IQNA

কুরআন কারীমে ইস্তিগফার– ৮

ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহর রহমত লাভ

6:07 - January 08, 2026
সংবাদ: 3478756
ইকনা- ইস্তিগফারের প্রভাব শুধু গুনাহ ক্ষমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং এটি মানুষের নিকট আল্লাহর কল্যাণ ও রহমত পৌঁছাতে যেসব বাধা সৃষ্টি হয়, সেগুলোও দূর করে দেয়।

ইস্তিগফারের অন্যতম একটি প্রভাব হলো—আল্লাহর রহমতকে আকর্ষণ করা। হযরত সালেহ (আলাইহিস সালাম) তার জাতিকে আল্লাহর শাস্তি সম্পর্কে সতর্ক করতেন; কিন্তু তারা বলত—তুমি যে শাস্তির কথা বলছো, তা আমাদের ওপর দ্রুত নিয়ে এস। তখন তিনি জবাব দেন—

«قَالَ يَا قَوْمِ لِمَ تَسْتَعْجِلُونَ بِالسَّيِّئَةِ قَبْلَ الْحَسَنَةِ لَوْلَا تَسْتَغْفِرُونَ اللَّهَ لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ» (نمل: ۴۶)

অর্থাৎ:
হে আমার কওম! তোমরা কল্যাণের পূর্বে অকল্যাণের জন্য কেন তাড়াহুড়া করছো? কেন তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইছো না—যাতে তোমাদের প্রতি রহম করা হয়?

কুরআনের আয়াতসমূহে আমলের ফলাফল বোঝার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হলো—আয়াতের সূচনা ও সমাপ্তির প্রতি গভীর দৃষ্টি দেওয়া। বহু আয়াতে দেখা যায়, যেখানে আয়াতের শুরুতে ইস্তিগফারের কথা এসেছে, সেখানকার শেষে আল্লাহর ক্ষমার সঙ্গে তাঁর রহমতের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে:

«وَ اسْتَغْفِرُوا اللَّهَ إِنَّ اللَّهَ غَفُورٌ رَحِيمٌ» (بقره: 199)
«وَ اسْتَغْفِرِ اللّهَ إِنَّ اللّهَ كَانَ غَفُورًا رَّحِيمًا» (نساء: 106)

অর্থাৎ:
তোমরা আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাও; নিশ্চয়ই আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।

এখন প্রশ্ন হলো—ইস্তিগফারের সঙ্গে আল্লাহর রহমতের সম্পর্ক কী?

এর কারণ হলো—গুনাহ মানুষের ও আল্লাহর রহমতের মাঝে এক পর্দা সৃষ্টি করে। যখন সেই পর্দা বা প্রতিবন্ধকতা দূর হয়ে যায়, তখন আল্লাহর রহমত মানুষের নিকট পৌঁছে যায়।

বিষয়টি বোঝার জন্য এমনভাবে কল্পনা করা যেতে পারে—যেন আল্লাহর রহমত ও রিযিক বান্দার দিকে প্রবাহিত হওয়ার একটি সুড়ঙ্গপথ রয়েছে। গুনাহ ও অবাধ্যতা সেই পথ বন্ধ করে দেয়। ফলে ইস্তিগফার শুধু গুনাহ মাফ করাই নয়, বরং কল্যাণ ও রহমত পৌঁছানোর পথে যে বাধাগুলো সৃষ্টি হয়, সেগুলোকেও সরিয়ে দেয়।

আমীরুল মুমিনীন হযরত আলী (আলাইহিস সালাম) দোয়া কুমাইলে বলেন—

«اَللّهُمَّ اغْفِرْ لِيَ الذُّنُوبَ الَّتِي تُغَيِّرُ النِّعَمَ»
হে আল্লাহ! সেই গুনাহগুলো আমাকে ক্ষমা করুন, যা নেয়ামতকে পরিবর্তন করে দেয়।

কুরআনের কিছু আয়াতে বলা হয়েছে—ইস্তিগফারের পর মানুষ আল্লাহর বিশেষ রহমত উপলব্ধি করে:

«وَ مَن يَعْمَلْ سُوءًا أَوْ يَظْلِمْ نَفْسَهُ ثُمَّ يَسْتَغْفِرِ اللّهَ يَجِدِ اللّهَ غَفُورًا رَّحِيمًا» (نساء: 110)

অর্থাৎ:
যে ব্যক্তি কোনো মন্দ কাজ করে অথবা নিজের প্রতি জুলুম করে, অতঃপর আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করে—সে অবশ্যই আল্লাহকে ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু পাবে।

আরেক আয়াতে বলা হয়েছে—মানুষের ইস্তিগফারের সঙ্গে রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া আলিহি)-এর ইস্তিগফার যুক্ত হলে আল্লাহর বিশেষ দয়া নাযিল হয়:

«فَاسْتَغْفَرُواْ اللّهَ وَ اسْتَغْفَرَ لَهُمُ الرَّسُولُ لَوَجَدُواْ اللّهَ تَوَّابًا رَّحِيمًا» (نساء: 64)

অর্থাৎ:
তারা যদি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাইত এবং রাসূল তাদের জন্য ক্ষমা চাইতেন, তবে অবশ্যই তারা আল্লাহকে তাওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু পেত।

captcha