IQNA

20:24 - December 08, 2021
সংবাদ: 3471104
তেহরান (ইকনা): সাপ্তাহিক ছুটিকে কেন্দ্র করে মুসলিম ও অমুসলিম দেশগুলোর মধ্যে পার্থক্য আছে। সপ্তাহের কোন্ দিন যে ছুটির দিন তা থেকে বোঝা যায় যে দেশটি মুসলিম না অমুসলিম প্রধান।

মুসলমান দেশ গুলো সপ্তাহের ছুটির দিন হিসেবে শুক্রবার এবং অমুসলিম দেশ গুলো শনি ও রোববারকে ছুটির দিন হিসেবে গ্রহণ করেছে। যেহেতু সবকটি ইউরোপীয় দেশে শনিবার ও রোববার হচ্ছে সাপ্তাহিক ছুটির দিন  এবং পাশ্চাত্যের অনুকরণে অমুসলিম দেশগুলোয় এবং কিছু মুসলিম দেশে শনি ও রোববার সাপ্তাহিক ছুটির দিন হিসেবে গৃহীত হয়েছে এবং পাশ্চাত্যের সাংস্কৃতিক প্রভাবে এক রকম অলিখিত সর্বজনীন নিয়ম বলে গণ্য করা হচ্ছে যে বিশ্বে সাপ্তাহিক ছুটির দিন : "শনি ও রোববার।" তাই কতিপয় মুসলিম দেশ যেমন: পাকিস্তান ( সামরিক ডিক্টেটর জেনারেল পারভীয মোশাররফের শাসনামলে ) সাপ্তাহিক ছুটি শুক্রবারের স্থলে রোববার করে এবং হালে আরব আমিরাত ইসরাইলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর পরই সাপ্তাহিক ছুটির দিন শুক্রবারের স্থলে শনিবার ও রোববার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

 

অতএব , অনেকেই ( বিশেষ করে পাশ্চাত্য ঘেঁষা সেক্যুলাররা ) হয়তো মনে করতে পারে যে মুসলিম দেশগুলোতেও শুক্রবার খোলা রেখে শনিবার ও রোববার বন্ধ রাখাই শ্রেয় ও সবচেয়ে যৌক্তিক।

 

কিন্তু এ সব ব্যক্তির ভৌগলিক জ্ঞানের বোধ হয় অভাব আছে। কারণ , বাংলাদেশে যখন সূর্যোদয় হয় তখন জাপানে দিন বারোটা। আর বাংলাদেশে যখন অফিস আদালত শুরু হয় তখন জাপানে অপরাহ্ন দুইটা তিনটা অর্থাৎ তখন জাপানে অফিস আদালত ছুটি হয়ে যায় অর্থাৎ সেখানে ওয়ার্কিং ডে শেষ হয়ে যায় অথবা শেষ হবার পথে থাকে। ওদিকে ব্রিটেন ও ইউরোপে তখন গভীর রাত। আর বাংলাদেশে যখন অফিস আদালত অর্থাৎ কর্মব্যস্ত দিন শেষ হয় তখন ব্রিটেন ও ইউরোপে সকাল হয় এবং ইউরোপে যখন অফিস আদালত অর্থাৎ কর্মব্যস্ত দিন শুরু হয় তখন বাংলাদেশে সন্ধ্যা গড়িয়ে রাত হয়ে যায় !!! অতএব এক ই কর্মব্যস্ত দিবসে পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের সাথে বাংলাদেশের সময়ের এত ফারাক ও ব্যবধান যে এমতাবস্থায় প্রাচ্য পাশ্চাত্যের অফিস আদালতের সাথে বাংলাদেশের অফিস আদালতের  অফিসিয়াল যোগাযোগ কিভাবে সম্ভব হবে ? বোধ হয় যোগাযোগ মেইনটেইন করার জন্য বাংলাদেশের মতো দেশগুলোর অফিস আদালত পুরো সপ্তাহ ধরে দিনরাত ২৪ ঘন্টা খোলা রাখতে এবং কর্মকর্তা ও কর্মচারীদেরকে ২৪ ঘন্টা অফিসে সার্বক্ষণিক ভাবে হাযির থাকতে হবে !!! তাহলেই তখন প্রাচ্য ও পাশ্চাত্যের সাথে এ সব দেশের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হবে না !!!

 

গির্জায় ও উপাসনালয়ে যাওয়ার জন্য রোববার হচ্ছে খ্রিষ্টানদের ছুটি ও বন্ধের দিন এবং ইহুদীরা শনিবার কে ছুটির দিন হিসেবে বেছে নিলে আমি ছোট বেলায় প্রশ্ন করতাম মুরব্বীদের কাছে:  " তাহলে আমরা মুসলমানরা কেন শুক্রবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন করছি না? "  আমার স্পষ্ট মনে আছে তখন মুরুব্বীরা জবাব দিতেন যে আমরা তা করতে পারব না। কারণ এতে আমাদের প্রভূত অর্থনৈতিক ক্ষতি হবে এ কারণে যে ঐ দিন ( শুক্রবার ) উন্নত দেশগুলোর ( প্রাচ্য পাশ্চাত্য ) অফিস আদালত খোলা থাকে এবং আমাদের ঐ সব দেশের ব্যবসায়িক বাণিজ্যিক কেন্দ্র , বিশ্ববিদ্যালয় , শিক্ষা ও শিল্প প্রতিষ্ঠান ও অফিস আদালতের সাথে অফিসিয়াল যোগাযোগ রাখতেই হবে। তাই আমরা শুক্রবার অফিস আদালত বন্ধ রাখতে পারব না।

 

শুক্রবার বন্ধ রাখলে আমরা সপ্তাহের একদিন আরো বেশি উন্নত দেশগুলোর সাথে যোগাযোগ করা থেকে বঞ্চিত থাকব যা আমাদের জন্য অনেক অর্থনৈতিক ও অন্যান্য ক্ষতি বয়ে আনবে !! কিন্তু তাঁদের এ জবাব আমার কাছে মনো:পুত হয় নি ; কারণ তারা দ্বীন - ধর্মের চাইতে অর্থনৈতিক ও অন্যান্য দুনিয়াবী ফায়দা ও সুবিধার কথা বলছেন বলে। কিন্তু পরবর্তীতে সময়ের বিস্তর তফাৎ ও ব্যবধান একই দিনে বিদ্যমান থাকার জন্য এ ধরণের যোগাযোগ যে সম্ভব নয় ওয়ার্কিং আওয়ারের মধ্যে তা পরবর্তীতে ভৌগলিক জ্ঞান লাভ করার পর স্পষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু আমার শিক্ষিত মূরব্বীদের ভৌগলিক জ্ঞান থাকার পরও কেন যে তারা এ ধরণের জবাব দিতেন তা আজও আমার বোধগম্য নয়। আর অফিসিয়াল যোগাযোগের জন্য অবশ্যই ভিন্ন ব্যবস্থা গ্রহণ করতেই হবে। আর সকল অফিস ও প্রতিষ্ঠান কি বহির্বিশ্বের সাথে দৈনন্দিন অফিসিয়াল যোগাযোগ মেইনটেইন করে ? উত্তর : না।

 

যাদের যোগাযোগের প্রয়োজন তারা তো খোলা রাখবেই । কেন অবশিষ্ঠ সংখ্যাগরিষ্ঠ অফিস ও প্রতিষ্ঠান , বহির্বিশ্বের সাথে যাদের আদৌ যোগাযোগ করতেই হয় না তারা কেন শুক্রবার খোলা রাখবে ? আর এখন তো ইন্টারনেটের যুগ । অনলাইনে যে কোনো সময় যে কোনো দেশ , ব্যক্তি , দফতর ও প্রতিষ্ঠানের সাথে যোগাযোগ রাখা সম্ভব । তাই শুক্রবার বন্ধ না রেখে খোলা রাখা এবং শনিবার ও রোববার বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত যা আরব আমিরাত ইসরাইলের সাথে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর পর নিয়েছে তা আসলে মুসলিম সমাজকে ডিইসলামাইজেশন (অনৈসলামীকীকরণ) সেক্যুলারাইজেশন  ও ইহুদী - নাসরানী করণ ছাড়া আর কিছুই নয় !! আরব দেশগুলো হয়তো জাহিলিয়াতের দিকেই প্রত্যাবর্তন করছে! আর তাই এখন থেকে আরব আমিরাতকে আরব আমিরাত না বলে আল ইমারাত্ আল - মুত্তাহিদাহ্ আল - ইব্রীয়াহ্ ( সংযুক্ত হিব্রু / ইব্রী আমীরাত ) বলাই শ্রেয় । আর এ দেশটির কারণে বহু মুসলিম দেশের সরকার গুলো যাতে এ ধরণের সর্বনাশা পদক্ষেপ গ্রহণ করতে না পারে সে ব্যাপারেও আমাদের সবাইকে সচেতন ও সতর্ক থাকতে হবে ।

ইসলামী চিন্তাবিদ এবং গবেষক হুজ্জাতুল ইসলাম ওলায় মুসলেমিন মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান

৮- ১২- ২০২১

১৭-৯-১৪০০

নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
* captcha: