আরব আমেরিকান নিউজের বরাত দিয়ে ইকনা জানায়, মিশিগান রাজ্য সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে জানুয়ারিকে আমেরিকান মুসলিমদের ঐতিহ্য মাস হিসেবে ঘোষণা করেছে। এই ঘোষণার উদ্দেশ্য রাজ্যের মুসলিম সম্প্রদায়ের বৈচিত্র্যময় অবদান ও সেবাকে সম্মান জানানো।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মিশিগানে প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মুসলিম বাস করেন, যাদের অধিকাংশ দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহরগুলোতে—বিশেষ করে ডিয়ারবর্ন, হ্যামট্রামক ও ওয়ারেনে—কেন্দ্রীভূত।
জানুয়ারি মাসজুড়ে রাজ্যে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক, শিক্ষামূলক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এসব কর্মসূচিতে ইসলামের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও স্থানীয় মুসলিম সম্প্রদায়ের সাথে পরিচিত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।
এই ঘোষণা আমেরিকান মুসলিমদের অবদানকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং রাজ্যে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য প্রচারের লক্ষ্যে নেওয়া হয়েছে। রাজ্য কর্তৃপক্ষ বাসিন্দাদের উৎসাহিত করেছে যেন তারা মিশিগানের ৫০টিরও বেশি মসজিদ পরিদর্শন করেন—বিশেষ করে ডিয়ারবর্নে অবস্থিত আমেরিকান ইসলামিক সেন্টার, যা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় মসজিদ এবং ১৯৪৯ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
আমেরিকান ইসলামিক সেন্টারের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, এটি একটি উন্মুক্ত ও নিরাপদ সামাজিক কেন্দ্র যেখানে ধর্মীয় সেবার পাশাপাশি শিক্ষামূলক, সাংস্কৃতিক ও সংলাপমূলক কর্মসূচি চালানো হয়। প্রতি বছর এখানে বিভিন্ন ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক পটভূমির লাখ লাখ দর্শনার্থী আসেন।
মিশিগান রাজ্যের আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই ঘোষণা আমেরিকান মুসলিমদের বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ব্যবসা, সংস্কৃতি ও খেলাধুলাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে অসাধারণ অবদানকে তুলে ধরবে। বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, মুসলিমরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা, উন্নয়ন ও সমৃদ্ধিতে কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করেছেন এবং তাদের অবদান আজও অব্যাহত রয়েছে।
পিউ রিসার্চ সেন্টারের তথ্য অনুসারে, আমেরিকান মুসলিমরা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ছোট এবং জাতিগতভাবে সবচেয়ে বৈচিত্র্যময় ধর্মীয় গোষ্ঠী। ইসলাম একটি ক্রমবর্ধমান সংখ্যালঘু ধর্ম যা দেশের মোট জনসংখ্যার ১% এর কিছু বেশি।
“ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউ”র তথ্য অনুসারে, মিশিগানে মুসলিম জনসংখ্যা ২ লাখ ৪১ হাজারেরও বেশি। আমেরিকান মুসলিমরা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১.১% বা ৩৪ লাখ ৫০ হাজার। তারা আফ্রিকান-আমেরিকান, শ্বেতাঙ্গ, আরব-আমেরিকান, মধ্যপ্রাচ্যের অভিবাসী, লাতিন আমেরিকান, এশিয়ান-আমেরিকানসহ বিভিন্ন জাতিগত ও সাংস্কৃতিক পটভূমি থেকে এসেছেন এবং অনেকেই যুক্তরাষ্ট্রে জন্মগ্রহণ করেছেন।
https://iqna.ir/fa/news/4330165