IQNA

23:58 - September 24, 2018
সংবাদ: 2606799
হে ইমাম আপনার প্রতি সালাম নামক গ্রন্থে ইমাম মাহদীর প্রতি শিশুদের লেখার চিঠি সমগ্র একত্রিত করা হয়েছে। শিশুরা তাদের মনের আকুতি জানিয়ে ইমাম মাহদীর কাছে তাদের চিঠিগুলো লিখেছে।


বার্তা সংস্থা ইকনা'র রিপোর্ট: ইমাম মাহদী (আ.)-এর গুপ্ত অবস্থার সময়ে এবং স্বল্পমেয়াদী অদৃশ্য শুরু হওয়ার পূর্বে সর্বশেষ যে কাজ সম্পাদন করেছিলেন তা হল পিতার জানাজার নামায৷

একাদশ ইমামের খাদেম আবুল আদইয়ান এ সম্পর্কে বলেন:

ইমাম হাসান আসকারী (আ.)জীবনের শেষ সময়ের দিকে আমাকে কিছু চিঠি দিয়ে বললেন: "এগুলোকে মাদায়েনে নিয়ে যাও৷পনের দিন পর ফিরে এসে আমার বাড়িতে রোনা-জারি শুনতে পাবে এবং আমার মৃতদেহ গোসলের স্থানে দেখবে৷" আমি বললাম: হে আমার মাওলা এমনটি হলে আপনার উত্তরাধিকারী তথা পরবর্তী ইমাম কে হবেন? ইমাম বললেন: "যে তোমার কাছে আমার চিঠির উত্তর সম্পর্কে জানতে চাইবে তিনিই পরবর্তী ইমাম হবেন৷" বললাম: আরও কিছু বৈশিষ্ট্য বলুন৷ ইমাম বললেন: "যে আমার জানাজার নামাজ পড়াবেন তিনিই পরবর্তী ইমাম হবেন৷" বললাম: অরও কিছু বৈশিষ্ট্য বলুন৷ইমাম বললেন: "যে এই থলেতে যা আছে সে সম্পর্কে খবর দিবে সেই পরবর্তী ইমাম হবেন৷"কিন্তু ইমাম (আ.)-এর গাম্ভীর্য দেখে প্রশ্ন করতে সাহস পেলাম না৷

চিঠিসমূহকে মাদায়েনে নিয়ে গেলাম উত্তর নিয়ে ইমামের কথামত পনের দিনের মাথায় সার্মেরাতে ফিরে ইমাম (আ.)-এর বাড়িতে কান্নার শব্দ শুনতে পেলাম এবং ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এর মৃতদেহকে গোসলের স্থানে দেখতে পেলাম৷ তখন ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এর ভাই জাফরকে দেখলাম যে ইমাম(আ.)-এর বাড়িতে দাড়িয়ে আছে এবং কেউ কেউ তাকে শোক বার্তা জানাচেছ এবং ইমাম হিসাবে তাকে মোবারকবাদ জানাচেছ৷ আমি মনে মনে বললাম: এই লোক যদি ইমাম হয় তাহলে ইমামত ধবংস হয়ে যাবে৷ কেননা তাকে আমি চিনতাম সে মদ্য পান করত এবং গানবাজনা করত৷ যেহেতু ইমাম(আ.)-এর বলে যাওয়া আলামতের খোজে ছিলাম তাই আমিও তার কাছে গেলাম এবং অন্যদের মত তাকে শোকবার্তা জানালাম ও মোবারকবাদ জানালাম৷ কিন্তু সে আমাকে চিঠির জবাব সম্পর্কে কিছুই জিজ্ঞাসা করল না৷ তখন আকিদ [ইমাম হাসান আসকারী (আ.)]-এর আর এক খাদেম জাফরকে বলল: হে আমার নেতা আপনার ভ্রাতাকে কাফন করা হয়েছে এসে জানাজার নামায পড়ান৷ আমিও জাফর এবং শিয়া মাজহাবের অন্যান্যদের সাথে ভিতরে গিয়ে দেখলাম যে, ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-কে কাফন পরিয়ে তাবুতে রাখা হয়েছে৷ জাফর নামায পড়ানোর জন্য সামনে গিয়ে তকবির দিতে গেল তখন গৌরবর্ণের একটি শিশু বেরিয়ে এসে জাফরের জামা টেনে ধরে বললেন: হে চাচা সরে দাড়ান আমার পিতার জানাজার নামায পড়ানোর দায়িত্ব আমার উপর ন্যস্ত হয়েছে৷ জাফরের চেহারা বিবর্ণ হয়ে গেল এবং সে পিছনে সরে আসল৷ ছোট্ট শিশু সামনে গিয়ে ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এর জানাজার নামায পড়ালেন৷ অতঃপর তিনি আমাকে বললেন: চিঠির উত্তর গুলো আমাকে দাও৷ আমি চিঠিগুলো তাঁকে দিলাম৷ আমি মনে মনে বললাম এ দুটি নিদর্শনই তো এই ছোট্ট বালকের ইমাম হওয়ার নিদর্শন৷ থলের ঘটনাটি বাকি রইল৷ জাফরের কাছে গিয়ে দেখি সে আর্তনাদ করছে৷ একজন শিয়া মাজহাবের অনুসারী তাকে প্রশ্ন করল এই বালকটিকে?

জাফর বলল: আল্লাহর শপথ আমি এই ছেলেটিকে কখনোই দেখিনি এবং তাকে চিনিও না৷

আবুল আদইয়ান আরও বলল: আমরা বসে ছিলাম এমতাবস্থায় কোম থেকে কিছু লোক এসে ইমাম হাসান আসকারী (আ.)-এর সম্পর্কে জানতে চাইল৷ তারা ইমাম (আ.) শহীদ হওয়ার খবর জানতে পেরে বলল: কাকে শোকবার্তা জানাব? জনগণ জাফরের দিকে ইশারা করল৷ তারা জাফরকে সালাম দিয়ে তাকে শোকবার্তা ও মোবারকবাদজানাল৷ অতঃপর তারা জাফরকে বলল: আমাদের কাছে কিছু চিঠি ও উপঢৌকন আছে৷ বলুন চিঠিগুলো কার? এবং কি পরিমাণ উপঢৌকন আছে?

জাফর রেগে গিয়ে দাড়িয়ে বলল: আমার কাছে গায়েবী সংবাদ জানতে চাও? তখন ভিতর থেকে একজন খাদেম বেরিযে এসে বলল: ওমুক, ওমুকের চিঠি তোমাদের কাছে আছে এবং তাদের নাম ঠিকানা বলল৷ থলের মধ্যে এক হাজার দিনার আছে এবং দশটির চিহ্ন মুছে গেছে৷ তারা চিঠি এবং দিনারগুলোকে তার কাছে দিয়েব লল: যিনি তোমাকে এগুলো নিতে পাঠিয়েছেন তিনিই হলেন প্রকৃত ইমাম (কামালুদ্দিন, খণ্ড-২, বাব-৪১,হাদীস নং-২৫, পৃ.-২২৩)৷

নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
* captcha: