IQNA

কুরআনের দৃষ্টিতে চার প্রকার পরিবার

2:07 - May 11, 2022
সংবাদ: 3471836
তেহরান (ইকনা): পবিত্র কুরআন চার ধরনের পরিবারের কথা উল্লেখ রয়েছে, যাদের নিকট হতে আদর্শ এবং শিক্ষা গ্রহণ করা যায়। ঐশী ও কুরআনের দৃষ্টিকোণ থেকে দুইটি প্রধান অক্ষ ও স্তম্ভ হল পরিবারের গুরুত্ব এবং পিতা-মাতার ভূমিকা।
পবিত্র কুরআনে যে চার প্রকার পরিবারের কথা বলা হয়েছে তার মধ্যে সর্বোত্তম পরিবারের অন্তর্ভুক্ত যা আমিরুল মু’মিনীর আলী ইবনে আবি তালিব (আ.) এবং হযরত যাহরা (সা. আ.)-এর পবিত্র অস্তিত্বের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়েছে। এই দুই সম্ভ্রান্ত মহামানব ও মহামানবী একই চিন্তার অধিকারী, দানশীল, সর্বোত্তম স্তরের মঙ্গল, কল্যাণ ও পূতপবিত্রতার  অধিকারী। 
 
এই দৃষ্টান্তমূলক বিবাহের ফল তাদের জান্নাতী গৃহে মানবতার ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ সন্তান ইমাম হাসান (আ.) ও ইমাম হুসাইন (আ.)-এর জন্ম হয়েছে। 
 
আরেকটি প্রকারের পরিবার, যা কুরআন এই ধরণের পরিবার থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেত বলেছে। পবিত্র কুরআনের বর্ণিত দ্বিতীয় প্রকার পরিবার সম্পূর্ণরূপে প্রথম প্রকারের বিপরীত। এই পরিবারের পুরুষ এবং মহিলা উভয়ই বিদ্বেষের শীর্ষে এবং ভুল পথে রয়েছে এবং তারা সমচিন্তার অধিকারী। এর দৃষ্টান্তমূলক উদাহরণ হল আবু লাহাব এবং তার স্ত্রী। পবিত্র কুরআন যাদেরকে নিষ্ঠুর এবং পাপাচারী হিসাবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছে এবং তাদের অন্যায় ও অত্যাচারের জন্য তাদের উদ্দেশ্য করে পবিত্র কুরআনের একটি সূরা নাযিল হয়েছে এবং সর্বশক্তিমান আল্লাহ তাদেরকে চিরতরে  অভিশম্পত করেছেন।
 
পবিত্র কুরআনে তৃতীয় প্রকার যে পরিবারের কথা বলা হয়েছে, যেই পরিবারের পুরুষ ভাল, কিন্তু নারী খারাপ। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে হযরত লুতের (আ.) স্ত্রী এবং হযরত নূহের স্ত্রীকে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। হযরত লুত (আ.) এর স্ত্রী এবং হযরত নূহ (আ.) এর স্ত্রীর মধ্যে নৈতিক দুর্নীতি ছিল না, তবে তাদের মতামতের কলুষতা ছিল এবং নবীর মতের বিপরীত ছিল।
 
পবিত্র কুরআনে তৃতীয় প্রকার যে পরিবারের কথা বলা হয়েছে, যেই পরিবারের পুরুষ খারাপ, কিন্তু নারী ভাল। এ প্রসঙ্গে পবিত্র কুরআনে ফেরাউন এবং তার স্ত্রীকে পরিচয় দেওয়া হয়েছে।
 
ফেরাউন যেই বাড়িতে অত্যাচার ও অপরাধমূলক কর্ম করতো এবং নিজেকে খোদা বলে দাবী করতো, ঠিক সেই বাড়িতেই তার স্ত্রী মহান আল্লাহর উপর ঈমান এনে তা আঁকড়ে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন।
 
পবিত্র কুরআনে এই চার ধরনের পরিবারকে একটি মডেল ও শিক্ষা হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। ঐশী ও কুরআনের দৃষ্টিকোণ থেকে দুইটি প্রধান অক্ষ ও স্তম্ভ হল পরিবারের গুরুত্ব এবং পিতা-মাতার ভূমিকা।
 
এই নমুনাগুলি ছাড়াও, কুরানের আয়াতে বারবার যে উপদেশ ব্যক্ত করা হয়েছে তা হল মা ও পিতার ভূমিকা ও মর্যাদা সম্পর্কে। পবিত্র কুরআনে নামাজ পড়ার উপদেশ দেওয়ার পর, মু’মিন বান্দাদেরকে তাদের পিতামাতার প্রতি দয়া ও সদাচরণ কারার নির্দেশ দেয়। 
 
* ইরানের পূর্বাঞ্চলীয় শহর কাশমারের জুমার ইমাম সাইয়্যেদ কাজেম তাবাতাবাইয়ের বক্তৃতা থেকে সংগৃহীত

 

সংশ্লিষ্ট খবর
নাম:
ই-মেল:
* আপনার মন্তব্য:
* :