
ইকনা- বরকত ও কল্যাণে পরিপূর্ণ মাহে শাবান হলো আহলে বাইত (আ.)–এর আনন্দ ও উৎসবের মাস। এই মাসে রোজা, ইস্তেগফার, সদকা ও জিকিরের মাধ্যমে আল্লাহর বিশেষ রহমত ও ফজিলত অর্জনের সুযোগ রয়েছে।
মাহে শাবানে প্রতিদিন ৭০ বার করে দুইটি ইস্তেগফার পাঠ করার কথা হাদিসে উল্লেখ রয়েছে—
· “أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ وَ أَسْأَلُهُ التَّوْبَةَ”
· “أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ الَّذِی لا إِلهَ إِلَّا هُوَ الرَّحْمنُ الرَّحِیمُ الْحَیُّ الْقَیُّومُ وَ أَتُوبُ إِلَیْهِ”
রেওয়ায়েতে বলা হয়েছে, এই মাসে প্রতিদিন ৭০ বার ইস্তেগফার করা অন্য মাসে ৭০ হাজার বার ইস্তেগফারের সমান সওয়াবের অধিকারী।
মাহে শাবানে সদকা দেওয়ার ব্যাপারে বিশেষ তাগিদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি অর্ধেক একটি খেজুর দান করলেও আল্লাহ তাআলা দানকারীর শরীরকে জাহান্নামের আগুন থেকে নিরাপদ রাখবেন।
এ মাসে মোট এক হাজার বার এই জিকির পাঠ করার ফজিলত বর্ণিত হয়েছে—
“لا إلهَ إلا اللهُ ولا نعبدُ إلا إياهُ مخلصين له الدين ولو كره المشركون”
এর সওয়াব হিসেবে এক হাজার বছরের ইবাদত আমলনামায় লেখা হয়।
প্রতি বৃহস্পতিবার দুই রাকাত নামাজ আদায় করার সুপারিশ করা হয়েছে। প্রত্যেক রাকাতে সূরা ফাতিহার পর ১০০ বার সূরা ইখলাস পড়তে হবে এবং নামাজ শেষে ১০০ বার দরূদ পাঠ করতে হবে। এতে দুনিয়া ও আখিরাতের সকল বৈধ প্রয়োজন পূরণ হয়। এ মাসের প্রতি বৃহস্পতিবার রোজা রাখাও অত্যন্ত ফজিলতপূর্ণ।
হাদিসে এসেছে, শাবান মাসের প্রতি সোমবার ও বৃহস্পতিবার রোজা রাখলে আল্লাহ তাআলা বান্দার ২০টি দুনিয়াবি ও ২০টি আখিরাতের প্রয়োজন পূরণ করেন। ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বলেছেন, কেউ যদি এই মাসে তিন দিন রোজা রাখে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যায় এবং কিয়ামতের দিন রাসুলুল্লাহ (সা.) তার শাফায়াত করবেন।
ইমাম সাজ্জাদ (আ.) থেকে বর্ণিত সালাওয়াত শাবানিয়া প্রতিদিন জোহরের সময় এবং ১৫ই শাবানের রাতে পাঠ করার সুপারিশ করা হয়েছে। এই সালাওয়াতে নবুয়তের বৃক্ষ, রিসালাতের কেন্দ্র ও আহলে বাইতের মর্যাদা বিশেষভাবে উল্লেখ রয়েছে।
মুনাজাতে শাবানিয়া হলো আহলে বাইতের অন্যতম উচ্চ মর্যাদাসম্পন্ন দোয়া। এই মুনাজাতের গভীর অর্থ ও আত্মিক শিক্ষা শাবান মাসকে ইবাদতকারীদের কাছে বিশেষভাবে প্রিয় করে তুলেছে। শুধু শাবান মাস নয়, সারা বছরেও এর কিছু অংশ পড়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ইমাম জাফর সাদিক (আ.) বলেছেন, শবে কদরের পর ১৫ই শাবানের রাতই সর্বশ্রেষ্ঠ। এ রাতে এশার নামাজের পর দুই রাকাত নামাজ আদায় করা মুস্তাহাব।
এই রাত অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ কারণ, এ রাতেই সেহরির সময় ইমাম মাহদী (আ.)–এর পবিত্র জন্ম হয়। বহু রেওয়ায়েতে ১৫ই শাবানকে রিজিক ও আয়ু নির্ধারণের রাত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
১৫ই শাবানের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আমলের মধ্যে রয়েছে: গোসল করা, সারারাত ইবাদত করা, দোয়া কুমাইল পাঠ, ইমাম হুসাইন (আ.)–এর জিয়ারত এবং বিশেষ নামাজ আদায় করা।
মাহে শাবান আত্মশুদ্ধি, আল্লাহর নৈকট্য লাভ এবং রমজানের প্রস্তুতির এক সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে মুসলিম উম্মাহর কাছে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।