কিয়োডো নিউজের বরাত দিয়ে ইকনা জানায়, জাপানে বিদেশি পর্যটকদের সংখ্যা গত বছর রেকর্ড ছাড়িয়েছে। এর মধ্যে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশ থেকে আগত পর্যটকরা খাবার, পপ কালচার ও ঋতুনির্ভর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আকর্ষণে জাপানে আসছেন।
জাপান ন্যাশনাল ট্যুরিজম অর্গানাইজেশনের তথ্য অনুসারে, গত বছরের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রায় ৫ লাখ ৬০ হাজার, মালয়েশিয়া থেকে ৫ লাখ ৪০ হাজার এবং মধ্যপ্রাচ্য থেকে ২ লাখ ৪০ হাজার পর্যটক জাপানে এসেছেন। কিন্তু অনেকের জন্য দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা কঠিন হয়ে পড়ছে, কারণ দেশে নামাজের জন্য নির্দিষ্ট সুবিধা অসমানভাবে বিতরণ করা।
জাপান ট্যুরিজম এজেন্সি মুসলিম পর্যটকদের সেবার জন্য একটি গাইডলাইন প্রকাশ করেছে। এতে হোটেল, পরিবহন কেন্দ্র ও শপিং মলগুলোকে নামাজের জন্য শান্ত ও পরিষ্কার স্থান নির্ধারণ করতে উৎসাহিত করা হয়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বড় মসজিদ নির্মাণের চেয়ে নমনীয়তা বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যেসব স্থানে নির্দিষ্ট কক্ষ তৈরি করা সম্ভব নয়, সেখানে অস্থায়ী পার্টিশন, স্পষ্ট সাইনবোর্ড বা কর্মীদের সচেতনতা বাড়ানোই যথেষ্ট। এতে জাপানের অতিথিপরায়ণতার ইমেজ আরও উন্নত হবে।
গত বছর ওসাকায় অনুষ্ঠিত ওয়ার্ল্ড এক্সপোতে মুসলিম দর্শনার্থী ও কর্মীদের জন্য একটি নামাজখানা স্থাপন করা হয়েছিল, যা প্রশান্ত বনাঞ্চলের কাছে অবস্থিত ছিল।
বড় বিমানবন্দর ও শহরগুলোতে নামাজের সুবিধা বাড়ছে। উদাহরণস্বরূপ, টোকিওর হানেদা বিমানবন্দর ২০১৪ সালে টার্মিনাল ৩-এ (আন্তর্জাতিক ফ্লাইটের জন্য) একটি নামাজখানা চালু করে। অপারেটরের তথ্য অনুসারে, ২০২৪ অর্থবছরে প্রতি মাসে গড়ে প্রায় ২ হাজার জন এটি ব্যবহার করেছেন।
টোকিও ও ওসাকার জেআর স্টেশনগুলোতেও নামাজখানা স্থাপন করা হয়েছে। কিয়োটো ও নারার মতো পর্যটন স্থানে স্থানীয় সরকার ও কোম্পানিগুলো স্টেশনের আশপাশে সুবিধা তৈরি করেছে।
তবে স্থান সীমাবদ্ধতা ও কম চাহিদার কারণে শিকোকু ও কিউশু অঞ্চলের স্টেশনগুলোতে নামাজের সুবিধা খুবই কম।
ওয়াসেদা বিশ্ববিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যাপক হিরোফুমি তানাদা, যিনি জাপানের মুসলিম বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, বলেন, নামাজের সংখ্যা ও সময় ভ্রমণকারীদের মধ্যে ভিন্ন হতে পারে। তিনি নমনীয় দৃষ্টিভঙ্গির পরামর্শ দেন, এমনকি সুবিধা কম থাকলেও।
রিকিয়ো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক আকিকো কুমুরা বলেন, স্থানীয় মুসলিমদের সম্পৃক্ত করা গুরুত্বপূর্ণ। তাদের সাথে মিলে সহজলভ্য স্থান চিহ্নিত করতে হবে। এটি মুসলিমদের জাপানে যে চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে হয় তা বোঝার সুযোগও তৈরি করবে।
https://iqna.ir/fa/news/4330232