IQNA

মাদরাসার মওলানার কাছ থেকে শুনে শুনেই কোরআন শরীফ মুখস্ত করেছেন দৃষ্টিহীন সাজ্জাতুল ইসলাম

23:31 - October 25, 2019
সংবাদ: 2609504
মাদরাসার মওলানার কাছ থেকে শুনে শুনেই কোরআন শরীফ মুখস্ত করেছেন দৃষ্টিহীন সাজ্জাতুল ইসলাম
আল্লাহ্‌ তাআলা প্রদত্ত নিয়ামত স্বরূপ দুটি চোখ। এই চোখ থাকতেও যেখানে আমরা কোরআন মাজীদ শিখতে আপ্লুত হই না, সেখানে দৃষ্টিহীন সাজ্জাতুল শুনে শুনে কোরআন শরীফ মুখস্ত করেছেন। শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলার আলাওয়ালপুর ইউনিয়নের ৪নং ওয়ার্ডের মৃত জবেদ আলী মাল ও সায়েদা বেগমের ছোট ছেলে সাজ্জাতুল। বাহ্যিক দৃষ্টি নেই তার। কিন্তু অন্তর দৃষ্টি তার প্রখর। তারা চার ভাই, চার বোন।

বার্তা সংস্থা ইকনা'র রিপোর্ট: জন্ম হওয়ার পাঁচ বছর পরই সাজ্জাতুল চোখের দৃষ্টি হারান। দেখতে পাচ্ছেন না দুচোখেই। চোখে দেখতে না পেলেও মাদ্রাসার মাওলানার কাছ থেকে শুনে শুনে মুখস্ত করেছেন পবিত্র কোরআন শরীফ।

হাফেজ সাজ্জাতুল ইসলাম বলেন, তার বয়স যখন পাঁচ বছর তখন শরীরে হাম ওঠে। হামে তার দু’চোখের দৃষ্টি চলে যায়। ৮ বছর বয়সে চাঁদপুর নেছারিয়া আরাবিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসায় হেফজ খানায় ভর্তি হন তিনি।

মাদ্রাসার শিক্ষক হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহমানের মুখে শুনে শুনে দুই বছরেই কোরআন মুখস্ত করেছেন তিনি। পরে চট্টগ্রাম জামিয়া আহমদিয়া কামেল মাদ্রাসায় মিজান কিতাব শেষ করেন।

সাজ্জাতুল আরও জানান, তিনি ২০১৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে শরীয়তপুর জেলার আংগারিয়া সমন্বিত অন্ধ শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় আংগারিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ৮ম শ্রেণিতে ভর্তি হন। তিনি সরকারি খরচে সেখানে পড়ালেখা করছেন।

তিনি আরও জানান, অন্যের ঘাড়ে বোঝা হয়ে না থেকে স্বাভাবিক জীবনযাপনের জন্য শুরু করেছেন পড়ালেখা। বড় হয়ে প্রতিবন্ধীদের শিক্ষক হতে চান তিনি। দাঁড়াতে চান তাদের পাশে।

আংগারিয়া সমন্বিত অন্ধ শিক্ষা কার্যক্রমের আওতায় সমাজসেবা অধিদফতরের রির্সোস টিচার মো. এনামুল হক বলেন, আমরা প্রথম শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত দৃষ্টি প্রতিবন্ধীদের লেখাপড়া করিয়ে থাকি।

সাজ্জাতুল এ বছর ৮ম শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছে। ছাত্র হিসেবে খুবই ভালো সাজ্জাতুল। ইচ্ছা ও মনোবল থাকলে প্রতিবন্ধী হয়েও অনেক কিছু করা যায়। সাজ্জাতুল তার বড় প্রমাণ।

captcha