IQNA

20:47 - October 23, 2019
সংবাদ: 2609493
আন্তজাতিক ডেস্ক: আরবী আরবাঈন শব্দের অর্থ চল্লিশ। পারিভাষিক অর্থে শেষ নবী মোহাম্মদ(সা) এর কনিষ্ঠ দৌহিত্র হযরত ইমাম হোসেন (আ)'এর শাহাদাতের চল্লিশ দিন উপলক্ষে প্রতিবছর কারবালার ময়দান অভিমুখে যে শোক-পদযাত্রা বা পিলগ্রিমেজ পালন করা হয় তাকে আরবাঈন বলে।

বার্তা সংস্থা ইকনা'র রিপোর্ট: ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট:

হযরত মুহাম্মদ(সা)'এর একজন বিশিষ্ট ও প্রবীণ সাহাবী ছিলেন জাবির ইবনে আব্দুল্লাহ আল আনসারী (রা)। রাসুল(সা) এর মৃত্যুর পরেও বহু বছর তিনি বেঁচে ছিলেন। ইমাম হোসেনের পক্ষে যুদ্ধ করার প্রবল ইচ্ছা এবং আকুলতা থাকার পরেও অন্ধত্ব এবং বার্ধক্যজনিত কারণে তিনি কারবালায় ইমাম হোসেনের সাথী হতে অসমর্থ হন। কিন্তু যখন তিনি শুনতে পান যে, ইমাম হোসেন নবী বংশের সদস্যদের নিয়ে কারবালার প্রান্তরে শহীদ হয়েছেন তখন তিনি শোকে মুহ্যমান হয়ে পড়েন। এ অবস্থায় তিনি তাঁর সেবক আতিয়া ইবনে সা’দকে নিয়ে কারবালার পথে যাত্রা শুরু করেন এবং ইমাম হোসেনের শাহাদাতের চল্লিশতম দিনে কারবালার প্রান্তরে পৌঁছেন।

কাকতালীয়ভাবে তার কিছুদিন আগেই ইমাম হোসেনের পরিবারের নারী সদস্যরা এবং ইমাম হোসেনের একমাত্র জীবিত সন্তান ইমাম জয়নুল আবেদীন (যাদেরকে কারবালার প্রান্তর থেকে আটক করা হয়) দামেষ্কে ইয়াজিদের কারাগার থেকে মুক্তি লাভ করেন। ইমাম হোসেনের চল্লিশার দিনে তারাও কারবালার প্রান্তরে উপস্থিত হন।

জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ আল আনসারী(রা) কারবালার প্রত্যক্ষদর্শী ইমাম হোসেনের সন্তান ইমাম জয়নুল আবেদীনের মুখে কারবালার ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা শোনেন। এ অবস্থায় তিনি, ইমাম জয়নুল আবেদীন এবং নবীর(সা) পরিবারের নারীরা কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন ও ইমাম হোসেনের কবর জিয়ারত করেন।

ইমাম জয়নুল আবেদীন নবীর(সা) আহলে বায়েতের (বংশধারার) সদস্য হিসেবে শিয়া এবং সুন্নি উভয় ধারার মুসলমানের কাছেই আকাশসম সম্মানের অধিকারী। মূলত রাসুলের সাহাবী জাবের ইবনে আব্দুল্লাহ আল আনসারী(রা)র কাজ,ইমাম জয়নুল আবেদীনের নির্দেশ এবং পরবর্তী জমানায় রাসুলের বংশধারা, তাবেঈন (যারা মহানবীর-সা সাহাবিদের সান্নিধ্য পেয়েছেন) ও তাবাতাবেঈনের (যারা তাবেয়িদের সান্নিধ্য পেয়েছেন) পালিত রীতি অনুসারে ইমাম হোসেনের চল্লিশা উপলক্ষে দুনিয়ার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে নাজাফ হয়ে কারবালার পথে পদযাত্রা করাকেই আরবাঈন হিসেবে গণ্য করা হয়।

তবে আরবাঈন নামক পদযাত্রার সমসাময়িক রাজনৈতিক তাৎপর্য কোন অংশে কম নয়। সাবেক স্বৈরশাসক সাদ্দাম হোসেনের শাসনামলে ইরাকে প্রকাশ্যে হজরত ইমাম হোসেনের কবর জিয়ারত করতে যাওয়া,পবিত্র আশুরা পালন করা কিংবা আরবাঈনের পদযাত্রা কঠোরভাবে নিষিদ্ধ ছিল। কাউকে এর কোনো একটি করার দায়ে আটক করা হলে নিষ্ঠুরভাবে তাকে হত্যা করা হতো। মূলত সম্পূর্ণ স্যেকুলার সাদ্দাম হোসেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে ইরানের সাথে আট বছর মেয়াদী প্রক্সি যুদ্ধের পর যখন মার্কিনীরা সাদ্দামকে ছুঁড়ে ফেলে দেয়, তখন দেশের জনগণের রোষের মুখে নিজের ক্ষমতা আঁকড়ে থাকার তাগিদে সে দেশে শিয়া-সুন্নি সাম্প্রদায়িক বিভক্তিকে উসকে দেয় এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ শিয়াদেরকে নির্বিচারে হত্যা করার মাধ্যমে সুন্নি জনগোষ্ঠী এবং সৌদি সরকারের মন জুগিয়ে চলার চেষ্টা করেন।

ইমাম হোসেন প্রত্যেক যুগেই ন্যায়পরায়ণ মুসলমানদের জন্যে অন্যায়ের বিরুদ্ধে শিকল-ভাঙ্গার প্রতীক হয়ে রয়েছেন। সাদ্দাম হোসেনের পতনের পর দেশটির শিয়া মুসলমানরা নিজস্ব শক্তি প্রদর্শন ও প্রতিবাদের জানান দেয়ার জন্যে আরবাঈনের পদযাত্রার পুনরুজ্জীবন ঘটান।

আরবাঈন গত ২০০৯ সাল থেকে ২০১৬ সালের আরবাঈন পর্যন্ত প্রতিবছরই 'বাৎসরিক সর্ববৃহৎ শান্তিপূর্ণ মিলনমেলা' হিসেবে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য গণমাধ্যমে স্থান করে নিয়েছে।

২০০৮ সালে প্রায় ৯০ লাখ মানুষ এতে অংশ নেয়। ২০০৯ সালে তা এক কোটি ছাড়িয়ে যায়।(বিবিসি এবং প্রেস টিভির তথ্যানুসারে)২০১৩ সাল নাগাদ তাও দু’কোটি পেরিয়ে যায়।(আল আলাম এবং দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট-এর তথ্যানুসারে) দায়েশ তথা আইএস বা আইসিসের উত্থান ও শিয়াদের উপর নৃশংস হত্যাযজ্ঞের পরেও ২০১৪ সালে টেলিগ্রাফের তথ্য অনুযায়ী এক কোটি ৯০ লাখ এবং ২০১৫ ও ২০১৬ সালে আনুমানিক এক কোটি ৭০ লাখ মানুষ এতে অংশ নেয়।(বিবিসি,দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট এবং এসবিএস নিউজ)। তবে ইরাকি সরকারি হিসাবমতে ২০১৬ সালে উপস্থিত জিয়ারতকারীর সংখ্যা ছিল কমপক্ষে দু’কোটি বিশ লক্ষ। কিন্তু পরবর্তী বিস্তারিত হিসাব অনুসারে জিয়ারতকারীদের সংখ্যা ছিল দুই কোটি ছাব্বিশ লাখ যা কিনা মুসলমানদের পবিত্র হজ্জব্রতে উপস্থিতির চেয়েও কমপক্ষে পাঁচ গুন বেশী।

আরবাঈনের মূল আয়োজন শুরুর অনেক আগেই এ বছর(২০১৯) বিশ লক্ষাধিক ইরানী জিয়ারতকারী ইরাকে প্রবেশ করেছেন এবং শেষ পর্যন্ত তা ত্রিশ লাখ (প্রায় ৩৪/৩৪ লাখ) ছাড়িয়ে গেছে। এবছর ইমাম হোসেনের জিয়ারতকারীর সংখ্যা তিন কোটি ছাড়িয়ে গেছে বলে মনে করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য 'মানবেতিহাসের সর্বোচ্চ মানব জমায়েত'-এর তালিকায় 'আরবাঈন' দ্বিতীয় স্থানে থাকলেও বার্ষিক সর্বোচ্চ মানব-জমায়েতের তালিকায় এর অবস্থান প্রথমে। কারণ, ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত হিন্দু ধর্মাবলম্বিদের কুম্ভমেলাকে মানবেতিহাসের সর্বোচ্চ জনসমাগম বলে দাবি করা হয়।কিন্তু এই মেলা প্রতি তিন বছর পর একবার হয়ে থাকে।

তাকফিরি জঙ্গিদের হুমকি, হামলা ও আগ্রাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে সারা দুনিয়া থেকে ছুটে আসছেন হযরত ইমাম হোসেনের প্রেমিক ও অনুরাগীরা। প্রতি বছরই তাদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। আরও উল্লেখযোগ্য যে, আরবাঈন ও ইমাম হোসেনের শাহাদাতের ঘটনায় শোকপ্রকাশ শিয়া মুসলমানগনের ঐতিহ্য হিসেবে বিবেচিত হলেও আরবাঈন উপলক্ষে কারবালায় ছুটে আসছেন অসংখ্য সুন্নি মুসলমান, খ্রিস্টান-ভ্যাটিকানের প্রতিনিধি, হিন্দু, ইয়াজেদি, জোরেস্ট্রিয়ান, সাবেয়িন ও এমনকি কোনো ধর্ম মানেন না এমন কিছু গোষ্ঠীর সদস্য ও নাস্তিকরা। এই শ্রেণীর মানুষকে ধর্মীয় চেতনায় না হলেও আদর্শের প্রশ্নে ইমাম হোসেনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল বলা যায় ।

হাফিংটনপোস্টে প্রখ্যাত ইসলামী চিন্তাবিদ মাহদি আল মুদাররেসি তার নিজস্ব কলামে, কারবালার পথে আরবাঈনের পদযাত্রায় অংশগ্রহণ করে, নিজের অনুভূতি এভাবেই প্রকাশ করেছেন,

"নারী-পুরুষ এবং শিশুদের পদযাত্রা-যেন তুষার-ধসের মত (এগিয়ে চলেছে)। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য হল, কালো চাদরে ঢাকা নারীদের অবস্থান-দিগন্তের একমাথা থেকে আরেক মাথা অবধি বিস্তৃত।" তার আরবাঈন শীর্ষক কলাম ( World's Biggest Pilgrimage Now Underway, And Why You've Never Heard of it!) যেটি কিনা ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে, তাতে এটিও জানা যায় যে, বসরা থেকে কারবালা পর্যন্ত সুদীর্ঘ ৪২৫ মাইল পথ -দু'সপ্তাহের প্রচেষ্টায়-পায়ে হেঁটে পার করেন অনেক শোক-যাত্রী।

বিনামূল্যে সকাল-দুপুর ও রাতের খাবার এবং অন্যান্য সেবাঃ

মাহদি আল মোদাররেসির কলামে এ সম্পর্কে লেখা হয়েছে ,

'কারবালাগামী-যাত্রী বা জিয়ারতকারীদের জন্যে যাত্রাপথের অন্যতম আকর্ষণ হল অস্থায়ী রান্নাঘরযুক্ত হাজার হাজার তাঁবু বা স্টল যেগুলোকে মুকেব (বহুবচনে মাওয়াকিব) বলা হয়, যেগুলো পার্শ্ববর্তী গ্রামবাসীরা জিয়ারতকারীদের খেদমতের জন্যে তৈরি করে থাকেন। এইসব কেন্দ্রে দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় সব সামগ্রী বিনামূল্যে পেয়ে থাকেন জিয়ারতকারীরা। স্বাস্থ্যকর খাবার থেকে শুরু করে বিশ্রামের স্থান পর্যন্ত, বিদেশে ফোন-যোগাযোগের সুবিধা, বাচ্চাদের ডায়াপার --সবই বিনামূল্যে। ৪০০ মাইল যাত্রাপথে জিয়ারতকারীদের এককথায় কোন কিছুই নিজ থেকে বহন করা লাগেনা।

এরচেয়েও অভাবনীয় হচ্ছে, যেভাবে জিয়ারতকারীদের খাদ্যগ্রহণের আকুল আবেদন বা আমন্ত্রণ জানানো হয় সেটি। রাস্তার বিভিন্ন পয়েন্টে বা মোড়ে মোড়ে যাত্রীকে পথরোধ করেন এলাকাবাসী ইমাম-ভক্তরা এবং বিনামূল্যে খাদ্যগ্রহণে বাধ্য করেন তারা। যেই খাবার প্রায়ই একজনের জন্যে পরিপূর্ণ তৃপ্তিদায়ক ও যথেষ্ট পরিমাণে হয়ে থাকে। অনেক ক্ষেত্রে ক্লান্ত-শ্রান্ত যাত্রীর পা-ম্যাসেজ করে দেন স্বেচ্ছাসেবীরা।

এরপর তারা পদযাত্রীকে বিশ্রাম নিতে অনুরোধ করেন-যতক্ষণ তারা(স্বেচ্ছাসেবীরা) তার(যাত্রীর) জামা-কাপড় ধুয়ে-শুকিয়ে ইস্ত্রি করেন সেই পর্যন্ত (পুরোটাই যাত্রীর সম্মানে-বিনামূল্যে অবশ্যই)।.......।একজন স্বেচ্ছাসেবীর ভাষায়,'ইসলামের শিক্ষা সম্পর্কে জানতে চাইলে, কতিপয় নরপশু-জঙ্গির দিকে নজর না দিয়ে বরং আরবাঈন উপলক্ষে নিঃস্বার্থ ত্যাগের নজিরগুলোর দিকে মনোযোগ দেয়া উচিত।'

বিভিন্ন সাক্ষাতকার থেকে আরও জানা যায় যে,দীর্ঘ ১১টা মাস দারিদ্র্য ও যুদ্ধপীড়িত ইরাকীরা না খেয়ে কিংবা অর্ধাহারে থেকে,মূল্যবান দ্রব্যাদি বিক্রয় করে ও কখনও ঋণ নিয়ে সারা দুনিয়া থেকে আসা আসা ইমাম হোসেনের জিয়ারতকারীদের জন্যে বিনামূল্যে এই খাদ্য-সামগ্রী এবং ফ্রি চিকিৎসা ক্যাম্পের ব্যবস্থা করেন।

আরবাঈন উপলক্ষে ইমাম হোসেনের অনুরাগীরা কারবালা অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। কেউবা নাযাফ শহর থেকে যাত্রা শুরু করেন যেখান থেকে কারবালার দূরত্ব ৫৫ মাইল আর কেউবা যাত্রা শুরু করেন বসরা শহর থেকে ;কারবালা পৌঁছতে সেক্ষেত্রে অতিক্রম করা লাগে ৪২৫ মাইল। এই বিশাল দূরত্বে পদে পদে পুতে রাখা বোমার ভয়,অপহৃত হওয়ার ভয়। সেই ভয়কে জয় করে বিভিন্ন পেশা-শ্রেণীর নারী,পুরুষ, শিশু,যুবক,মৃত্যুপথযাত্রী কিংবা গুরুতর পঙ্গু-বধির-অন্ধ হোসেনপ্রেমীরা সমস্বরে স্লোগান তোলেন,

"যদি তারা(আইএস) আমাদের পা এবং হাত বিচ্ছিন্ন করে ফেলে দেহ হতে,

তবুও আমরা এই পবিত্র ভূমির পানে ছুটে আসবই!"

কেনো এই দু কোটি ষাট লক্ষ মানুষের শান্তিপূর্ণ মিলনমেলা? যেখানে কোন তীর্থ-ব্যবসা নেই। কোন চটকদার নোংরামি নেই। নেই সুরম্য অট্টালিকা-শততলা স্কাইস্ক্রেপার। নেই ক্লক-টাওয়ার। কি উদ্দেশ্যে হুইলচেয়ারে কিংবা ক্র্যাচ-নির্ভর পঙ্গু কিংবা হাতে লাঠি নিয়ে একজন অসহায় অন্ধ ৪০০ মাইল পার হয়ে কারবালায় ছুটে আসেন? কি জন্যে একজন বৃদ্ধ পিতা তার প্রতিবন্ধী সন্তানকে কাঁধে করে বসরা থেকে কারবালা অবধি ছুটে আসেন? কি জন্যে মিম্বরের সাদা পাগড়ি পরা আলেম স্বেচ্ছাসেবীদের সাথে রাস্তায় বসে তীর্থযাত্রীদেরকে ফল বিতরণ করেন কিংবা তাদের জুতো পালিশ করেন?কেনো ইউরোপ,আমেরিকা ও এশিয়া থেকে দুই কোটিরও বেশি মানুষ কারবালায় ছুটে আসেন শুধু ইমাম হোসেনের প্রেমে; যখন এই যাত্রা মোটেও কোনো অবশ্যপালনীয় ধর্মীয় আচার নয়!

না! মিডিয়ায় মহররম বলতে চাকু দিয়ে নিজের পিঠে আঘাত করে যে রক্তপাত দেখানো হয়-সেই উদ্দেশ্যে এই পদযাত্রা নয়। শুধু ক্রন্দন কিংবা 'ইয়া হোসেন' বলে বুক চাপড়ানোও উদ্দেশ্য নয়। এই বিপদসংকুল পদযাত্রার পেছনে কোনো 'বিষাদ-সিন্ধু' শ্রেণীর বানোয়াট মুখরোচক কাহিনী প্রেরণা-দর্শন হিসেবে নিহিত নেই।

কারবালা হল সকল অন্যায়, অসাম্য, অবিচার-অত্যাচারের বিরুদ্ধে প্রতি পদক্ষেপে নিজের সীমিত শক্তি দিয়ে প্রবলভাবে রুখে দাঁড়ানোর প্রেরণা; যা কিনা শুধু শিয়া কিংবা সুন্নি মুসলমান নয় বরং সমগ্র মানবতার জন্যেই প্রযোজ্য।

ইমাম হোসেন শাহাদাতের আগ মুহূর্তে ইয়াজিদি সেনাদের লক্ষ্য করে বলেছিলেন,

'পরিশেষে তুমি যদি কোনো ধর্মেই বিশ্বাসী নাও হও, কিংবা পরকালের অস্তিত্বে অবিশ্বাস করো; তাহলেও (স্বাধীন মানুষ হিসেবে) অন্তত জুলুম করা ও ঔদ্ধত্য প্রদর্শন থেকে বিরত থাকো।'

ইমাম হোসেন বলেছিলেন, 'এটা উত্তম যে তুমি তোমার পায়ে দণ্ডায়মান অবস্থায় মৃত্যুবরণ করবে-হাঁটু গেড়ে আত্মসমর্পণ করে নয়।'

পদ্মভূষণ প্রাপ্ত সাহিত্যিক জস মালিহাবাদি বলেছেন, 'মানবতাকে জাগ্রত করো; অত:পর সবাই হোসেন কে নিজের বলে দাবি করবে।'

মহাত্মা গান্ধী বলেছেন, 'আমি মনে করি ইসলাম তরবারির জোরে নয় বরং ইমাম হোসেনের চরম আত্মত্যাগের ফলেই বিকশিত হয়েছে।....। মজলুম অবস্থায় কিভাবে বিজয় অর্জন করতে হয় আমি তার শিক্ষা পেয়েছি ইমাম হোসেনের কাছ থেকে। ভারত যদি একটি বিজয়ী রাষ্ট্র হতে চায় তাহলে তাকে ইমাম হোসেনের আদর্শ অনুসরণ করতে হবে। ইমাম হোসেনের ৭২ জন সেনার মত সেনা যদি আমার থাকতো তাহলে আমি ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ভারতের স্বাধীনতা এনে দিতে পারতাম।' পার্সটুডে

[লেখক: মাহদি মাহমুদ, অর্থনীতি বিভাগ (সম্মান,৪র্থ বর্ষ), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়]

 

তথ্যসূত্র:

১) https://www.independent.co.uk/news/world/middle-east/20-million-muslims-march-against-isis-arbaeen-pilgrimage-iraq-karbala-a7436561.html

২) https://www.independent.co.uk/news/world/middle-east/one-of-the-worlds-biggest-and-most-dangerous-pilgrimages-is-underway-9882702.html

৩) http://www.sbs.com.au/news/article/2014/12/14/arbaeen-pilgrimage-iraq-175-million-defy-threat

৪) https://www.bbc.com/news/world-middle-east-30462820

৫) https://www.independent.co.uk/news/world/middle-east/arbaeen-pilgrimage-kerbala-shia-isis-defeat-muslims-thousands-killed-middle-east-iraq-najaf-a8046621.html

৬) https://web.archive.org/web/20151006133406/http://www.telegraph.co.uk/news/newstopics/howaboutthat/11354116/The-ten-largest-gatherings-in-human-history.html

৭) http://www.ibtimes.co.uk/arbaeen-worlds-largest-annual-pilgrimage-millions-shia-muslims-gather-karbala-1531726

৮) https://www.alaraby.co.uk/english/news/2016/11/16/iraq-prepares-for-biggest-shia-muslim-arbaeen-gathering-in-history

৯) http://nation.com.pk/05-Nov-2017/arbaeen-a-spiritual-walk

১০) World's Biggest Pilgrimage Now Underway, And Why You've Never Heard of it!-- https://bit.ly/2VKDvln

 

নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য: