায়ী, ব্যক্তি ছাড়া কোনো ধর্ম নেই।’

সেহোফারের সাক্ষাত্কারের ফলাফল সম্পর্কে খোরচাইদ উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, ‘এই ধরনের বিবৃতি জার্মান সমাজকে মেরুকরণ করে। এটি এখন জার্মান ও মুসলমানদের মধ্যে পার্থক্য তৈরি করবে। অনেক মুসলমানদের জন্য এটি অনাকাঙ্খিত ও অবাঞ্ছিত হওয়ার অনুভূতি তৈরি করে। তাদের মধ্যে অনেকেই দ্বিতীয় বা তৃতীয় প্রজন্মের বাসিন্দা এবং জার্মানিই হচ্ছে তাদের দেশ।’

ইসলামি আইন বিশেষজ্ঞ ম্যাথিয়াস রোহে মনে করেন, সমগ্র বিতর্ক অর্থহীন হতে পারে। ‘কোনো সন্দেহ নেই যে জার্মানি খ্রিস্টধর্ম দ্বারা প্রভাবিত হয়েছে। কিন্তু এ নিয়ে কোনো মুসলিম কখনো জার্মানির খ্রিস্টান ইতিহাস নিয়ে প্রশ্ন তুলেনি বা এটি পরিবর্তনের দাবি করেনি।’ আরটিএনএন/ দ্য টু ওয়ে

নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
* captcha: