IQNA

23:10 - November 05, 2019
সংবাদ: 2609577
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অনেকটা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। গতকাল (সোমবার) মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয়ের পররাষ্ট্র সম্পদ নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে ইরানের একটি প্রতিষ্ঠান ও নয় ব্যক্তির ওপর নতুন করে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

বার্তা সংস্থা ইকনা'র রিপোর্ট: ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পক্ষ থেকে নিয়োগ পাওয়া ইরানের সেনাপ্রধান মেজর জেনারেল মোহাম্মাদ বাকেরি ও বিচার বিভাগের প্রধান ইব্রাহিম রায়িসি’কে নতুন করে আরোপিত এ নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। এ ছাড়া, আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর চিফ অব স্টাফসহ তাঁর দপ্তরের কয়েকজন কর্মকর্তাকে এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনা হয়েছে। ওয়াশিংটন বলেছে, “ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ীর পক্ষ থেকে নিয়োগ পাওয়া কিংবা তার পক্ষে কাজ করার জন্য এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলো।”

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত বছর ৮মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর একের পর এক ইরানের বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নজিরবিহীন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে চলেছেন। এমনকি অন্য দেশকেও এ হুমকি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে ইরান বিরোধী বেআইনি নিষেধাজ্ঞা মেনে চলতে বাধ্য করার চেষ্টা করছে আমেরিকা। অর্থাৎ তেহরানকে নতজানু করতে ওয়াশিংটন বলদর্পিতার আশ্রয় নিয়েছে। তবে ইরানের ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এ নীতি বা আচরণ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনার সম্মুখীন হয়েছে। অন্যায় দাবি মেনে নিতে ওয়াশিংটন তেহরানকে বাধ্য করার চেষ্টা করছে। এ লক্ষ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও গত বছর মে মাসে ১২ দফা প্রস্তাব দেন।

ইরানের বিরুদ্ধে সর্বশেষ নিষেধাজ্ঞার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে, ইরানের সর্বোচ্চ নেতার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

সর্বোচ্চ নেতা আমেরিকার সঙ্গে যেকোনো আলোচনার সম্ভাবনাকে নাকচ করে দেয়ায় ওয়াশিংটন কার্যত হতাশ ও অচলাবস্থার সম্মুখীন হয়েছে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ধারণা করেছিলেন, সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করে ইরানকে আলোচনায় বসাতে এবং ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচী সীমিত করা ও মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের নীতিতে পরিবর্তন আনাসহ অন্যান্য দাবি মেনে নিতে তেহরানকে বাধ্য করা যাবে।

এ ব্যাপারে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, আমেরিকার সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির নীতি ব্যর্থ হয়েছে এবং আমরা মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে নিজেদের সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ বলে মনে করি।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, নিষেধাজ্ঞা দিতে দিতে আমেরিকা শেষ সীমানায় এসে পৌঁছেছে এবং নিষেধাজ্ঞা আরোপের আর কিছু বাকি নেই। iqna

নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য: