IQNA

20:31 - January 12, 2021
সংবাদ: 2612101
তেহরান (ইকনা): ২০ জানুয়ারি পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নেবেন জো বাইডেন। তার আগে যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে অস্ত্র নিয়ে তাণ্ডব চালাতে পারে ট্রাম্প সমর্থকদের একাংশ। সম্প্রতি এমনই খবর পেয়েছে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা এফবিআই। প্রশাসনের সঙ্গে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক করেছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা। বৈঠকে ওয়াশিংটনে ১৫ হাজার
ন্যাশনাল গার্ড পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে এর মধ্যে প্রায় ছয় হাজার ন্যাশনাল গার্ড ইতোধ্যেই ওয়াশিংটনে রয়েছে। কংগ্রেস ভবন ক্যাপিটল হিলে হামলার পরেই তাদের সেখানে মোতায়েন করা হয়েছিল। খবর : রয়টার্স ও এপি।
 
গত বুধবার ওয়াশিংটনের ক্যাপিটলে হামলার ঘটনার পর থেকেই ২০  জানুয়ারির অনুষ্ঠান নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছে মার্কিন প্রশাসন। হোমল্যান্ড নিরাপত্তার প্রধান চ্যাড উলফ সোমবারই পদত্যাগ করেছেন। তবে এ দিন পদত্যাগের আগে তিনি জানিয়েছেন, সিক্রেট সার্ভিস এজেন্সিকে ১৩ তারিখ থেকে বিশেষ নজরদারির  নির্দেশ দিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ, ১৩ জানুয়ারি থেকে ২০ জানুয়ারির অনুষ্ঠানের জন্য বিশেষ নজরদারি চালাবেন সিক্রেট সার্ভিসের কর্মীরা। ক্যাপিটলের ঘটনার জন্য সিক্রেট সার্ভিসের অনেক বেশি কর্মীকে ২০ জানুয়ারির অনুষ্ঠানের জন্য নিয়োগ করা হচ্ছে বলে এদিন জানিয়েছেন তিনি।
 
এরই মধ্যে ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ন্যাশনাল গার্ডের প্রধান জানিয়েছেন, বুধবারের ঘটনার পরেই ওয়াশিংটনে ছয় হাজার ২০০ ন্যাশনাল গার্ডকে পাঠানো হয়েছিল। ওইদিন তারা ওয়াশিংটনের রাস্তায় ফ্ল্যাগ মার্চও করেছিল। তারপর থেকে ওই গার্ডদের ওয়াশিংটনেই রাখা হয়েছে। ২০ জানুয়ারির অনুষ্ঠানের জন্য আরও ১০ হাজার গার্ডকে ওয়াশিংটনে পৌঁছতে বলা হয়েছে। আগামী শনিবারের মধ্যে তারা সেখানে পৌঁছে যাবে।
 
এবারের অনুষ্ঠানে দর্শক থাকার বিষয়ে বহু নিষেধাজ্ঞা জারি হয়েছে। বিভিন্ন রাজ্যের পর্যটকদের জানিয়ে দেয়া হয়েছে, ২০ জানুয়ারি পর্যন্ত ওয়াশিংটনে প্রয়োজন ছাড়া না যেতে। ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ওয়াশিংটনের সব মনুমেন্ট বন্ধ রাখা হয়েছে। প্রতি বছর প্রেসিডেন্টের শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে বহু দর্শক উপস্থিত থাকেন। কিন্তু এবার করোনার জন্যই দর্শক রাখা হবে না বলে জানানো হয়েছে। তার ওপর ক্যাপিটল ভবনে হামলার ঘটনার পর প্রশাসন আরও সতর্ক হয়ে গিয়েছে। তবে জানানো হয়েছে, দর্শকদের কথা ভেবে ওয়াশিংটন মলে ওইদিন নানা মাপের এক কোটি ৯১ হাজার ৫০০টি প্রতীকী পতাকা টাঙানো হবে।
 
গোয়েন্দা সূত্র জানিয়েছে, আগামী ১৬ তারিখ থেকে আমেরিকার ৫০টি রাজ্যের প্রতিটির রাজধানীতে অস্ত্র নিয়ে রাস্তায় নামতে পারে ট্রাম্পের সমর্থকরা। তারা অরাজকতা তৈরির চেষ্টা করবে। ওয়াশিংটনেও লাগাতার অস্ত্র নিয়ে বিক্ষোভ হওয়ার সম্ভাবনার তথ্য মিলেছে। তারই ভিত্তিতে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় ন্যাশনাল গার্ড মোতায়েন করা হচ্ছে।
 
ইতোমধ্যে কংগ্রেসে ট্রাম্পকে অভিশংসন করার প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিশংসন প্রস্তাবটি আগামীকাল বুধবার আলোচনায় যেতে পারে। ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে আশা করা হচ্ছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট মাইক পেন্স মার্কিন সংবিধানের ২৫তম সংশোধনী বলবৎ করবেন। এ সংশোধনীতে প্রেসিডেন্টকে দায়িত্ব পালনে অযোগ্য ঘোষণা করে ভাইস প্রেসিডেন্ট নিজেই ক্ষমতা পরিচালনা করতে পারেন।
 
সহিংসতার হুমকির মুখেও আমেরিকাকে ঐক্যবদ্ধ করার চেতনা ধারণ করে বাইডেনের অভিষেক অনুষ্ঠান সাজানো হচ্ছে। পরবর্তী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন অবশ্য জানিয়েছেন, এসব কোনো কিছুতেই তিনি ভয় পাচ্ছেন না।
সূত্র: sharebiz
নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
* captcha: