IQNA

পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নেও অপশ্চিমা দেশগুলোর গুরুত্বপূর্ণ অবদান

14:04 - June 19, 2022
সংবাদ: 3472013
তেহরান (ইকনা): সুইস এবং অন্যান্য পশ্চিমা ব্যাংকে বিভিন্ন অপশ্চিমা দেশের জমা রাখা বিপুল পরিমাণ অর্থের এক বিরাট অংশ অবৈধ উপায় অর্জিত । শুধু বাংলাদেশের দুর্নীতি বাজরাই নয় অন্যান্য দেশের অসাধু দুর্নীতি বাজরাও তাদের অর্থ ও সম্পদ সুইজারল্যান্ড ও পশ্চিমা দেশগুলোয় পাচার করে।

পশ্চিমা দেশগুলোর সরকার ও প্রশাসন , ব্যাংক ও অর্থ প্রতিষ্ঠান সমূহের বড় বড় কর্মকর্তা যদি বিভিন্ন দেশের অসাধু দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের অর্থ ও সম্পদ পাচারে সহযোগিতা না করত তাহলে এরা পশ্চিমা দেশগুলোয় অর্থ পাচার করতে পারত ?!

 

অতএব চোরে চোরে মাসতুতো ভাই। আর বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চল থেকে পশ্চিমা দেশগুলোয় আনিত ও বিনিয়োগ কৃত এ বিপুল পরিমাণ বৈধ - অবৈধ অর্থ সম্পদ ঐ সব পশ্চিমা দেশের অর্থনীতিকে চাঙ্গা করছে এবং তাদের অর্থনৈতিক উন্নতি ও প্রবৃদ্ধিতে অতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকাও রাখছে । তাই পাশ্চাত্য বা পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনৈতিক উন্নয়নেও অপশ্চিমা দেশগুলোর অর্থ ও সম্পদ ঔপনিবেশিক শাসন আমলের মতো এখনও গুরুত্বপূর্ণ অবদান ও ভূমিকা পালন করছে যা এ সব অপশ্চিমা দেশের বুদ্ধিজীবী , সুধী ও শাসকশ্রেণীর চোখে পড়ে না এবং পড়লেও তা উপেক্ষা করা হয় । কারণ এদের এক বিরাট প্রভাবশালী অংশ নিজেদের দেশ থেকে পাশ্চাত্যে অর্থ সম্পদ পাচার প্রক্রিয়ায় জড়িত ও সংশ্লিষ্ট ।

আসলে পশ্চিমা দেশগুলোর এ সব দুর্নীতি পরায়ণ কর্মকর্তা মহা দুর্নীতিবাজ ও বড় অপরাধীও বটে । অথচ পশ্চিমা দেশগুলো নিজেদেরকে স্বচ্ছ , সৎ ও দুর্নীতি মূক্ত এবং অইউরোপীয় দেশগুলোকে অসৎ , দুর্নীতিগ্রস্ত ও অপরাধী বলেই জাহির ও প্রচার করে থাকে। আসলে পাশ্চাত্যের কারণেই এ সব অপশ্চিমা দেশগুলোয় দুর্নীতি

আজও অব্যাহত আছে এবং এদেরকে দুর্নীতি ও অপরাধ মুক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না যার কারণ আমরা ইতিমধ্যে উল্লেখ করেছি। আর পাশ্চাত্য প্রীতির কারণে অপশ্চিমা দেশের বুদ্ধিজীবী ও শিক্ষিত শ্রেণীর সিংহভাগ বিশ্বাস করে যে পশ্চিমা দেশগুলো কত  সৎ - সাধু , স্বচ্ছ ও দুর্নীতি মুক্ত এবং তাদের দেশগুলো কত অসাধু , অসৎ , দুর্নীতিগ্রস্ত ও চোর - বাটপার !! অথচ তারা ভুলেই গেছে যে তাদের দেশের চোরদেরকে ঐ সব ভদ্র , সভ্য , সৎ , দুর্নীতি মুক্ত সাধু পশ্চিমা দেশই আশ্রয় - প্রশ্রয় ও আস্কারা দিচ্ছে এবং তাদের কালো অর্থ ও অবৈধ সম্পদ ঐ সব পশ্চিমা দেশে বিনিয়োগ করে সাদা টাকা ও অর্থ - সম্পদে রূপান্তরিত করাও হচ্ছে !!! তাহলে সবাই ভেবে দেখুন যে সবচেয়ে বড় চোর - বাটপার ও বদমাইশ কারা ?! কেন বিভিন্ন অপশ্চিমা দেশের দুর্নীতি পরায়ণ , অসৎ ও অসাধু ব্যবসায়ী , কর্মকর্তা এবং রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের অবৈধ অর্থ ও সম্পদ সুইজারল্যান্ড , ব্রিটেন , ফ্রান্স , জার্মানি , কানাডা , মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র , অস্ট্রেলিয়ার মতো পশ্চিমা দেশ ও দক্ষিণ পূর্ব এশিয়ার বেশ কিছু দেশে পাচার ও বিনিয়োগ করার অপরাধে ঐ সব পশ্চিমা ও প্রাচ্য দেশের বিরুদ্ধে সার্বিক অর্থনৈতিক অবরোধ আরোপ বা কোনো কঠোর শাস্তিমূলক আইনী ব্যবস্থা অতীতেও যেমন গ্রহণ করা যায় নি ঠিক তেমনি বর্তমানে তা হচ্ছে না ?  ব্রিটেন , সুইজারল্যান্ড ইত্যাদি হচ্ছে বিশ্বে মানি লন্ডারিং ও অর্থ পাচারের অভয়ারণ্য এবং মক্ষীরানি ও রাজধানী । অথচ এরাই FATF এর মত অর্থ পাচার সংক্রান্ত আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করে গোটা বিশ্বের উপর বলপূর্বক তা চাপিয়েও দিচ্ছে । তা হলে বিশ্বব্যাপী দুর্নীতি কি আসলেই বন্ধ হবে ? এ সব কিছু থেকে প্রতীয়মান ও স্পষ্ট হয়ে যায় যে পাশ্চাত্যই দুর্নীতি ও অপরাধের সূতিকাগার, আখড়া , হোতা , গুরু ও গডফাদার এবং অপশ্চিমা দেশগুলো তো এক্ষেত্রে পাশ্চাত্যের অনুসারী  , শিষ্য ও শিক্ষানবীশ ছাড়া আর কিছু কি ?!!!

তাই সুইস ব্যাংকে বাংলাদেশীদের অর্থ সম্পদ তো বাড়বেই ।

আর বার্ষিক রিপোর্টে কারো ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ না করে কোন্ দেশের কত টাকা জমা আছে শুধু সে তথ্য সুইজারল্যান্ড প্রকাশ করলে কি আসলে মানি লন্ডারিং ( টাকা পাচার ) বন্ধ হয়ে যাবে ?!! আসলে এ ধরণের তথ্য থেকে কত টাকা পাচার হয়ে আসছে অথবা কালো অবৈধ অর্থের পরিমাণ ঠিক কতটুকু এবং কারা এর পাচারকারী ইত্যাদি বিষয়গুলো ঘুর্ণাক্ষরেও জানা যাবে না । আর এতে করে সুইজারল্যান্ড ও সুইজারল্যান্ডের মতো অন্যান্য পশ্চিমা দেশে অর্থ পাচার ও কালো টাকার আমদানি রোধ করাও সম্ভব হবে না । নাম পরিচয় গোপন থাকায় সুইস ব্যাংক গুলোতে সারা বিশ্ব থেকেই বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ জমা রাখা হয় । তাই প্রশ্ন হচ্ছে এ ধরণের জঘন্য দুর্নীতির জন্য তথাকথিত ভদ্র সভ্য সৎ সাধু সুইজারল্যান্ড ও সুইস ব্যাংকগুলোর বিরুদ্ধে কেন শাস্তিমূলক আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না ? যদি বাংলাদেশ বা অন্য কোনো অপশ্চিমা দেশ যেমন ইরানের ব্যাংকগুলোয় সুইস ব্যাংকগুলোর মত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আনা চোরাই অবৈধ কালো অর্থ জমা ( deposit ) রাখা হত তাহলে পশ্চিমা দেশ গুলো এ সব দেশের টুটি চেপে ধরত এবং কঠোর নিষেধাজ্ঞা সহ বিভিন্ন ধরণের শাস্তিমূলক আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা থেকে মোটেও পিছপা হতো না !! আর ঠিক এটাই হচ্ছে পাশ্চাত্যের দুমুখো নীতির নমুনা । নিজেরা চুরি ও দুর্নীতি করলে সাত খুন মাফ !!! ইত্তেফাকের এই রিপোর্ট থেকে পাশ্চাত্যের সাধু ভালো মানুষী ভদ্র সুশীল চেহারার মুখোশ খুলে গেছে । তারপরও একদল পাশ্চাত্য পূজারী প্রেমিক আছে যারা পাশ্চাত্য ও পশ্চিমা দেশগুলোকে মাসূম , নিরাপরাধ ও নির্দোষ ( দোষ ত্রুটি মুক্ত ) বলে বিশ্বাস করে ? !!

অপশ্চিমা দেশের চোরেরা হচ্ছে ছিচকে চোর বা ছোট চোর এবং পশ্চিমা দেশগুলোর চোরেরা হচ্ছে পুকুর চোর বা বড় চোর। তবে তাদেরকে পুকুর চোর বললে বরং ভুলই হবে এবং তাদের মর্যাদা খাটো করা হবে ! তাদেরকে ( পশ্চিমা দেশগুলোর চোরেরা ) বলতে হবে সাগর - মহাসাগর চোর ( সমুদ্র চোর ) । তাই পুকুর চুরির সাথে আরেকটি পরিভাষাও উদ্ভাবন করা বাঞ্ছনীয় ও অপরিহার্য হয়ে পড়েছে যা হচ্ছে সাগর-মহাসাগর চুরি বা সমুদ্র চুরি । হ্যাঁ আমাদের দেশের বড় চোরেরা পুকুর চুরি করে আর পাশ্চাত্যের বড় চোরেরা করে সাগর - মহাসাগর চুরি ( বা সমুদ্র চুরি ) বা বিশ্ব চুরি ।

ইসলামী চিন্তাবিদ এবং গবেষক হুজ্জাতুল ইসলাম ওলায় মুসলেমিন মুহাম্মদ মুনীর হুসাইন খান

নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
* :