IQNA

আব্দুল বাসিতের ছেলের প্রশংসা: মিসরে কারিদের মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠা একটি মহান পদক্ষেপ

5:58 - January 08, 2026
সংবাদ: 3478753
ইকনা- মিসরের বিখ্যাত কারি উস্তাদ আব্দুল বাসিত আব্দুস সামাদের ছেলে শেখ তারেক আব্দুল বাসিত মিসরে কারিদের মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠার প্রশংসা করে বলেছেন: এই মিউজিয়াম আল্লাহর কিতাবকে তাদের কণ্ঠ দিয়ে সংরক্ষণকারী কারিদের প্রতি একটি আধ্যাত্মিক সম্মান প্রদর্শন।

আদ-দুস্তুর পত্রিকার বরাত দিয়ে ইকনা জানায়, শেখ তারেক আব্দুল বাসিত বলেন: মিসর সরকারের ওয়াকফ ও সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যৌথ উদ্যোগে কারিদের মিউজিয়াম প্রতিষ্ঠা একটি ইতিবাচক ও গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এটি কুরআনের লোকদের প্রতি প্রকৃত সম্মান ও তাদের জীবনী সংরক্ষণের প্রতিফলন।

তিনি আরও বলেন: বিখ্যাত কারিদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সংগ্রহ করে একটি বিশেষ মিউজিয়ামে প্রদর্শন করা তাদের প্রতি আধ্যাত্মিক শ্রদ্ধা প্রকাশ। এটা স্বাভাবিক যে, তাদের জীবনী ও স্মৃতিচিহ্ন যথাযথ মর্যাদার সাথে সংরক্ষণ করা হবে।

শেখ তারেক বলেন: সরকার, বিশেষ করে রাষ্ট্রপতি, সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সবাই এই মহান প্রকল্পের জন্য যোগ্য প্রশংসার দাবিদার। এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রকল্প, যা দেশের ভেতরে ও বাইরে সাধারণ মানুষকে বিখ্যাত কারিদের জীবনী ও ইতিহাসের সাথে পরিচিত করবে।

তিনি পরিবারগুলোর কাছ থেকে কারিদের ব্যক্তিগত জিনিসপত্র দানের বিষয়ে বলেন: এই জিনিসগুলোর আধ্যাত্মিক মূল্য এত বেশি যে, পরিবারগুলোর জন্য এগুলো ছেড়ে দেওয়া সহজ ছিল না। একটি দায়িত্বশীল প্রতিষ্ঠানের অস্তিত্ব এবং নিরাপদ ও সম্মানজনক স্থানে এগুলো সংরক্ষণ ও প্রদর্শনের নিশ্চয়তা তাদের এই সিদ্ধান্ত নিতে উৎসাহিত করেছে।

শেখ তারেক বলেন: এই জিনিসগুলো বহু বছর ধরে পরিবারের সদস্য ও ভক্তদের কাছে স্মৃতিচিহ্ন হিসেবে ছিল। কেউ ছবি, কেউ রেকর্ডিং যন্ত্র বা ব্যক্তিগত জিনিস রেখেছিলেন। কিন্তু এগুলো একটি আনুষ্ঠানিক মিউজিয়ামে প্রদর্শন করা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষণ নিশ্চিত করবে এবং মানুষকে এই কারিদের জীবনের ইতিহাসের সাথে পরিচিত করবে।

দারুল কুরআন ও কারিদের মিউজিয়াম পরিদর্শনের সময় তার অনুভূতি বর্ণনা করে শেখ তারেক বলেন: এই সফর অত্যন্ত আনন্দদায়ক ছিল। এই স্থানে এমন এক অনুভূতি জাগে যা শব্দে বর্ণনা করা যায় না।

তিনি বলেন: দারুল কুরআনে প্রবেশ করতেই চারদিকে দেয়ালে খোদাই করা কুরআনের আয়াত দেখে মনে হলো যেন আমি জান্নাতের বাগানে ঢুকেছি। আমি বিস্ময়, খুশু ও একই সাথে শান্তি ও আনন্দে ডুবে গিয়েছিলাম। এটি একটি মহান ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ভবন—প্রত্যেক মুসলিম এতে গর্ববোধ করতে পারে।

আব্দুল বাসিতের ছেলে বলেন: আমি সবসময় এমন একটি স্থানের আকাঙ্ক্ষায় ছিলাম যেখানে এই ঐতিহ্য সংরক্ষিত হবে। কিন্তু কখনো ভাবিনি এটি এত সুন্দর ও অত্যন্ত মার্জিত নকশায় বাস্তবায়িত হবে। আমি যা দেখেছি তা বিশ্বের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় স্থাপনার সাথে তুলনীয় এবং এটি একটি স্পষ্ট বার্তা যে, মিসর চিরকালই মহান কারি ও কুরআন হাফিজদের আবাসস্থল হিসেবে থাকবে।

মিসরের প্রথম কারিদের মিউজিয়াম কিছুদিন আগে ওয়াকফ মন্ত্রী উসামা আল-আযহারি ও সংস্কৃতি মন্ত্রী আহমেদ ফুয়াদ হেনুর উপস্থিতিতে উদ্বোধন করা হয়। দুই মন্ত্রী মিউজিয়ামের বিভিন্ন অংশ পরিদর্শন করেন।

এই মিউজিয়ামে মিসরের ১১ জন শীর্ষস্থানীয় কারির ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সংরক্ষিত রয়েছে—যেমন মোহাম্মদ রিফাত, আব্দুল ফাত্তাহ শাশাঈ, তাহা আল-ফাশনি, মুস্তফা ইসমাইল, মাহমুদ খলিল আল-হুসারি, মোহাম্মদ সিদ্দিক মিনশাভি, আবুল আইনাইন শুয়াইশা, মাহমুদ আলী আল-বান্না, উস্তাদ আব্দুল বাসিত আব্দুস সামাদ, মোহাম্মদ মাহমুদ তাবলাভি ও আহমেদ আর-রাজিফি। এই কারিদের পরিবারের সদস্যরাও মিউজিয়াম পরিদর্শনের সময় উপস্থিত ছিলেন। 4327380#

captcha