
এই মসজিদটি নির্মাণ করেন বিশিষ্ট ব্যক্তিত্ব মৌলভী আব্দুস সোবহান উকিল, যিনি ব্রিটিশ আমলে নবীনগর আদালতের উকিল ছিলেন। ধারণা করা হয়, তিনি ১৯০০ খ্রিস্টাব্দের কাছাকাছি সময়ে মসজিদটি প্রতিষ্ঠা করেন।
একাধিক গম্বুজ ও অলংকরণযুক্ত এই মসজিদ নির্মাণে ভারতীয় উপমহাদেশীয় ইসলামী স্থাপত্যের প্রভাব পরিলক্ষিত হয়।
মসজিদের সঙ্গে সম্পৃক্ত মিয়াবাড়িটি নিজেও একসময়ের জৌলুসপূর্ণ তালুকদারি সংস্কৃতির বাহক। এখানেই বেড়ে উঠেছিলেন উম্মে কবির আফিয়া বেগম, যিনি পরবর্তী সময়ে বাংলা সাহিত্যের কিংবদন্তি অধ্যাপক মুনীর চৌধুরী, জাতীয় অধ্যাপক কবীর চৌধুরী ও নাট্যব্যক্তিত্ব ফেরদৌসী মজুমদারের মা ছিলেন।
সংস্কারবিহীন তবু অক্ষত!
আজও মসজিদটির গায়ে দেখা যায় পুরনো রং, শিলালিপি, কারুকাজ ও মিহরাবের চিহ্ন।
আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, মসজিদটি এখনো মেরামত বা আধুনিক সংস্কার ছাড়াই টিকে আছে। স্থানীয় বাসিন্দারা ও বংশধররা চাচ্ছেন এটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক মূল্য নিয়ে সংরক্ষণে রাখা হোক।
পর্যটন সম্ভাবনা ও স্থানীয় আকাঙ্ক্ষা
ঢাকা থেকে মাত্র দুই ঘণ্টার দূরত্বে থাকা এই প্রাচীন নিদর্শন এখনো পর্যটকদের নজর কাড়েনি, যদিও এটি হতে পারে একটি ঐতিহাসিক পর্যটনকেন্দ্র। স্থানীয়রা চান, সরকার বা ঐতিহ্য সংরক্ষণকারী সংস্থাগুলো এই মসজিদ ও বাড়িকে ‘সংরক্ষিত প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন’ হিসেবে ঘোষণা দিক।
লেখক : কুমিল্লার মুরাদনগর প্রতিনিধি