IQNA

কুরআনের দৃষ্টিতে ইস্তিগফার (৭ম পর্ব)

জান্নাতীদের দুনিয়াবী অভ্যাস হলো ইস্তিগফার

16:30 - December 27, 2025
সংবাদ: 3478682
ইকনা- পবিত্র কুরআনের আয়াতসমূহে ইস্তিগফারকে জান্নাতে প্রবেশের অন্যতম শর্ত এবং জান্নাতীদের দুনিয়াবী অভ্যাস হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূরা আলে ইমরানে মাগফিরাত ও অসীম জান্নাতের দিকে দ্রুত অগ্রসর হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে (আলে ইমরান: ১৩৩)। কিছু আমলের উল্লেখের পর বলা হয়েছে: أُوْلَئِكَ جَزَآؤُهُم مَّغْفِرَةٌ مِّن رَّبِّهِمْ وَ جَنَّاتٌ تَجْرِي مِن تَحْتِهَا الأَنْهَارُ خَالِدِينَ فِيهَا وَ نِعْمَ أَجْرُ الْعَامِلِينَ؛  «তাদের প্রতিদান তাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে ক্ষমা এবং এমন জান্নাত, যার পাদদেশে নহরসমূহ প্রবাহিত; তারা তাতে চিরকাল থাকবে। কর্মশীলদের জন্য কত উত্তম প্রতিদান!» (আলে ইমরান: ১৩৬)। অর্থাৎ জান্নাতের দিকে অগ্রগামীদের শর্তসমূহের মধ্যে ইস্তিগফারের উল্লেখ রয়েছে।

একই সূরার শুরুর দিকে উল্টো ক্রমে প্রথমে মুত্তাকীদের জান্নাতের প্রতিদান বর্ণনা করা হয়েছে, তারপর তাদের দুনিয়াবী অবস্থা বর্ণনায় বলা হয়েছে: «الَّذِينَ يَقُولُونَ رَبَّنَا إِنَّنَا آمَنَّا فَاغْفِرْ لَنَا ذُنُوبَنَا وَ قِنَا عَذَابَ النَّارِ * الصَّابِرِينَ وَ الصَّادِقِينَ وَ الْقَانِتِينَ وَ الْمُنْفِقِينَ وَ الْمُسْتَغْفِرِينَ بِالْأَسْحَار»  «যারা বলে, হে আমাদের প্রতিপালক! আমরা ঈমান এনেছি, অতএব আমাদের গুনাহসমূহ ক্ষমা কর এবং আমাদেরকে জাহান্নামের আযাব থেকে রক্ষা কর। ধৈর্যশীল, সত্যবাদী, অনুগত, দানশীল এবং সুবহে সাদিকের সময় ইস্তিগফারকারীগণ» (আলে ইমরান: ১৭)।

সূরা যারিয়াতে মুত্তাকীদের জান্নাতে বাগান ও ঝরনাসমূহে অবস্থান এবং প্রতিপালকের দেওয়া উপহার গ্রহণের কথা উল্লেখ করে বলা হয়েছে: «إنَّ الْمُتَّقِينَ فِي جَنَّاتٍ وَ عُيُونٍ * آخِذِينَ مَا آتَاهُمْ رَبُّهُمْ إِنَّهُمْ كَانُوا قَبْلَ ذَلِكَ مُحْسِنِينَ»«নিশ্চয় মুত্তাকীরা বাগ-বাগিচা ও ঝরনাসমূহে থাকবে। তারা তাদের প্রতিপালক যা দিয়েছেন তা গ্রহণ করবে। নিশ্চয় তারা এর আগে সৎকর্মশীল ছিল» (যারিয়াত: ১৫-১৬)। আয়াতটি «গ্রহণকারী» দিয়ে শুরু হয়ে «সৎকর্মশীল» দিয়ে শেষ হয়েছে; অর্থাৎ জান্নাতে উত্তম প্রতিদান গ্রহণ দুনিয়ায় অন্যদের প্রতি ইহসান ও সৎকর্মের ফল।

পরবর্তী আয়াতে দুটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করা হয়েছে: «كَانُوا قَلِيلًا مِنَ اللَّيْلِ مَا يَهْجَعُونَ * وَ بِالْأَسْحَارِ هُمْ يَسْتَغْفِرُونَ»  «তারা রাতের অল্প সময়ই ঘুমাত এবং সুবহে সাদিকে তারা ইস্তিগফার করত» (যারিয়াত: ১৭-১৮)। মুদারে ক্রিয়াপদ ধারাবাহিকতা ও স্থায়িত্বের ইঙ্গিত দেয়; এ আয়াত থেকে বোঝা যায় যে, রাতে ইবাদত এবং সাহরিতে ইস্তিগফার তাদের স্থায়ী অভ্যাস ছিল। এছাড়া সাহরি জাগরণে সব যিকিরের মধ্যে ইস্তিগফারের বিশেষ মর্যাদা রয়েছে এবং এটিকে ইবাদতের চূড়ান্ত পর্যায় হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।

ট্যাগ্সসমূহ: সূরা ، আয়াত ، জান্নাত ، সাদিক ، ইবাদত
captcha