IQNA

হজ উপলক্ষে ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতার বাণী:
16:38 - July 29, 2020
সংবাদ: 2611224
তেহরান (ইকনা): হজ উপলক্ষে এক বার্তায় ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনেয়ী পশ্চিম এশিয়ায় মার্কিনের উপস্থিতিতে এই অঞ্চলের জাতিগুলোর ক্ষতি এবং দেশসমূহের নিরাপত্তাহীনতা, ধ্বংস এবং পশ্চাদপদতার কারণ হিসাবে অভিহিত করে বলেছেন: আমরা বর্ণবাদী মার্কিন সরকারের আচরণের নিন্দা এবং জনগণের আন্দোলনকে সমর্থন জানাই।

ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহিল উজমা খামেনেয়ী এবারের হজবাণীতে আবারও মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন। পার্সটুডে

তিনি বলেছেন, অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন মুসলমানদের মধ্যে ঐক্য জরুরি। এই ঐক্য হতে হবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইহুদিবাদী ইসরাইলসহ শয়তানি শক্তির বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে তিনি মুসলমানদেরকে একে অপরের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন। ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আরও বলেছেন, এখন মুসলিম উম্মাহর অনিবার্য কল্যাণ নিহিত রয়েছে ঐক্যের মধ্যে। এই ঐক্য আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর এটি হলো এমন ঐক্য যা শত্রুদের হুমকি ও ষড়যন্ত্রের মোকাবেলায় সৃষ্টি হয়, যা মানবরূপী শয়তান এবং আগ্রাসী ও গাদ্দার আমেরিকা ও তার শিকলবন্দি কুকুর ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে বজ্রের মতো গর্জে ওঠে ও বলদর্পীদের মোকাবেলায় সাহসিকতার সঙ্গে বুক মেলে ধরে।

ইরানের সর্বোচ্চ নেতার পূর্ণাঙ্গ হজবাণী নিচে দেওয়া হলো:

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম
ওয়ালহামদুলিল্লাহি রাব্বিল আলামিন ওয়া সাল্লাল্লাহু আলা মুহাম্মাদিও আলিহিত তাহিরিন ওয়া সাহবিহিল মুনতাজাবিন ও মান তাবিয়া’হুম বিইহসান ইলা ইয়াওমিদ্দিন।

হজের মওসুমটা সব সময় ইসলামী বিশ্বের সম্মান, মাহাত্ম্য ও সমৃদ্ধি উপলব্ধির মওসুম হিসেবে ছিল, কিন্তু এ বছর এই মওসুমটা মুমিনদের মনঃকষ্ট ও অনুশোচনার মওসুমে পরিণত হয়েছে। খোদার প্রেমে আকুল মুমিনদেরকে বিরহের বেদনা কষ্ট দিচ্ছে। কাবা শরীফকে কাছে না পেয়ে মনের গহীনে জন্ম নিয়েছে কষ্টবোধ। কাবার সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিতদের লাব্বাইক ধ্বনির সঙ্গে মিশে একাকার হয়েছে তাদের চোখের অশ্রু ও দীর্ঘশ্বাস। তবে এই বঞ্চনা ও বিরহ স্বল্পকালীন, আল্লাহর শক্তি ও ইচ্ছায় এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হবে না। তবে এর শিক্ষা অবশ্যই স্থায়ী হতে হবে এবং হজ্বের মহান নেয়ামতের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে হবে। আমাদেরকে উদাসীনতার বেড়াজাল থেকে মুক্ত হতে হবে।

পবিত্র কাবা, মহানবী (স.)'র রওজা মুবারক এবং ইমামদের পবিত্র কবরস্থানের সান্নিধ্যে মুসলিম উম্মাহর বৈচিত্র্যময় সমাবেশ কেন মুসলমানদের শক্তি, মর্যাদা ও মাহাত্ম্যের চাবিকাঠি তা উপলব্ধি করতে হবে। আমাদের উচিৎ এবছর এ বিষয়টিকে আগের চেয়ে বেশি উপলব্ধি করা, এ নিয়ে বেশি বেশি চিন্তা করা। হজ হচ্ছে অতুলনীয় এক ফরজ দায়িত্ব। ইসলামের অনেক ফরজ কাজের মধ্যে হজ হচ্ছে শত-পাপড়িযুক্ত এক পুষ্প। বলা যায় এই ফরজ কর্তব্যের মধ্যে মিশ্রণ ঘটেছে মানুষের ব্যক্তি জীবন, সামাজিক জীবন, আকাশ-জমিন, ইতিহাস ও আন্তর্জাতিক বিষয়াদিসহ ধর্মীয় নানা দিক। এখানে রয়েছে আধ্যাত্মিকতা, তবে এই আধ্যাত্মিকতা মানুষের নির্জনতা ও একাকীত্বের গণ্ডিতে আবদ্ধ নয়। এতে রয়েছে সমাজ ও সামাজিকতা যেখানে সংঘাত, পরনিন্দা এবং অন্যের অমঙ্গল কামনার অবকাশ নেই।

হজে একদিকে রয়েছে আল্লাহর কাছে মোনাজাত, কাকুতি-মিনতি ও তাকে স্মরণের মাধ্যমে আত্মিক সম্পর্ক লাভের সুযোগ, আর অন্যদিকে রয়েছে মানুষের মধ্যে সম্পর্ক ও ঘনিষ্ঠতা বাড়ানোর অপার সম্ভাবনা। একজন হাজি তার নিজের সঙ্গে ইতিহাস তথা ইব্রাহিম, ইসমাইল ও হাজরার সম্পর্ক যেমন উপলব্ধি করেন, তেমনি মসজিদুল হারামে রাসূলের বীরোচিত প্রবেশের সময়ের সঙ্গে তার সম্পর্ক মেলাতে পারেন এবং ইসলামের প্রাথমিক যুগের মুজাহিদ বাহিনীর সঙ্গে নিজের সম্পর্ককে বুঝতে পারেন। একইসঙ্গে বর্তমান যুগের বিশাল সংখ্যক মুমিন মুসলমানকে স্বচক্ষে দেখতে পান যাদের প্রত্যেকেই একে অপরের দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিতে পারে এবং সবাই মিলে আল্লাহর রজ্জুকে শক্তভাবে ধরতে পারে। হজ নিয়ে ধ্যান ও চিন্তার মাধ্যমে একজন হাজি এ বিষয়ে দৃঢ় বিশ্বাসে উপনীত হন যে, ধর্মীয় লক্ষ্য-আদর্শের অনেক কিছুই ধার্মিকদের সম্মিলিত সহযোগিতা, সহমর্মিতা ও ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ ছাড়া অর্জন করা সম্ভব নয়। এ সময় একজন সম্মানিত হাজি উপলব্ধি করেন যে, এই সহযোগিতা ও সহমর্মিতার মাধ্যমে শত্রুদের ষড়যন্ত্র নস্যাৎ করা সম্ভব।

হজ হচ্ছে ওই সব দাম্ভিকের বিরুদ্ধে শক্তির মহড়া যারা দুর্নীতি, জুলুম, নির্যাতন ও লুটপাটের মূল হোতা এবং মুসলিম উম্মাহর শরীর-মন সবকিছুই তাদের নির্যাতন ও শয়তানির কারণে কষ্ট পাচ্ছে, তাদের দেহ-মনে রক্ত ক্ষরণ হচ্ছে। হজ হচ্ছে মনস্তাত্ত্বিক ও বৈষয়িক শক্তি প্রদর্শনের আয়োজন। এটি হলো হজের স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য, হজের আত্মা। এটিই হজের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্যগুলোর একটি। এটাকেই মহান ইমাম খোমেনি, ইব্রাহিমি হজ বলে অভিহিত করেছেন। হজ পরিচালনাকারীরা যারা নিজেদেরকে হারামাইনের সেবক বলে দাবি করে, তারা যদি আন্তরিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতো, মার্কিন সরকারকে খুশি করার পরিবর্তে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনকে গুরুত্ব দিত তাহলে তারা মুসলিম বিশ্বের বড় বড় সমস্যার সমাধান করতে পারতো। এখন মুসলিম উম্মাহর অনিবার্য কল্যাণ নিহিত রয়েছে ঐক্যের মধ্যে। এই ঐক্য আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আর এটি হলো এমন ঐক্য যা শত্রুদের হুমকি ও ষড়যন্ত্রের মোকাবেলায় সৃষ্টি হয়, যা মানবরূপী শয়তান এবং আগ্রাসী ও গাদ্দার আমেরিকা ও তার শিকলবন্দি কুকুর ইহুদিবাদী ইসরাইলের বিরুদ্ধে বজ্রের মতো গর্জে ওঠে ও বলদর্পীদের মোকাবেলায় সাহসিকতার সঙ্গে বুক মেলে ধরে।

এর অর্থ মহান আল্লাহরই নির্দেশ যে নির্দেশে মহান আল্লাহ বলেছেন: 'তোমরা আল্লাহর রজ্জু শক্ত করে ধর ও পরস্পর বিচ্ছিন্ন হয়ো না'। (৩:১০৩, সুরা আলে ইমরান) প্রজ্ঞাপূর্ণ পবিত্র কুরআন মুসলিম উম্মাহকে ' আল্লাহর রাসুল মুহাম্মাদের সঙ্গীরা কাফেরদের প্রতি কঠোর ও নিজেরা একে অপরের প্রতি দয়ার্দ্র'- (২৯:৪৮, সুরা আল ফাত্‌হ) এই কাঠামোর আঙ্গিকে পরিচয় করিয়ে দেয় এবং কুরআনের এ আয়াতগুলো তথা 'আর জালিম বা পাপিষ্ঠদের প্রতি ঝুঁকবে না। নতুবা তোমাদেরকেও আগুনে ধরবে' (১১:১১৩, সুরা হুদ); 'আল্লাহ কখনও কাফেরদেরকে মুসলমানদের উপর বিজয় বা কর্তৃত্বের পথ দান করেন না' (৪:১৪১, সুরা নিসা) ; 'শপথ বা প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী ও ইসলাম ধর্মকে বিদ্রুপকারী কাফের নেতাদের সঙ্গে যুদ্ধ কর' (৯:১২, সুরা তওবা); মুমিনগণ, তোমরা আমার ও তোমাদের শত্রুদেরকে বন্ধরূপে গ্রহণ করো না; (৬০:১, সুরা মুমতাহানা)- এ আয়াতগুলোর আলোকে মুসলমানদেরকে দায়িত্ব পালন করতে বলে।

শত্রুদেরকে শনাক্ত করতে মহান আল্লাহ কুরআনে ' ধর্মের ব্যাপারে যারা তোমাদের বিরুদ্ধে লড়াই করেনি এবং তোমাদেরকে দেশ থেকে বহিষ্কৃত করেনি, তাদের প্রতি সদাচরণ ও ইনসাফ করতে আল্লাহ তোমাদেরকে নিষেধ করেন না। নিশ্চয় আল্লাহ ইনসাফকারীদের ভালবাসেন। (৬০:৮, সুরা মুমতাহানা)- এ নির্দেশ দিয়েছেন। মহান আল্লাহর এইসব গুরুত্বপূর্ণ ও ভাগ্য বা পরিণতি-নির্ধারণী নির্দেশগুলো কখনও আমাদের তথা মুসলমানদের চিন্তাগত বা বুদ্ধিবৃত্তিক ও মূল্যবোধের ব্যবস্থা থেকে বাদ পড়া ও বিস্মৃত হওয়া উচিত নয়।

বর্তমানে অন্য যে কোনো সময়ের চেয়ে এই মৌলিক পরিবর্তনের পটভূমি মুসলিম উম্মাহর নাগালে এবং তার আন্তরিক ও মেধাবী শিক্ষিত মহল ও কল্যাণকামীদের হাতের নাগালে রয়েছে। বর্তমানে ইসলামী জাগরণকে মুসলমানদের মেধাবী শিক্ষিত মহল ও যুব সমাজের নিজস্ব জ্ঞানগত ও আধ্যাত্মিক সম্পদের প্রতি তাদের সচেতনতার আলোকে অস্বীকার করা অসম্ভব।

আজ কথিত পশ্চিমা উদারনৈতিকতাবাদ বা লিবারেলিজম ও কমিউনিজম বা সমাজতন্ত্র ময়দানের সম্মুখভাগ থেকে পুরোপুরি অপসৃত। অথচ ১০০ বছর ও পঞ্চাশ বছর আগে এসবকে কথিত পশ্চিমা সভ্যতার সবচেয় বড় উপহার বলে মনে করা হত। এসব মতবাদের নানা রোগ বা ত্রুটি নিরাময়-অযোগ্য বলে স্পষ্ট হয়ে গেছে। সমাজতন্ত্র-ভিত্তিক ব্যবস্থা ধসে পড়েছে এবং অন্যটির তথা লিবারেলিজমভিত্তিক ব্যবস্থাও নানা গভীর সংকটে নিমজ্জিত ও এর স্তম্ভ বা স্থাপনাগুলোও ধসে পড়ার পথে রয়েছে।

বর্তমানে কেবল পশ্চিমা সাংস্কৃতিক আদর্শ যা শুরু থেকেই অশালীনভাবে ও কলঙ্কিত চেহারায় ময়দানে নেমেছিল- কেবল তা-ই নয়, পাশ্চাত্যের রাজনীতি ও অর্থনীতির আদর্শও তথা অর্থ-কেন্দ্রীক ও শ্রেণী-নির্ভর এবং শ্রেণী-বৈষম্য-ভিত্তিক গণতন্ত্রও তার অকার্যকারিতা ও দুর্নীতিগ্রস্থতা প্রমাণ করেছে।

আজ মুসলিম বিশ্বে এমন প্রতিভাবান উচ্চ শিক্ষিত ব্যক্তির সংখ্যা কম নয় যারা সগৌরবে ও মাথা উঁচু করে পাশ্চাত্যের সব জ্ঞানগত দাবি ও সভ্যতার দাবি-কেন্দ্রীক বক্তব্যগুলোকে চ্যালেঞ্জ করতে সক্ষম এবং সেসবের ইসলামী বিকল্পগুলোও স্পষ্টভাবে দেখাতে সক্ষম। এমনকি বর্তমানে এমন অনেক পশ্চিমা চিন্তাবিদও আছেন যারা অতীতে লিবারেলিজমকে খুব গর্বভরে ইতিহাসের শেষ পর্ব বলে দাবি করলেও এখন সেই দাবি প্রত্যাহার করেছেন এবং নিজেদের তাত্ত্বিক বা আদর্শিক ও বাস্তব কিংকর্তব্যবিমূঢ়তার কথাও স্বীকার করছেন। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সড়কগুলোর দিকে তাকালে, সেখানে জনগণের প্রতি মার্কিন সরকারের কর্মকর্তাদের আচরণ লক্ষ্য করলে সেখানে শ্রেণী-বৈষম্যের ব্যাপক গভীরতা, নির্বাচিত প্রশাসকদের মূর্খতা ও ভয়াবহ জাতিগত বৈষম্য সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এসব ছাড়াও পথিকদের সামনে সড়কের মধ্যে একজন নিরপরাধ ব্যক্তিকে একজন পুলিশ অত্যন্ত ঠাণ্ডা মাথায় নির্মমভাবে নির্যাতন করে যেভাবে হত্যা করছে –এ-সবকিছু পাশ্চাত্যের গভীর নৈতিক ও সামাজিক সংকটকে স্পষ্ট করছে। পশ্চিমা সভ্যতার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক দর্শনও যে ভ্রান্ত ও অচল বা বাতিল তাও এসব থেকে স্পষ্ট।
মার্কিন সরকার দুর্বল জাতিগুলোর সঙ্গে যে আচরণ করছে তাও ওই পুলিশের আচরণেরই বড় সংস্করণ মাত্র যে পুলিশ একজন অসহায় কৃষ্ণাঙ্গের গলার ওপর তার হাঁটুর চাপ দিতেই থাকে যতক্ষণ না তার মৃত্যু হয়। পাশ্চাত্যের অন্য সরকারগুলোর আচরণও নিজ নিজ শক্তি ও ক্ষমতার আলোকে অনেকটা একই ধরনের বিপর্যয়কারী।

ইব্রাহিমি হজ এই আধুনিক জাহিলিয়্যাত বা অজ্ঞতার মোকাবেলায় ইসলামের গৌরবময় বা প্রোজ্জ্বল বিষয়। এই হজ ইসলামের আহ্বান তুলে ধরে এবং তুলে ধরে ইসলামী সমাজের প্রাণময়তা বা গতিশীলতার প্রতীক।

যে সমাজের প্রধান পরিচিতিই হচ্ছে আল্লাহর একত্ববাদকে কেন্দ্র করে মুমিনদের মধ্যে সহাবস্থান ও সার্বক্ষণিক গতিশীলতা; যে সমাজে দ্বন্দ্ব-সংঘাত, বৈষম্য ও ছোট-বড়োর ভেদাভেদ এবং পাপ-পঙ্কিলতা ও দুর্নীতির উপস্থিতি নেই; যে সমাজ শয়তান ও মুশরিকদের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার পাশাপাশি বঞ্চিত শ্রেণির সঙ্গে মেলামেশা, অভাবীদের সাহায্য করা এবং ঈমানি শক্তিতে বলীয়ান হয়ে ওঠাকে প্রধান কর্তব্য বলে মনে করা হয়; এবং আল্লাহর স্মরণ, তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও তাঁর ইবাদত সহকারে সার্বজনীন স্বার্থ ও কল্যাণ অর্জনকে যে সমাজের মধ্যবর্তী ও চূড়ান্ত লক্ষ্য হিসেবে স্থির করা হয়। এটি হচ্ছে ইব্রাহিমি হজের দর্পণে মুসলিম সমাজের একটি সংক্ষিপ্ত চিত্র। কথিত সভ্যতার দাবিদার পশ্চিমা সমাজগুলোতে বিদ্যমান বাস্তবতার সঙ্গে এই সমাজকে তুলনা করলে যেকোনো সংকল্পবদ্ধ মুসলমানের অন্তর প্রশান্তিতে ভরে উঠবে এবং সে এমন একটি সমাজ বিনির্মাণে সর্বোচ্চ আত্মত্যাগ ও প্রচেষ্টা চালাতে উৎসাহী হবে।

আমরা ইরানের জনগণ মহান ইমাম খোমেনীর নেতৃত্ব ও দিক-নির্দেশনায় এমন উৎসাহ-উদ্দীপনা নিয়েই সামনের দিকে অগ্রসর হয়েছি এবং সাফল্য পেয়েছি। আমরা এমন দাবি করছি না যে, যে লক্ষ্য আমরা নির্ধারণ করেছি এবং যা কিছু অর্জনে ব্রতী হয়েছি তার সবই অর্জিত হয়েছে, কিন্তু এ দাবি আমরা করছি যে, এই পথে আমরা কিছুটা হলেও অগ্রসর হয়েছি এবং পথের বহু প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করতে সক্ষম হয়েছি। পবিত্র কুরআনের প্রতিশ্রুতির প্রতি বিশ্বাসের বরকতে আমরা দৃঢ়সংকল্প রয়েছি। সর্ববৃহৎ শয়তানি দস্যু ও এ যুগের বৃহত্তম বিশ্বাসঘাতক আমেরিকা আমাদেরকে ভয় দেখাতে বা তার ধোঁকাবাজির জালে আবদ্ধ করতে কিংবা আমাদের বস্তুগত ও আধ্যাত্মিক উন্নতির পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।

আমরা সকল মুসলিম জাতিকে নিজেদের ভাই মনে করি এবং যারা ইসলামের শত্রুদের সঙ্গে হাত মেলায়নি তাদের সঙ্গে সদ্ব্যবহারও ন্যায়পূর্ণ আচরণ করি। মুসলিম জাতিগুলোর দুঃখ-কষ্ট ও বিপদকে নিজেদের বিপদ বলে ধরে নিয়ে তা থেকে (ওই জাতিগুলোকে) মুক্ত করতে প্রচেষ্টা চালাই। আমরা অসহায় ফিলিস্তিনকে সাহায্য করি, ক্ষতবিক্ষত ইয়েমেনের প্রতি সহমর্মিতা জানাই এবং বিশ্বের অন্য প্রতিটি স্থানের নির্যাতিত মুসলমানদের ব্যথা-বেদনা দূর করার কাজে সার্বক্ষণিক প্রচেষ্টা চালাই। আমরা কোনো কোনো মুসলমান দেশকে উপদেশ দেয়াকে নিজেদের কর্তব্য বলে মনে করি; যেসব দেশের সরকার তাদের মুসলিম ভাইদের ওপর নির্ভর করার পরিবর্তে শত্রুর কোলে আশ্রয় নেয় এবং দু’দিনের ব্যক্তিগত স্বার্থ চরিতার্থ করতে গিয়ে শত্রুর চরম অবমাননা সহ্য করার পাশাপাশি নিজ দেশের স্বাধীনতাকামী ও সম্মানের দাবিদার জনগণকে কঠোর হাতে দমন করে- এসব সরকার দখলদার ও জালিম ইহুদিবাদী ইসরাইলকে মেনে নেয় এবং প্রকাশ্যে ও গোপনে তার প্রতি বন্ধুত্বের হাত বাড়ায়- তাদেরকে আমরা উপদেশ দেই এবং এই অবমাননামূলক আচরণের দুঃখজনক পরিণতি সম্পর্কে সতর্ক করে দেই।

আমরা পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে মার্কিন সামরিক উপস্থিতিকে এই অঞ্চলের সবগুলো জাতির জন্য ক্ষতিকর মনে করি এবং আমরা জানি এই উপস্থিতি এ অঞ্চলে নিরাপত্তাহীনতা, ধ্বংস ও বিপর্যয় ডেকে আনবে। আমেরিকার বর্তমান পরিস্থিতি ও বর্ণবাদবিরোধী আন্দোলনে আমাদের অবস্থান দেশটির নির্যাতিত জনগণের পক্ষে এবং আমরা জনগণের প্রতি আমেরিকার বর্ণবাদী সরকারের পাশবিক আচরণের নিন্দা জানাই। সবশেষে হযরত ইমাম মাহদি (আ.)-এর প্রতি সালাম ও সালাওয়াত পেশ করছি, মরহুম ইমামকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি এবং সকল শহীদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। মহান আল্লাহর দরবারে কায়মনোবাক্যে নিবেদন করছি তিনি যেন অচিরেই আবার গোটা মুসলিম উম্মাহকে পরিপূর্ণ নিরাপত্তার সঙ্গে হজের ময়দানে সমবেত হওয়ার এবং কবুল ও মুবারক হজের বরকত হাসিল করার তৌফিক দান করেন। ওয়াসসালামু আলা ইবাদিল্লাহিস সালেহিন। iqna

নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
* captcha: